উচ্চবর্ণের এক কিশোরীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের জেরে উত্তরাখণ্ডের তেহরি-গাড়োয়াল জেলায় ১৮ বছর বয়সি এক দলিত যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছেন নিহতের এক বন্ধু। ইতিমধ্যে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং এক সন্দেহভাজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
মৃত যুবকের নাম কেতন লাল। তিনি তেহরি-গাড়োয়াল জেলার দেওয়াল গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। আহত বন্ধু দিবাকর দিমরিকে চিকিৎসার জন্য বৌরাড়ি জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, খোলগড় গ্রামের এক কিশোরীর সঙ্গে কেতন লালের পরিচয় থেকে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। তাঁদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল এবং সময়ের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর হয় বলে জানা যায়। সম্প্রতি এই সম্পর্কের বিষয়টি কিশোরীর পরিবারের সদস্যদের নজরে আসে।
নিহতের বাবা ধনপাল লালের অভিযোগ, রবিবার গভীর রাতে কেতনকে ফোন করে খোলগড় গ্রামে আসতে বলা হয়। এরপর কেতন তাঁর বন্ধু দিবাকরকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে যান। অভিযোগ, গ্রামে পৌঁছানোর পর তাঁদের একটি ঘরে আটকে রেখে বেধড়ক মারধর করা হয়।
পরদিন সকালে কিশোরীর পরিবারের পক্ষ থেকে কেতনের বাবাকে ফোন করে তাঁর ছেলের শারীরিক অবস্থার অবনতির কথা জানানো হয়। খবর পেয়েই তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছে কেতন ও দিবাকরকে গুরুতর আহত অবস্থায় দেখতে পান। দ্রুত তাঁদের স্থানীয় একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা কেতনকে মৃত ঘোষণা করেন। দিবাকরের অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরে তাঁকে জেলা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। নিহতের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার এবং কঠোর শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভে সামিল হন। প্রশাসনের কাছ থেকে স্পষ্ট আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত তাঁরা প্রথমে মৃতদেহ গ্রহণ করতেও অনীহা প্রকাশ করেন বলে জানা গেছে।
তেহরি-গাড়োয়ালের সিনিয়র পুলিশ সুপার শ্বেতা চৌবে জানিয়েছেন, ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে হত্যা মামলা রুজু করা হয়েছে। পাশাপাশি তফসিলি জাতি ও উপজাতি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইনের সংশ্লিষ্ট ধারাতেও মামলা দায়ের হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে যশবীর সিং পাঁওয়ার নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
পুলিশের দাবি, ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কারা এই হামলার সঙ্গে জড়িত এবং হত্যার পেছনে প্রকৃত কারণ কী ছিল, তা জানতে তদন্তকারীরা সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করছেন। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.