হাসপাতালে তিন বার আত্মহত্যার চেষ্টা দেবলীনার, খোঁজ নেয়নি বর-শাশুড়ি!

গত কয়েক দিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে প্রবল আলোচনার কেন্দ্রে দেবলীনা নন্দী। লাইভে এসে নিজের দাম্পত্য জীবনের যন্ত্রণা প্রকাশ করার পর আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি। এই ঘটনা সমাজকে নাড়িয়ে দিয়েছে গভীরভাবে। দেবলীনার এই অবস্থার নেপথ্যে বারবার উঠে এসেছে তাঁর স্বামী, পেশায় বিমানচালক প্রবাহ নন্দী এবং তাঁর পরিবারের নাম। এবার এই বিতর্কের মধ্যেই মুখ খুললেন দেবলীনার মা ও দিদি।

মঙ্গলবার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি লাইভে দেবলীনার দিদি সরাসরি অভিযোগ করেন, তাঁর বোন দীর্ঘদিন ধরে মানসিক নির্যাতনের শিকার। তিনি জানান, এক সময় দেবলীনা নিয়মিত চন্দননগরে যেতেন, কিন্তু পরে তাঁর শ্বশুরমশাই তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। ঘটনার দিন, আত্মহত্যার চেষ্টার মাত্র দশ মিনিট আগেও দেবলীনার সঙ্গে প্রবাহর তীব্র মনোমালিন্য হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

লাইভে দেবলীনার দিদির বক্তব্য অনুযায়ী, প্রবাহ নাকি দেবলীনার উদ্দেশে বলেন, “তোমার মা তো তোমার পিছু ছাড়বে না, তাহলে আমি কী করব?” তখন দেবলীনা বলেছিলেন, তিনি মাকে আর প্রোগ্রামে নিয়ে যাবেন না এবং প্রবাহকে সঙ্গে যেতে অনুরোধ করেন। কিন্তু সেই কথার কোনও জবাব দেননি প্রবাহ। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটে যায় ভয়াবহ ঘটনা।

দেবলীনার বর্তমান মানসিক অবস্থার কথাও তুলে ধরেন তাঁর দিদি। জানান, এখনও তিনি গভীর ট্রমার মধ্যে রয়েছেন। দেবলীনা বারবার বলছেন, “ও এখনও এল না, একবারও ফোন বা মেসেজ করল না।” পরিবারের দাবি, প্রবাহ খাবার অর্ডার করে খাচ্ছেন, কিন্তু হাসপাতালে ভর্তি থাকা স্ত্রীকে একবারও খোঁজ নেননি। এমনকি হাসপাতালে থাকাকালীন দেবলীনা তিনবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলেও দাবি করা হয়।

এই ঘটনার মাঝেই সোশ্যাল মিডিয়ায় একাংশের দাবি, প্রবাহের চাকরি ও টাকার লোভেই দেবলীনা তাঁকে বিয়ে করেছিলেন। এই অভিযোগে কড়া প্রতিবাদ করেন দেবলীনার দিদি। তিনি জানান, প্রবাহ নন্দীর ইনারওয়্যার থেকে শুরু করে বাড়ির বেশিরভাগ খরচই দেবলীনা বহন করতেন। প্রবাহ যা মাইনে পেতেন, তার দ্বিগুণ টাকা প্রতি মাসে তাঁর পেছনে খরচ করতেন দেবলীনা। তাই টাকার জন্য এই বিয়ে—এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে জানান তিনি।

তবুও সমস্ত অপমান ও কষ্টের পরেও দেবলীনর ভালোবাসা এখনও প্রবাহর প্রতিই অটুট। দেবলীনা নাকি জানিয়েছেন, প্রবাহ যদি এসে তাঁর খোঁজ নেন বা তাঁকে ফিরতে বলেন, তিনি আবারও ফিরে যাবেন। দেবলীনার দিদি বলেন, গত দুই মাস ধরে প্রবাহ কোনও ফোন করেননি। পুজোর সময় ঠাকুর দেখতে ডাকলে দেবলীনা সব ভুলে ছুটে গিয়েছিলেন। এমনকি প্রবাহর বাবা-মা রেজিস্ট্রি বিয়েতেও রাজি হননি, কারণ তাঁদের আশঙ্কা ছিল সম্পত্তি বা ইনসিওরেন্স সংক্রান্ত দাবি।

অন্যদিকে, দেবলীনার মা আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, তিনি জামাই নয়, ছেলের মতো কাউকে চেয়েছিলেন। প্রথমদিকে সবকিছু ঠিকঠাকই ছিল, কিন্তু হঠাৎ করেই এত বড় ঝড় কীভাবে এলো, তা তিনি আজও বুঝে উঠতে পারেন না। কোনও মা-ই চান না তাঁর মেয়ের সংসার ভেঙে যাক—এ কথাও স্পষ্ট করে বলেন তিনি। জানান, জামাই যেখানে যেতে নিষেধ করতেন, সেখানে তিনি যেতেন না। কিন্তু মেয়ের নিরাপত্তার কথা ভেবেই অনেক সময় সঙ্গে যেতে বাধ্য হতেন।

এই লাইভের পর দেবলীনা নন্দীর জীবনের অজানা যন্ত্রণার ছবি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। প্রশ্ন উঠছে দাম্পত্য সম্পর্ক, মানসিক নির্যাতন এবং সমাজের দায়িত্ব নিয়ে। এই ঘটনায় শেষ পর্যন্ত কোন পথে যায় সত্য, সেদিকেই তাকিয়ে এখন সকলেই।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক