শৌখিন কৃত্রিম গাছেই কি বাড়ছে নেতিবাচক শক্তি? জানুন বাস্তুর চমকপ্রদ দাবি!

শহুরে জীবনে সবুজের ছোঁয়া এখন অনেকটাই বিলাসিতা। বহুতল আবাসন ও ছোট ফ্ল্যাটের যুগে প্রকৃতির সংস্পর্শ ক্রমশ কমছে। তাই ঘর সাজানোর ক্ষেত্রে অনেকেই বেছে নিচ্ছেন কৃত্রিম গাছ। এগুলি যেমন কম যত্নে দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যায়, তেমনই ঘরের সৌন্দর্যও বাড়ায়। তবে বাস্তুশাস্ত্রের দৃষ্টিতে এই কৃত্রিম সবুজ কতটা শুভ, তা নিয়ে রয়েছে ভিন্ন মত।

বাস্তুশাস্ত্রে জীবন্ত গাছের গুরুত্ব

বাস্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবন্ত গাছ শুধু সৌন্দর্যের উপকরণ নয়, বরং ইতিবাচক শক্তিরও উৎস। বহু প্রাচীন বিশ্বাসে গাছকে জীবনীশক্তি, সমৃদ্ধি ও শুভতার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। তুলসী, মানি প্ল্যান্ট বা অন্যান্য সবুজ গাছ ঘরের পরিবেশকে সতেজ রাখার পাশাপাশি মানসিক প্রশান্তিও বাড়ায় বলে মনে করা হয়।

অন্যদিকে কৃত্রিম গাছের মধ্যে কোনও প্রাণশক্তি থাকে না। ফলে সেগুলি প্রাকৃতিক শক্তি বা ইতিবাচক কম্পন সৃষ্টি করতে সক্ষম নয় বলে বাস্তুশাস্ত্রে উল্লেখ করা হয়। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ঘরে অতিরিক্ত কৃত্রিম গাছ ব্যবহার করলে শক্তির স্বাভাবিক প্রবাহে ব্যাঘাত ঘটতে পারে।

কৃত্রিম গাছ রাখার ক্ষেত্রে যেসব বিষয় মাথায় রাখা জরুরি

১. সংখ্যার ক্ষেত্রে সংযম
ঘরের প্রতিটি কোণ কৃত্রিম গাছে ভরিয়ে তোলার পরামর্শ দেওয়া হয় না। সাজসজ্জার জন্য সীমিত সংখ্যক কৃত্রিম গাছ ব্যবহার করাই ভালো বলে মনে করা হয়।

২. শোওয়ার ঘরে না রাখাই শ্রেয়
বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী, বেডরুমে কৃত্রিম গাছ রাখা অনুকূল নয়। এর ফলে ঘরের শান্ত পরিবেশ ব্যাহত হতে পারে এবং সম্পর্কের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে অনেকের বিশ্বাস।

৩. মূল প্রবেশপথে এড়িয়ে চলুন
বাড়ির প্রধান দরজাকে শুভ শক্তি প্রবেশের পথ হিসেবে ধরা হয়। তাই সেই জায়গায় প্রাণহীন সাজসজ্জার সামগ্রী, বিশেষ করে কৃত্রিম গাছ, না রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।

৪. পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা জরুরি
কৃত্রিম গাছ ব্যবহার করলে নিয়মিত ধুলো পরিষ্কার করতে হবে। ধুলো জমে থাকলে ঘরের সৌন্দর্য যেমন নষ্ট হয়, তেমনই বাস্তুমতে তা নেতিবাচক পরিবেশের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।

৫. নষ্ট বা বিবর্ণ গাছ সরিয়ে ফেলুন
যদি কৃত্রিম গাছের রং ফিকে হয়ে যায়, পাতা ছিঁড়ে যায় বা গাছটি ভাঙাচোরা হয়ে পড়ে, তবে তা আর ব্যবহার না করাই ভালো। বাস্তু অনুযায়ী, ভাঙা বা ক্ষতিগ্রস্ত জিনিস ঘরে রাখা অশুভ বলে মনে করা হয়।

৬. কাঁটাযুক্ত নকশা এড়িয়ে চলুন
ক্যাকটাস বা কাঁটাযুক্ত গাছের আদলে তৈরি কৃত্রিম সাজসজ্জা অনেকেই পছন্দ করেন। তবে বাস্তুশাস্ত্রে এগুলিকে বিরূপ শক্তির প্রতীক হিসেবে দেখা হয় এবং ঘরের মধ্যে অশান্তি বাড়াতে পারে বলে বিশ্বাস করা হয়।

বাস্তব গাছের বিকল্প কি কৃত্রিম গাছ?
বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিম গাছ শুধুমাত্র সাজসজ্জার উপকরণ হতে পারে, প্রকৃত গাছের বিকল্প নয়। তাই ঘরে যদি কৃত্রিম গাছ ব্যবহার করতেই হয়, তাহলে তার পাশাপাশি অন্তত একটি বা দুটি জীবন্ত গাছ রাখার চেষ্টা করা উচিত। এতে ঘরে প্রকৃতির উপস্থিতি বজায় থাকে এবং পরিবেশও অনেক বেশি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

উপসংহার
কৃত্রিম গাছ ঘরের সৌন্দর্য বাড়ালেও বাস্তুশাস্ত্রের দৃষ্টিতে সেগুলিকে জীবন্ত গাছের সমতুল্য মনে করা হয় না। তাই যারা বাস্তু মেনে চলতে চান, তাঁদের উচিত কৃত্রিম গাছের ব্যবহার সীমিত রাখা এবং যতটা সম্ভব প্রকৃত গাছকে অগ্রাধিকার দেওয়া। এতে ঘরের পরিবেশ যেমন আরও সুন্দর হবে, তেমনই প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্কও অটুট থাকবে।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক