আফ্রিকার একাধিক দেশে আবারও ইবোলা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও আশঙ্কা ছড়িয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং সচেতনতা ও দ্রুত নজরদারির উপরই সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া উচিত।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-র প্রাক্তন প্রধান বিজ্ঞানী সৌম্যা স্বামীনাথনের মতে, ইবোলা অবশ্যই একটি মারাত্মক সংক্রামক রোগ, কিন্তু এই মুহূর্তে ভারতে এর ব্যাপক বিস্তারের আশঙ্কা নেই। তবুও আন্তর্জাতিক ভ্রমণ এবং বিভিন্ন দেশের মধ্যে মানুষের নিয়মিত যাতায়াতের কারণে স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে সবসময় প্রস্তুত থাকতে হবে।
বর্তমানে আফ্রিকার আক্রান্ত দেশগুলিতে স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থাগুলিও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে একযোগে কাজ করছে। আক্রান্ত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করা, তাঁদের সংস্পর্শে আসা মানুষদের খুঁজে বের করা এবং প্রয়োজন হলে আলাদা পর্যবেক্ষণে রাখা— এই কৌশলগুলিকেই সবচেয়ে কার্যকর বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কোনও এলাকায় নতুন সংক্রমণ ধরা পড়লে সেখানে নজরদারি ও পরীক্ষার ব্যবস্থা আরও জোরদার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কীভাবে ছড়ায় ইবোলা?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এক ধরনের ফলখেকো বাদুড় ইবোলা ভাইরাসের প্রাকৃতিক বাহক হিসেবে পরিচিত। বাদুড় নিজে অসুস্থ না হলেও ভাইরাসটি অন্যান্য বন্য প্রাণীর মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পারে। সংক্রমিত প্রাণীর রক্ত, দেহরস বা মাংসের সংস্পর্শে এলে মানুষের শরীরে ভাইরাস প্রবেশ করতে পারে।
এরপর আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত, বমি, লালা বা অন্যান্য দেহরসের মাধ্যমে এই ভাইরাস অন্য মানুষের শরীরে সংক্রমিত হতে পারে। তাই রোগীর পরিচর্যার সময় যথাযথ সুরক্ষা অত্যন্ত জরুরি।
ইবোলার লক্ষণ
রোগের শুরুতে সাধারণ জ্বর, মাথাব্যথা, দুর্বলতা, গলা ব্যথা, কাশি, বমি বা ডায়রিয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। সংক্রমণ গুরুতর হলে লিভার, কিডনি ও হৃদ্যন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে শরীরের ভিতরে ও বাইরে রক্তক্ষরণ শুরু হয় এবং একাধিক অঙ্গ বিকল হয়ে রোগীর জীবন সংকটাপন্ন হয়ে পড়তে পারে।
প্রতিরোধের উপায়
বর্তমানে ইবোলার চিকিৎসায় সীমিত কিছু ব্যবস্থা থাকলেও সংক্রমণ প্রতিরোধই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ—
*আক্রান্ত ব্যক্তি বা সন্দেহভাজন রোগীর সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে হবে।
*সংক্রমিত এলাকার ভ্রমণে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
*নিয়মিত হাত পরিষ্কার রাখা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা জরুরি।
*সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
*আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা সবাইকে পর্যবেক্ষণে রাখা এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো উচিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইবোলা নিয়ে অযথা আতঙ্ক ছড়ানোর প্রয়োজন নেই। বরং সঠিক তথ্য জানা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং প্রশাসনের নির্দেশ অনুসরণ করলেই ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
Sumi has been waiting lifestyle, vastu Tips since 2026.