ফেব্রুয়ারি ২০২৬ মাসটি জ্যোতিষশাস্ত্রের দৃষ্টিতে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ এবং একই সঙ্গে সতর্কতার বার্তাও দিচ্ছে। এই সময়ে একাধিক গ্রহের সংযোগে তৈরি হতে চলেছে শক্তিশালী কিন্তু অশুভ যোগ। বিশেষ করে কুম্ভ রাশিতে মঙ্গল, রাহু ও সূর্যের মিলনে সৃষ্টি হবে অঙ্গারক যোগ এবং গ্রহণ যোগ, যা বহু রাশির জীবনে অস্থিরতা, মানসিক চাপ ও আর্থিক সমস্যার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
জ্যোতিষ গণনা অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে মঙ্গল কুম্ভ রাশিতে প্রবেশ করবে, যেখানে আগে থেকেই রাহু অবস্থান করছে। এই দুই ছায়া ও আগ্নেয় গ্রহের মিলনেই তৈরি হবে অঙ্গারক যোগ, যা দুর্ঘটনা, রাগ, হঠাৎ ক্ষতি ও মানসিক অস্থিরতার কারণ হতে পারে। এরপর ১৩ ফেব্রুয়ারি সূর্য কুম্ভ রাশিতে প্রবেশ করে রাহুর সঙ্গে যুক্ত হলে তৈরি হবে গ্রহণ যোগ। জ্যোতিষশাস্ত্রে এই ধরনের যোগকে অত্যন্ত অশুভ বলে মনে করা হয়।
এই গ্রহসংযোগের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে মেষ, সিংহ, বৃশ্চিক-সহ মোট পাঁচটি রাশির উপর। তবে এখানে বিশেষভাবে তিন রাশির জাতক-জাতিকাদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিচ্ছেন জ্যোতিষীরা।
মেষ রাশি
মেষ রাশির জাতক-জাতিকারা বর্তমানে সাড়ে সতীর প্রভাবে রয়েছেন, তার উপর লাভ ঘরে অঙ্গারক যোগ ও গ্রহ যোগ তৈরি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। হঠাৎ খরচ বেড়ে যেতে পারে, যার ফলে আর্থিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বন্ধু বা পরিচিত মহলের সঙ্গে মতবিরোধ হতে পারে এবং সামাজিক ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এই সময়ে কথাবার্তা ও আচরণে সংযম বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। বহুদিনের কোনও ইচ্ছা অপূর্ণ থেকে যেতে পারে, যা মানসিক অশান্তির কারণ হবে।
সিংহ রাশি
সিংহ রাশিতে বর্তমানে কেতুর অবস্থান, তার উপর সূর্য, মঙ্গল ও রাহুর দৃষ্টি পড়ায় কেরিয়ার ও দাম্পত্য জীবনে টানাপোড়েন বাড়তে পারে। চাকরি বা ব্যবসায় অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। অংশীদারিত্বের কাজে যুক্তদের জন্য এই সময়টি ঝুঁকিপূর্ণ—অংশীদারের কারণে ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। বৈবাহিক জীবনে মতপার্থক্য বৃদ্ধি পেতে পারে এবং দাম্পত্য কলহ চরমে পৌঁছাতে পারে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভালোভাবে চিন্তা করা জরুরি।
বৃশ্চিক রাশি
বৃশ্চিক রাশির অধিপতি গ্রহ মঙ্গল নিজেই অঙ্গারক যোগ তৈরি করায় এই রাশির জাতকদের বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। অর্থ ও সম্পত্তি সংক্রান্ত বিষয়ে ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। চলমান কোনও বিরোধ থাকলে তা আপাতত বাড়ানো উচিত নয়। কর্মক্ষেত্রে সামান্য অসতর্কতাও বড় সমস্যার কারণ হতে পারে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য সংক্রান্ত জটিলতা দেখা দিতে পারে, বিশেষ করে রক্তচাপ, জ্বর বা আঘাতজনিত সমস্যা। সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
সামগ্রিক পরামর্শ
এই সময়ে ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত, তর্ক-বিতর্ক, অতিরিক্ত রাগ এবং তাড়াহুড়ো এড়িয়ে চলাই শ্রেয়। নিয়মিত প্রার্থনা, ধ্যান এবং আত্মসংযম এই অশুভ প্রভাব কিছুটা হলেও কমাতে পারে বলে মনে করা হয়।

Hello, I am Biplab Baroi. I have been working in blogging for more than four years. I began my journey in the digital media industry in 2021.
Along with covering daily news and current events, I write articles on tech news, smartphones, and astrology. My work is created strictly for educational purposes use only.