পশ্চিমবঙ্গের রেল পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির কথা সামনে এল। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, তাঁর আবেদনের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব পশ্চিমবঙ্গে মোট পাঁচটি নতুন রেললাইন প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছেন। এই ঘোষণাকে রাজ্যের একাধিক জেলার দীর্ঘদিনের জনদাবির বাস্তব রূপ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের একাংশ।
শুভেন্দু অধিকারীর সামাজিক মাধ্যমের পোস্ট অনুযায়ী, অনুমোদিত নতুন রেললাইন প্রকল্পগুলির মধ্যে রয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কাঁথি থেকে এগরা পর্যন্ত নতুন রেললাইন। এই রুট চালু হলে কাঁথি-এগরা অঞ্চলের সঙ্গে রাজ্যের অন্যান্য অংশের যোগাযোগ আরও মজবুত হবে। পাশাপাশি নন্দকুমার থেকে বলাইপন্ডা পর্যন্ত নতুন রেল সংযোগ এবং নন্দীগ্রাম থেকে কেন্দামারি (নয়াচর) পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণের প্রস্তাবও অনুমোদন পেয়েছে। এই তিনটি প্রকল্প পূর্ব মেদিনীপুর জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
এছাড়াও হুগলি জেলায় দুটি পৃথক রেললাইন প্রকল্পের কথা জানানো হয়েছে। বোয়াইচণ্ডী থেকে আরামবাগ এবং বোয়াইচণ্ডী থেকে খানা পর্যন্ত নতুন রেললাইন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই আরামবাগ মহকুমা ও সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা সরাসরি রেল যোগাযোগের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সেই দাবি অনেকাংশে পূরণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তালিকার আর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হলো বাঁকুড়া জেলার কলাবতী থেকে পুরুলিয়া হয়ে হুড়া পর্যন্ত নতুন রেললাইন। বাঁকুড়া ও পুরুলিয়া—এই দুই জেলার বিস্তীর্ণ অংশে এখনও রেল যোগাযোগ সীমিত। নতুন এই রেললাইন চালু হলে শিল্পাঞ্চল, খনিজসমৃদ্ধ এলাকা এবং গ্রামীণ অর্থনীতির সঙ্গে রাজ্যের অন্যান্য অংশের যোগাযোগ আরও সহজ হবে।
শুভেন্দু অধিকারী তাঁর পোস্টে এই প্রকল্পগুলিকে দীর্ঘদিনের জনদাবির ফল বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, নতুন রেললাইন চালু হলে শুধু যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নত হবে না, কৃষিপণ্য পরিবহণ, শিল্পপণ্য সরবরাহ এবং স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও বড়সড় সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনাও বাড়বে।
কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবকে ধন্যবাদ জানিয়ে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় সরকার পশ্চিমবঙ্গের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে দ্রুত ও দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। যদিও এই প্রকল্পগুলির কাজ কবে শুরু হবে এবং কত সময়ের মধ্যে তা সম্পূর্ণ হবে, সে বিষয়ে এখনও রেল মন্ত্রকের তরফে কোনও নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করা হয়নি।
তবুও নতুন রেললাইন অনুমোদনের খবরে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে আশার আলো দেখা দিয়েছে। অনেকেরই বিশ্বাস, প্রকল্পগুলি দ্রুত বাস্তবায়িত হলে যাতায়াতের সুবিধার পাশাপাশি আঞ্চলিক অর্থনীতির বিকাশে এই রেললাইনগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। এখন নজর কেন্দ্রীয় সরকার ও রেল কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.