মানুষ পরিশ্রম করে উন্নতির আশায়। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায় কঠোর পরিশ্রম সত্ত্বেও সাফল্য ধরা দেয় না। শাস্ত্র মতে, এর পিছনে দায়ী হতে পারে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের কিছু ছোট ছোট ভুল। বিশেষ করে গৃহস্থালির নির্দিষ্ট কিছু আচরণ অজান্তেই নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে পরিবারে সুখ-সমৃদ্ধির ওপর।
অনেকেই বিশ্বাস করেন, গৃহই হল সুখ-শান্তির কেন্দ্র। তাই ঘরের প্রতিটি কাজের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে ইতিবাচক বা নেতিবাচক শক্তির প্রবাহ। নিচে এমনই ১৬টি কাজের উল্লেখ করা হল, যা বাড়িতে করলে সৌভাগ্যের চাকা থমকে যেতে পারে।
কোন কাজগুলো করা উচিত নয়?
১) বেলা পর্যন্ত ঘুমানো
অতিরিক্ত দেরি করে ঘুম থেকে ওঠা অলসতা বাড়ায় এবং উন্নতির পথে বাধা সৃষ্টি করে।
২) চৌকাঠে বসা বা দাঁড়ানো
ঘরের প্রবেশদ্বার শক্তির প্রবাহের স্থান। সেখানে বসা অশুভ বলে ধরা হয়।
৩) খালি পেটে বাড়ি থেকে বের হওয়া
সকালে কিছু না খেয়ে বের হলে দিনটি অশান্তিতে কাটতে পারে বলে মনে করা হয়।
৪) বাড়তি আটা মেখে রাখা
প্রয়োজনের অতিরিক্ত আটা মেখে ফ্রিজে জমিয়ে রাখা আর্থিক স্থবিরতার প্রতীক বলে ধরা হয়।
৫) সূর্যাস্তের পর দুধ-দই-নুন-চিনি দান
সূর্য ডোবার পর এই খাদ্যদ্রব্য দান করলে লক্ষ্মী বিদায় নেন—এমন বিশ্বাস প্রচলিত।
৬) রান্নাঘরের সিঙ্কে বেলনচাকি ফেলে রাখা
এতে অন্নের অপমান হয় বলে মনে করা হয়।
৭) বন্ধ গ্যাসের উপর কড়াই রেখে দেওয়া
রান্না শেষে কড়াই বা চাটু গ্যাসের উপর ফেলে রাখা অশুভ সংকেত হিসেবে দেখা হয়।
৮) সদস্য গুনে রুটি বানানো
সবসময় এক-দুটি রুটি বেশি বানানো শুভ। এতে অন্নের ঘাটতি হয় না।
৯) রান্নার পর গ্যাস পরিষ্কার না করা
নোংরা চুলা ঘরে নেতিবাচক শক্তি ডেকে আনে বলে বিশ্বাস।
১০) একসঙ্গে তিনটি রুটি দেওয়া
কাউকে একবারে তিনটি রুটি না দিয়ে আগে দুটি, পরে একটি দেওয়া উচিত।
১১) পুরনো কড়াই-তাওয়া দান
রান্নার ব্যবহৃত পুরনো সামগ্রী অন্যকে দিলে নিজের সৌভাগ্য হ্রাস পায়—এমন ধারণা রয়েছে।
১২) প্রথম ও শেষ রুটি ছোট করা
রুটি বানানোর সময় প্রথম ও শেষ রুটি ছোট করা অশুভ বলে মনে করা হয়।
১৩) সন্ধ্যায় পুজোর সময় ঘণ্টা বাজানো
সন্ধ্যার আরতিতে ঘণ্টা না বাজানোই শুভ বলে কিছু মত রয়েছে।
১৪) ঝাঁটা দৃশ্যমান রাখা
ঝাঁটা লক্ষ্মীর প্রতীক। তাই তা যেন কারও চোখে না পড়ে।
১৫) বিছানায় বসে খাওয়া
এতে অর্থকষ্ট ও অশান্তি বাড়ে বলে প্রচলিত বিশ্বাস।
১৬) সূর্যাস্তের পর ঘর পরিষ্কার
সন্ধ্যার পর ঝাঁট দেওয়া বা ঘর পরিষ্কার করা অশুভ হিসেবে বিবেচিত।
উপসংহার
অনেক সময় আমরা অজান্তেই এমন কিছু কাজ করি, যা আমাদের জীবনে বাধা ডেকে আনে—এমনটাই প্রচলিত ধারণা। যদিও এসব বিশ্বাস আধ্যাত্মিক ও প্রাচীন রীতিনীতির উপর ভিত্তি করে, তবুও বহু পরিবার আজও এই নিয়মগুলি মেনে চলেন।
পরিশ্রমের পাশাপাশি ঘরের নিয়ম-শৃঙ্খলা ও ইতিবাচক পরিবেশ বজায় রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সচেতন থাকলেই সৌভাগ্যের চাকা আবার ঘুরতে শুরু করতে পারে।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.