এক সময় মনে করা হত, বয়স পঞ্চাশ ছুঁলেই তবেই চুলে পাক ধরবে। কিন্তু বর্তমান সময়ে সেই ধারণা বদলে গেছে। পরিবেশ দূষণ, অনিয়মিত জীবনযাপন, অতিরিক্ত মানসিক চাপ এবং খাদ্যাভ্যাসের গরমিলের কারণে অনেকেরই ২৫ বছরের আগেই কালো চুলের মাঝে সাদা চুল চোখে পড়ছে। এই সমস্যা নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলের মধ্যেই বাড়ছে, আর স্বাভাবিকভাবেই চুল নিয়ে দুশ্চিন্তাও বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জিনগত কারণ ছাড়াও স্ট্রেস, ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি, হাইপোথাইরয়েডিজম, ভিটিলিগো, ধূমপান, পুষ্টির অভাব, পার্নিসিয়াস অ্যানিমিয়া, পরিবেশ দূষণ এবং চুলের সঠিক যত্ন না নেওয়াই অকালপক্কতার মূল কারণ। তবে ভালো খবর হল—কিছু সহজ ঘরোয়া পদ্ধতি আর দৈনন্দিন জীবনের সামান্য পরিবর্তনেই এই সমস্যাকে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
নারকেল তেল ও লেবুর রস
চুলের যত্নে নারকেল তেলের জুড়ি মেলা ভার। সমপরিমাণ নারকেল তেল ও লেবুর রস একসঙ্গে মিশিয়ে মাথার ত্বকে লাগিয়ে কয়েক মিনিট ভালো করে ম্যাসাজ করুন। নিয়মিত এই পদ্ধতি মেনে চললে চুলের গোড়া মজবুত হয়, পাকা চুলের প্রবণতা কমে এবং চুলের হারানো উজ্জ্বলতাও ফিরে আসে।
পেঁয়াজের রস
পেঁয়াজে থাকা বিশেষ এনজাইম চুলে মেলানিন উৎপাদনে সাহায্য করে। ফলে চুল পাকা ধীর হয় এবং চুল পড়াও কমে। পরিমাণ মতো পেঁয়াজের রস বের করে সরাসরি মাথার ত্বকে লাগান। সপ্তাহে ২–৩ দিন ব্যবহার করলেই উপকার মিলতে পারে।
হেনা ও মেথির ব্যবহার
২ চামচ হেনা পাউডার, ১ চামচ মেথি বীজ গুঁড়ো এবং ১ চামচ দই একসঙ্গে মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করুন। এই পেস্ট চুলে লাগালে সাদা চুল ঢাকতে যেমন সাহায্য করে, তেমনই চুলের স্বাস্থ্যেরও উন্নতি হয়। চাইলে নারকেল তেলের সঙ্গে হেনা মিশিয়েও ব্যবহার করা যেতে পারে।
জীবনযাত্রায় যে পরিবর্তন জরুরি
শুধু বাহ্যিক যত্ন নয়, ভিতর থেকেও চুলের যত্ন নেওয়া প্রয়োজন।
প্রতিদিনের ডায়েটে সবুজ শাকসবজি ও টাটকা ফল রাখুন।
মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা করুন এবং ধূমপান এড়িয়ে চলুন।
চুলে অতিরিক্ত কেমিক্যালযুক্ত প্রসাধনী ব্যবহার কমান।
প্রতিদিন শ্যাম্পু না করে সপ্তাহে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করুন।
সব মিলিয়ে বলা যায়, অকালপক্কতা সম্পূর্ণ বন্ধ করা না গেলেও সঠিক যত্ন, ঘরোয়া উপায় ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মাধ্যমে চুলকে দীর্ঘদিন কালো ও সুস্থ রাখা সম্ভব।