বর্তমান সময়ে বহু পরিবারেই বাবা-মা দু’জনেই কর্মজীবী। ফলে ছোট সন্তানকে দিনের বেশ কিছুটা সময় ডে কেয়ার বা ক্রেশের উপর নির্ভর করেই কাটাতে হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক কিছু ঘটনায় শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাই শুধুমাত্র সুবিধাজনক অবস্থান বা কম খরচ দেখে নয়, সন্তানের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই ডে কেয়ার নির্বাচন করা প্রয়োজন।
কর্মীর সংখ্যা পর্যাপ্ত কি না দেখুন
একটি ভালো ডে কেয়ারে শিশুদের সংখ্যা অনুযায়ী পর্যাপ্ত পরিচর্যাকারী থাকা জরুরি। অল্প কয়েকজন কর্মীর উপর অনেক শিশুর দায়িত্ব থাকলে প্রত্যেকের প্রতি সমান নজর দেওয়া সম্ভব হয় না। তাই শিশু ও পরিচর্যাকারীর অনুপাত সম্পর্কে আগে থেকেই জেনে নিন।

পরিচ্ছন্নতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
যেখানে শিশু খাবে, খেলবে এবং ঘুমাবে, সেই পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হওয়া অত্যন্ত জরুরি। খেলনা, বিছানা, বাথরুম ও রান্নাঘর নিয়মিত জীবাণুমুক্ত করা হচ্ছে কি না, তা খোঁজ নিন। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে সংক্রমণ ও নানা অসুস্থতার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরীক্ষা করুন
ডে কেয়ারের দরজা, জানালা, সিঁড়ি, বৈদ্যুতিক সুইচবোর্ড এবং অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় শিশুদের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রয়েছে কি না, তা সরেজমিনে দেখে নিন। জরুরি পরিস্থিতিতে কীভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেটিও জেনে রাখা ভালো।
সিসিটিভি ও নজরদারি ব্যবস্থা আছে কি?
বিশ্বস্ত ডে কেয়ারগুলিতে সাধারণত সিসিটিভি নজরদারির ব্যবস্থা থাকে। অনেক প্রতিষ্ঠান অভিভাবকদের নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ফুটেজ দেখার বা অ্যাপের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণের সুযোগও দেয়। এতে সন্তানের নিরাপত্তা সম্পর্কে অভিভাবকের আস্থা বাড়ে।
কর্মীদের ব্যবহার লক্ষ্য করুন
শিশুর সঙ্গে যারা সারাদিন থাকেন, তাঁদের আচরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কর্মীরা ধৈর্যশীল, নম্র ও শিশুদের প্রতি যত্নশীল কি না, তা খেয়াল করুন। শিশুদের সঙ্গে রূঢ় ব্যবহার বা চিৎকার করার প্রবণতা থাকলে সেই প্রতিষ্ঠান এড়িয়ে যাওয়াই ভালো।
শিশুর আচরণেও নজর রাখুন
ডে কেয়ারে যাওয়ার পর যদি শিশু নিয়মিত আতঙ্কিত থাকে, অতিরিক্ত কান্নাকাটি করে, খাওয়া-ঘুমের অভ্যাস বদলে যায় বা সেখানে যেতে অস্বীকার করে, তবে বিষয়টিকে হালকাভাবে নেবেন না। প্রয়োজনে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলুন এবং পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নিন।
যোগাযোগ বজায় রাখুন
সন্তানকে ডে কেয়ারে রেখে দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। নিয়মিত শিক্ষিকা ও পরিচর্যাকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন। প্রতিদিন শিশুর দিন কেমন কাটল, কী খেল, কেমন আচরণ করেছে—এসব বিষয়ে খোঁজ নিলে যে কোনও সমস্যা দ্রুত ধরা পড়তে পারে।
ডে কেয়ার নির্বাচন করুন যাচাই করে
ডে কেয়ার বেছে নেওয়ার আগে একাধিকবার প্রতিষ্ঠানটি ঘুরে দেখুন, নিয়মনীতি জানুন এবং সম্ভব হলে অন্য অভিভাবকদের মতামত নিন। সন্তানের শৈশব নিরাপদ ও আনন্দময় রাখতে সচেতন সিদ্ধান্তই সবচেয়ে বড় ভরসা।
Sumi has been waiting lifestyle, vastu Tips since 2026.