জাপানে প্রায় তিন দশক ধরে বসবাস ও ব্যবসা করার পর হঠাৎই অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী মণীশ কুমার। দীর্ঘদিন ধরে সাইতামায় ভারতীয় খাবারের রেস্তোরাঁ চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করলেও এবার তাঁর ‘বিজ়নেস ম্যানেজার ভিসা’ নবীকরণ করতে অস্বীকার করেছে জাপানের অভিবাসন দপ্তর। ফলে পরিবার-সহ তাঁকে ভারতে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
নয়ের দশকে পড়াশোনা শেষ করে জাপানে পাড়ি দিয়েছিলেন মণীশ। পরে সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। প্রায় ১৮ বছর আগে সাইতামায় ভারতীয় খাবারের একটি রেস্তোরাঁ খোলেন তিনি। স্থানীয়দের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে সেই ব্যবসা। সময়ের সঙ্গে পরিবারও গড়ে ওঠে তাঁর। দুই সন্তানের জন্ম ও বেড়ে ওঠা জাপানেই।
কিন্তু সম্প্রতি জাপান সরকার ‘বিজ়নেস ম্যানেজার ভিসা’-র নিয়ম আরও কঠোর করায় সমস্যায় পড়েছেন বহু বিদেশি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। মণীশও তাঁদেরই একজন। ভিসা নবীকরণের আবেদন করার পর তাঁকে জানানো হয়, আর অনুমতি দেওয়া হবে না। এই সিদ্ধান্তে ভেঙে পড়েছেন তিনি।
টোকিওতে বিদেশি ব্যবসায়ীদের এক প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মণীশ। তিনি জানান, তাঁর সন্তানরা জাপানেই বড় হয়েছে এবং মূলত জাপানি ভাষাতেই অভ্যস্ত। এমন পরিস্থিতিতে হঠাৎ দেশ ছাড়ার নির্দেশ পাওয়ায় পরিবার চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।
বিদেশি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দাবি, নতুন নিয়মের ফলে বহু পুরনো ও বৈধ ব্যবসাও সংকটে পড়ছে। প্রতিবাদকারীরা গণস্বাক্ষর অভিযান চালিয়ে জাপানের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছেও স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, আগে নির্দিষ্ট অঙ্কের বিনিয়োগ এবং কয়েকজন কর্মী নিয়োগের শর্ত পূরণ করলেই এই ধরনের ভিসা পাওয়া যেত। কিন্তু গত বছর থেকে বিনিয়োগের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে এবং আরও কড়া শর্ত আরোপ করা হয়েছে। জাপান সরকারের দাবি, দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের সুযোগ নেওয়ার উদ্দেশ্যে অনেকেই এই ভিসা ব্যবহার করছিলেন। যদিও সমালোচকদের মতে, নতুন নীতির প্রভাব পড়ছে ছোট বিদেশি ব্যবসাগুলির উপরই সবচেয়ে বেশি।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.