জিয়াগঞ্জে ফিরে সাদামাটা জীবন: অরিজিতের বাড়ি, স্টুডিয়ো আর অবসরের সাহসী সিদ্ধান্ত

কেরিয়ারের মধ্যগগণে দাঁড়িয়ে ‘সিনেমায় আর গান গাইব না’—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ নয়। যেখানে খ্যাতি ও সাফল্যের শীর্ষে থাকা শিল্পীরাও ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভোগেন, সেখানে ৪০ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই প্লেব্যাক গায়ক হিসেবে অবসর নেওয়ার ঘোষণা করলেন অরিজিৎ সিং। কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েও যাঁর জীবনযাপন আজও আশ্চর্য রকম সাধারণ, সেই অরিজিতের সিদ্ধান্ত তাই আরও বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বিলাসবহুল গাড়ি, দামি পোশাক কিংবা জাঁকজমক—এসব থেকে বরাবরই দূরে থেকেছেন অরিজিৎ। অথচ তাঁর লাইভ কনসার্টের সবচেয়ে দামি টিকিটের মূল্য পৌঁছে যায় লাখ টাকার ঘরে। এই বিপরীত মেরুর জীবনধারাই অরিজিৎ সিংকে আলাদা করে চেনায়।

নিজের শহর জিয়াগঞ্জের প্রতি অরিজিতের টান বরাবরের। মুম্বইয়ে একাধিক বিলাসবহুল প্রপার্টির মালিক হলেও কাজের ব্যস্ততা কমলেই তিনি ফিরে যান জিয়াগঞ্জে। সেখানকার বাড়িটি ছিমছাম, আলো-বাতাসে ভরা। বড় বড় জানলা, প্রশস্ত ব্যালকনি আর চারপাশে সবুজ গাছপালায় সাজানো এই বাড়ি যেন তাঁর ব্যক্তিত্বেরই প্রতিচ্ছবি। বাড়ির মধ্যেই তৈরি করেছেন নিজের মিউজিক স্টুডিয়ো—যেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় কাটে তাঁর, নতুন সুর আর ভাবনার খোঁজে।

শুধু সঙ্গীত নয়, সমাজের প্রতিও তাঁর দায়বদ্ধতা স্পষ্ট। জিয়াগঞ্জেই অরিজিতের একটি নিজস্ব হোটেল রয়েছে, যেখানে খুব স্বল্পমূল্যে খাবার পাওয়া যায়। পড়ুয়াদের জন্য রয়েছে বিশেষ ছাড়। খাবারের মান নিয়েও আপস করা হয় না। প্রতি বছর গায়কের জন্মদিনে এই হোটেলেই দুস্থ মানুষদের পেট ভরে খাওয়ানোর ব্যবস্থা করা হয়—নীরবে, প্রচারের আলো থেকে দূরে।

সাফল্যের নিরিখেও অরিজিৎ আজ বিশ্বসঙ্গীতের অন্যতম বড় নাম। ২০২৫–২৬ সালে বিশ্বজুড়ে স্পটিফাইয়ে সবচেয়ে বেশি ফলোয়ার্স তাঁরই—সংখ্যা ১৬৮ মিলিয়নের বেশি। টেলর সুইফট, এড শিরানের মতো আন্তর্জাতিক তারকাদেরও পিছনে ফেলেছেন তিনি। ঝুলিতে রয়েছে আটটি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার, দুটি জাতীয় পুরস্কার এবং ২০২৫ সালে পাওয়া পদ্মশ্রী সম্মান।

এই বিপুল সাফল্যের মধ্যেই মঙ্গলবার সোশ্যাল মিডিয়ায় এক আবেগঘন পোস্টে অরিজিৎ ঘোষণা করেন তাঁর প্লেব্যাক অবসরের সিদ্ধান্ত। তিনি লেখেন, গত কয়েক বছর ধরে শ্রোতাদের যে ভালোবাসা পেয়েছেন, তার জন্য তিনি কৃতজ্ঞ। একই সঙ্গে জানান, প্লেব্যাক ভোকালিস্ট হিসেবে তিনি আর কোনো নতুন কাজ নেবেন না।

ব্যক্তিগত এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে অরিজিৎ স্পষ্ট করেন, এই সিদ্ধান্ত হঠাৎ নেওয়া নয়। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি প্লেব্যাক থেকে বিরতির কথা ভাবছিলেন। নিজেকে ‘সহজেই একঘেয়ে হয়ে পড়া মানুষ’ বলে উল্লেখ করে জানান, নতুন ধরনের সঙ্গীত নিয়ে কাজ করতেই এই সিদ্ধান্ত। তাঁর কথায়, “আমি বোর হয়ে গিয়েছি। বেঁচে থাকার জন্য আমাকে অন্য ধরনের সঙ্গীত নিয়ে কাজ করতে হবে।” পাশাপাশি নতুন শিল্পীদের জন্য জায়গা করে দেওয়ার ইচ্ছের কথাও উঠে আসে তাঁর লেখায়।

জিয়াগঞ্জের শান্ত বাড়ি, সবুজে ঘেরা জানলা, নিজের স্টুডিয়ো আর সাফল্যের শিখর থেকে সরে আসার সাহস—সব মিলিয়ে অরিজিৎ সিং যেন আবারও প্রমাণ করলেন, সত্যিকারের শিল্পীর কাছে খ্যাতির চেয়েও আত্মতৃপ্তি আর সৃষ্টির স্বাধীনতাই সবচেয়ে বড়।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক