চার দিন আগে আচমকাই ঘোষণা— ছবির জন্য আর গান গাইবেন না অরিজিৎ সিংহ। সেই খবরের রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন জল্পনায় দেশজুড়ে শোরগোল: জনপ্রিয় গায়ক নাকি রাজনীতির ময়দানে নামতে চলেছেন, তাও বিজেপির হাত ধরে! সামনে রাজ্য বিধানসভা নির্বাচন— ফলে গুঞ্জন আরও ডালপালা মেলেছে।
গত কয়েক বছরে ভোটের আগে তারকাদের রাজনীতিতে যোগদানের নজির নতুন নয়। তাই প্রশ্ন উঠছে, সেই তালিকায় কি এ বার অরিজিৎ সিংহ? যদিও রাজনীতি নিয়ে তাঁর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা যায়নি। শোনা যাচ্ছে, নিজের প্রথম হিন্দি ছবির দ্বিতীয় পর্বের শুটিং নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন তিনি।
এই গুঞ্জন নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা চলছে কি না জানতে আনন্দবাজার ডট কম যোগাযোগ করেছিল রাজ্যের বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ, মুর্শিদাবাদের বিজেপি বিধায়ক গৌরীশঙ্কর ঘোষ এবং অভিনেতা-রাজনীতিবিদ রুদ্রনীল ঘোষের সঙ্গে। তিনজনেই জানিয়েছেন, দলীয় নেতৃত্বের তরফে এমন কোনও তথ্য তাঁদের জানানো হয়নি। দিলীপ ঘোষের কথায়, “এ রকম সিদ্ধান্ত হলে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব থেকে জানানো হত। সে রকম কিছুই হয়নি।”
তবে গুঞ্জনের নেপথ্য নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন গৌরীশঙ্কর ঘোষ। তাঁর দাবি, জিয়াগঞ্জের বাসিন্দা অরিজিৎ বরাবরই মানবদরদী। গোপনে বহু স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে সাহায্য করেন, জেলার ভালমন্দ খোঁজ রাখেন। “এই মানবিকতার কারণেই হয়তো তাঁর নাম রাজনীতির সঙ্গে জড়াচ্ছে,” বলেন তিনি। পাশাপাশি যোগ করেন, অরিজিতের মতো খ্যাতনামী বিজেপিতে এলে জেলার উন্নতিতে তা ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্য দিকে, রুদ্রনীল ঘোষ মনে করিয়ে দেন, অরিজিৎ বিভিন্ন সময়ে রাজ্যের ডামাডোল নিয়ে সমাজমাধ্যমে মত প্রকাশ করেছেন। আরজি কর আন্দোলনের সময় গান বেঁধেছেন, এক্স হ্যান্ডলে (সাবেক টুইটার) রাজনৈতিক বক্তব্যও দিয়েছেন। তাঁর মতে, “বাংলায় অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণেই হয়তো বিজেপি যোগের গুঞ্জন।”
শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস অবশ্য বিষয়টিকে গুঞ্জন হিসেবেই দেখছে। তৃণমূল সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “নির্বাচনের আগে এ ধরনের গুঞ্জন প্রতি বারই ছড়ায়। সময়ই বলবে সত্যি না মিথ্যা।” অরিজিতকে নিয়ে তৃণমূলের কোনও পরিকল্পনা আছে কি না— সে প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, সিদ্ধান্ত জানাতে পারবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
বাম শিবিরও এই মুহূর্তে মন্তব্যে অনিচ্ছুক। সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষ স্পষ্ট করে বলেন, “অনুমানভিত্তিক বিষয়ে মন্তব্য করব না।”
সব মিলিয়ে, অরিজিৎ সিংহের রাজনীতিতে প্রবেশ নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। তবে সরকারি ঘোষণা বা শিল্পীর নিজস্ব বক্তব্য না আসা পর্যন্ত প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে— সত্যিই কি রাজনীতির আঙিনায় পা রাখছেন বাংলার প্রিয় কণ্ঠ? সময়ই দেবে সেই উত্তর।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.