অসমের ‘ভূমিপুত্র’ জ়ুবিন গার্গকে হারিয়ে কাঁপছে গোটা পূর্বোত্তর। সেই বেদনার স্রোতে এবার যোগ করলেন তাঁর দীর্ঘদিনের বন্ধু ও সহশিল্পী জোজো মুখোপাধ্যায়। আনন্দবাজার অনলাইনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জোজো জানালেন— গরিমা গার্গ শইকীয়া সিঙ্গাপুরে স্বামীর সঙ্গে থাকলে হয়তো এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটত না।
জোজোর কথায়, জ়ুবিন ছিলেন প্রকৃত অর্থেই ‘রাতজাগা তারা’। রাতভর গান বাঁধা, চর্চা, রেকর্ডিং— এই ছিল তাঁর স্বাভাবিক রুটিন। সেই মানুষটিকে সকাল সকাল স্কুবা ডাইভিংয়ে নিয়ে যাওয়া হল কেন, তা নিয়ে গভীর ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন গায়িকা। তাঁর প্রশ্ন, “ওকে ঘুমোতে না দিয়ে এত ভোরে জলে নামানোর প্রয়োজন ছিল? কেউ কি একবারও ভাবল না?”
বন্ধুর প্রয়াণের পর জোজো ভেঙে পড়েছিলেন। সেই সময়ে পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। রবিবার উত্তরবঙ্গে শাশুড়িমাকে শ্রদ্ধা জানাতে যাওয়ার পর সেখান থেকেই উড়ে যান অসমে। দেখা করেন প্রয়াত বন্ধুর অসুস্থ বাবার সঙ্গে।
জোজো জানান, বেদনায় আরও ভেঙে পড়েছেন জ়ুবিনের বাবা। শরীর খারাপ থাকলেও এখন ছেলের শোকে তিনি প্রায় অসাড়। কথা বলার শক্তি পর্যন্ত হারিয়ে ফেলেছেন। অন্যদিকে, গরিমা গার্গ শইকীয়া নিজেও অসুস্থ। হাসপাতালে ভর্তি থাকায় জোজোর সঙ্গে তাঁর বেশি কথা হয়নি। তবে গায়িকা তাঁকে অনুযোগ জানিয়ে বলেন— “তুমি যদি সিঙ্গাপুরে থাকত, জ়ুবিন এভাবে যেত না।”

অসমে পৌঁছে জোজো বিস্মিত— রাজ্য যেন রূপ নিয়েছে এক বিশাল স্মৃতিসৌধে। জ়ুবিনের সমাধিস্থল আজ যেন মন্দির। বাইরে বিক্রি হচ্ছে ফুল, ‘গামোছা’। নির্দিষ্ট সময় পার হয়ে গেলেও মানুষের ভিড় থামছে না। রাস্তায়, গলিতে, মোড়ে বাজছে তাঁর গান। শহরজুড়ে সাজানো প্রয়াত শিল্পীর ছবি। স্কুল, কলেজ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের শুরুতেই তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা।
এ দৃশ্য দেখে জোজোর বার্তা পৌঁছেছে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার ঘনিষ্ঠদের কাছে—
“প্রতি বছর জ়ুবিনের নামে একটা উৎসব করুন। এভাবেই বেঁচে থাকুন শিল্পী।”
কথার ফাঁকে উঠে আসে স্মৃতি। একবার শুটিংয়ে ব্যস্ত ছিলেন তাঁরা দু’জন। পরের দিন জোজোর জন্মদিন। মন খারাপ দেখে জ়ুবিনই আয়োজন করেছিলেন সারপ্রাইজ উদ্যাপনের। জোজোর কথায়, “আজকের দিনে কে এত উদার মনের মানুষ?”

বন্ধুর প্রয়াণে এখনও শোকের কালো মেঘে ঢেকে আছে গায়িকা। আর সেই সঙ্গেই রয়েছে এক গভীর প্রশ্ন— এমন মৃত্যু কি সত্যিই ঠেকানো যেত না?
FAQ
1. জোজো কেন গরিমা গার্গকে অনুযোগ করেছেন?
কারণ তাঁর মতে, গরিমা সিঙ্গাপুরে থাকলে জ়ুবিনকে সকাল সকাল স্কুবা ডাইভিংয়ে যেতে দিতেন না, ফলে দুর্ঘটনা এড়ানো যেত।
2. জোজোর মতে জ়ুবিনের রুটিন কেমন ছিল?
তিনি রাতজেগে গান বাঁধতেন, সকালে বিশ্রাম নিতেন।
3. স্কুবা ডাইভিং নিয়ে প্রশ্ন কেন উঠছে?
কারণ জ়ুবিন তখন বিশ্রামে থাকতেন, সেই অবস্থায় তাঁকে গভীর জলে নামানো নিয়ে আপত্তি জানাচ্ছেন জোজো।
4. জোজো কেন আগে পরিবারকে দেখতে যাননি?
বন্ধুর মৃত্যুর পর মানসিক অবস্থা ভেঙে পড়ায় তিনি যেতে পারেননি।
5. জ়ুবিনের বাবা কেমন আছেন এখন?
অসুস্থ ছিলেন, এখন ছেলের শোকে আরও ভেঙে পড়েছেন— মানসিক ও শারীরিকভাবে বিপর্যস্ত।
6. গরিমা গার্গ শইকীয়া কোথায় আছেন?
অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি।
7. অসমে কীভাবে স্মরণ করা হচ্ছে জ়ুবিনকে?
সমাধিস্থলে জনস্রোত, রাস্তায় তাঁর গান, শহর সাজানো তাঁর ছবিতে, অনুষ্ঠান শুরু হচ্ছে তাঁর স্মরণে।
8. জোজো মুখ্যমন্ত্রীর কাছে কী বার্তা দিয়েছেন?
প্রতি বছর ‘জ়ুবিন উৎসব’ আয়োজনের প্রস্তাব করেছেন।
9. জোজো কোন স্মৃতি শেয়ার করেছেন?
একবার তাঁর জন্মদিনে জ়ুবিন নিজে সারপ্রাইজ পার্টি আয়োজন করেছিলেন।
10. জোজো কেন এখনও স্তব্ধ?
বন্ধুর অকালমৃত্যু এবং মৃত্যু ঘিরে নানা প্রশ্ন তাঁকে আজও নাড়া দিয়ে যাচ্ছে।
#ZubeenGarg #JojoMukherjee #AssamNews

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.