কিডনি আমাদের শরীরের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। রক্তে জমে থাকা অতিরিক্ত ও অপ্রয়োজনীয় পদার্থ ছেঁকে প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীরের বাইরে বের করে দেওয়াই তার মূল কাজ। কিন্তু কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেলে বা দীর্ঘদিনের কিডনির অসুখ হলে এই প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি হয়। ফলে সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ফসফরাসের মতো খনিজ শরীরে জমে গিয়ে নানা শারীরিক জটিলতা তৈরি করতে পারে।
এই কারণেই কিডনির অসুখে ভোগা মানুষদের—বিশেষত যাঁদের ডায়ালিসিস করাতে হয়—খাবারদাবারে কড়া নিয়ন্ত্রণ মানতে হয়। অনেক পরিচিত ও প্রিয় খাবার বাদ দিতে হয় খাদ্যতালিকা থেকে। এতে একদিকে যেমন স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ে, তেমনই অন্যদিকে খাবারে স্বাদ না পাওয়ার ক্লান্তিও তৈরি হয়। তবে সামান্য কৌশল আর সচেতনতা থাকলে, কিডনি-বান্ধব খাবারেও আনা যায় স্বাদের বৈচিত্র্য।
ডিমের সাদা অংশে স্বাদের নতুন রূপ
কিডনির অসুখে অনেক ক্ষেত্রেই ডিমের কুসুম বাদ দিয়ে শুধু সাদা অংশ খাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। প্রতিদিন সেদ্ধ ডিমের সাদা অংশ খেতে একঘেয়ে লাগতেই পারে। তার বদলে বানানো যেতে পারে ওট্স ও ডিমের সাদা অংশের চিলা। সামান্য ভেজানো ওট্স, ডিমের সাদা অংশ, অল্প পেঁয়াজ, কাঁচালঙ্কা ও ধনেপাতা মিশিয়ে তৈরি এই চিলা যেমন সুস্বাদু, তেমনই পুষ্টিকর।
আরেকটি সহজ বিকল্প হল স্ক্র্যাম্বলড এগ। ডিমের সাদা অংশের সঙ্গে পেঁয়াজ, বেলপেপার আর ধনেপাতার হালকা ভাজা মিশিয়ে তৈরি এই পদ স্বাদেও ভালো, আবার কিডনির জন্যও তুলনামূলক নিরাপদ।
হালকা ও পুষ্টিকর স্যুপ
ধনেপাতা ও পার্সলে কিডনির রোগীদের জন্য তুলনামূলক নিরাপদ সবুজ শাকের মধ্যে পড়ে। এগুলিতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট কিডনির স্বাস্থ্যের পক্ষে উপকারী। আদা, রসুন, পেঁয়াজশাক ও ধনেপাতা দিয়ে বানানো হালকা স্যুপ শরীরকে যেমন উষ্ণ রাখে, তেমনই হজমেও সাহায্য করে। শেষে সামান্য পাতিলেবুর রস ও গোলমরিচ যোগ করলে স্বাদ আরও বেড়ে যায়।
মুচমুচে ব্রকলি বল
কম পটাশিয়ামযুক্ত সবজির তালিকায় ব্রকলি একটি ভালো বিকল্প। একঘেয়ে তরকারির বদলে ব্রকলি দিয়ে বানানো যেতে পারে মুচমুচে ব্রকলি বল। কুচোনো ব্রকলির সঙ্গে ডিমের সাদা অংশ, সামান্য রসুন ও পেঁয়াজ মিশিয়ে এয়ার ফ্রায়ার বা অল্প তেলে ভেজে নিলে তৈরি হয় এক অভিনব ও স্বাস্থ্যকর স্ন্যাক্স।
সব মিলিয়ে বলা যায়, কিডনির অসুখ মানেই যে খাবারে স্বাদ থাকবে না—তা নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে, অনুমোদিত উপকরণ ব্যবহার করে একটু পরিকল্পনা আর সৃজনশীলতা থাকলেই খাবারের টেবিলে ফিরতে পারে বৈচিত্র্য ও আনন্দ।

Hello, I am Biplab Baroi. I have been working in blogging for more than four years. I began my journey in the digital media industry in 2021.
Along with covering daily news and current events, I write articles on tech news, smartphones, and astrology. My work is created strictly for educational purposes use only.