ধূমপান যে ফুসফুসের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর, তা নতুন করে বলার কিছু নেই। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হল, ধূমপান না করেও আজ বহু মানুষ ফুসফুসের নানা সমস্যায় ভুগছেন। শ্বাসকষ্ট, দীর্ঘস্থায়ী কাশি, অক্সিজেনের ঘাটতি কিংবা ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে অল্প বয়সেই। চিকিৎসকদের মতে, এর নেপথ্যে রয়েছে আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাপনের কিছু অভ্যাস ও অনভ্যাস, যা ধীরে ধীরে ফুসফুসের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
ঘরের পরিবেশ: অদৃশ্য শত্রু
অনেকেই মনে করেন দূষণ মানেই বাইরের বাতাস। কিন্তু বাস্তবে ঘরের বাতাসও সমান বিপজ্জনক হতে পারে। ঘরে ধুলো জমে থাকা, নিয়মিত পরিষ্কার না করা, হাওয়া-বাতাস চলাচলের অভাব—এই সবই ফুসফুসের উপর চাপ বাড়ায়।
এ ছাড়া মশা মারার ধূপ, সুগন্ধি মোমবাতি, রুম ফ্রেশনারের ধোঁয়ায় থাকা ক্ষতিকর রাসায়নিক দীর্ঘদিন শ্বাসের সঙ্গে শরীরে ঢুকলে ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শহুরে জীবনে দূষণের মাত্রা বেশি হলে ঘরে এয়ার পিউরিফায়ার ব্যবহার করাও উপকারী হতে পারে।
ভুল শ্বাস-প্রশ্বাসের অভ্যাস
শ্বাস নেওয়ার সঠিক পদ্ধতি অনেকেই মানেন না। নাকের বদলে মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার অভ্যাস ফুসফুসের জন্য ক্ষতিকর। নাক বাতাসকে পরিশুদ্ধ করে ফুসফুসে পৌঁছতে সাহায্য করে, মুখ সে কাজ করতে পারে না।
প্রাণায়াম ও নিয়মিত শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম ফুসফুসের ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে এবং অক্সিজেন গ্রহণের দক্ষতা উন্নত করে।
দীর্ঘ সময় বসে থাকা: নীরব ক্ষয়
একটানা দীর্ঘ সময় চেয়ারে বসে কাজ করা আজকের দিনে খুব সাধারণ অভ্যাস। কিন্তু এই অভ্যাস ফুসফুসের জন্য মোটেই ভাল নয়। দীর্ঘ সময় বসে থাকলে ফুসফুস পুরোপুরি প্রসারিত হতে পারে না, ফলে অক্সিজেনের চলাচল কমে যায়। দিনের পর দিন এই অভ্যাস চলতে থাকলে শ্বাসযন্ত্রের কার্যকারিতা ধীরে ধীরে কমতে থাকে।
ধোঁয়ার সংস্পর্শ
কলকারখানা, যানবাহনের ধোঁয়া, রান্নার উনুন, টায়ার বা আবর্জনা পোড়ানোর ধোঁয়া—সবই ফুসফুসের পক্ষে ক্ষতিকর। উৎসবের সময় বাজির ধোঁয়াও বড় ঝুঁকি তৈরি করে। বাইরে বেরোলে এই ধোঁয়ার প্রভাব কমাতে মাস্ক ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি।
শরীরচর্চার অভাব
হাঁটা, জগিং, হালকা ব্যায়াম বা ঘরের কাজ—সবই ফুসফুসকে সক্রিয় রাখে। নিয়মিত শরীরচর্চা না করলে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কমে যায়। এমনকি হালকা স্ট্রেচিংও শ্বাসপ্রশ্বাসের ক্ষমতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
সতর্কতা জরুরি
ধূমপান না করলেই ফুসফুস সুরক্ষিত—এই ধারণা ভ্রান্ত। সুস্থ ফুসফুসের জন্য প্রয়োজন পরিষ্কার পরিবেশ, সঠিক শ্বাস-প্রশ্বাস, নিয়মিত নড়াচড়া ও সচেতন জীবনযাপন। আজই অভ্যাস বদলান, কারণ ফুসফুস সুস্থ থাকলেই জীবন চলবে স্বাভাবিক ছন্দে।