ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী তিথিতে পালিত মহাশিবরাত্রি হিন্দু ধর্মে সকল ব্রতের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বলে বিবেচিত। শাস্ত্র অনুযায়ী, এই পবিত্র তিথিতেই দেবাদিদেব মহাদেব ও দেবী পার্বতীর বিবাহ সম্পন্ন হয়েছিল। তাই এই দিনটি শুধু উপবাস বা আচার পালনের নয়, বরং শিব ও শক্তির মিলনের দিবস হিসেবেও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। বিশ্বাস করা হয়, নিষ্ঠাভরে মহাশিবরাত্রির ব্রত পালন করলে জীবনের অজ্ঞতা ও অন্ধকার দূর হয়ে জ্ঞান ও কল্যাণের পথ উন্মুক্ত হয়।
মহাশিবরাত্রির ব্রতের নিয়ম
শিবরাত্রির আগের দিন নিরামিষ আহার গ্রহণ করার বিধান রয়েছে। শিবরাত্রির দিন ভোর থেকে উপবাস রেখে চার প্রহরে চারবার শিবলিঙ্গের অভিষেক করতে হয়। গঙ্গাজল, দুধ, দই, ঘি ও মধু দিয়ে স্নান করিয়ে বেলপাতা, ধুতরো, নীল অপরাজিতা, আকন্দ ফুল ও বেল ফল নিবেদন করা হয়। ‘ওঁ নমঃ শিবায়’ মহামন্ত্র জপ করে শিবের আরাধনা করা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়।
পরের দিন পারণ করে এবং অতিথি ভোজনের মাধ্যমে ব্রত সম্পূর্ণ করতে হয়। এই ব্রত পালনে মনোবাসনা পূরণ ও পুণ্যলাভ হয় বলে শাস্ত্রে উল্লেখ রয়েছে।
শিবলিঙ্গে জল ঢালার সময় কখন?
মহাশিবরাত্রির প্রধান আচার হল চতুর্দশী তিথির মধ্যে শিবলিঙ্গে জল বা অভিষেক করা। তিথির সময় অনুযায়ী ভক্তরা শিবপূজা ও জল ঢালার শুভ সময় নির্ধারণ করেন।
বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা মতে:
চতুর্দশী তিথি আরম্ভ:
২ ফাল্গুন, রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৫টা ৬ মিনিট
চতুর্দশী তিথি শেষ:
৩ ফাল্গুন, সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৫টা ৩৫ মিনিট
গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকা মতে:
চতুর্দশী তিথি আরম্ভ:
২ ফাল্গুন, রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টে ৪৮ মিনিট ২ সেকেন্ড
চতুর্দশী তিথি শেষ:
৩ ফাল্গুন, সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৫টা ৩২ মিনিট ২৪ সেকেন্ড
অতএব, ১৫ ফেব্রুয়ারি বিকেল থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি বিকেল পর্যন্ত চতুর্দশী তিথির মধ্যে শিবলিঙ্গে জল ঢালা ও অভিষেক করা শুভ। বিশেষ করে নিশীথ কালে (রাতের মধ্যভাগে) শিবপূজার মাহাত্ম্য সর্বাধিক বলে ধরা হয়।
মহাশিবরাত্রি কেবল একটি আচার নয়, এটি আত্মশুদ্ধি, সংযম ও ভক্তির মহোৎসব। শিব ও শক্তির এই মিলন তিথিতে ভক্তিভরে পূজা করলে জীবনে শান্তি, শক্তি ও সমৃদ্ধি লাভ হয়—এমনটাই বিশ্বাস শাস্ত্রের।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.