এই বছর মকর সংক্রান্তি পড়ছে ১৪ জানুয়ারি। জ্যোতিষ ও ধর্মীয় দিক থেকে দিনটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দীর্ঘ ২৩ বছর পর একই দিনে পড়েছে ষটতিলা একাদশী। এর আগে এমন বিরল যোগ দেখা গিয়েছিল ২০০৩ সালে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ভক্তদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন—বিশেষ করে খিচুড়ি খাওয়া ও দান করা নিয়ে।
মকর সংক্রান্তি মানেই তিল, গুড় ও চাল দিয়ে তৈরি খিচুড়ি রান্না, ভোগ নিবেদন এবং দানের রীতি। কিন্তু একাদশীর দিনে শাস্ত্রমতে চাল গ্রহণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তাই অনেকেই ভাবছেন, নিয়ম ভাঙা না করে এই বিশেষ দিনে খিচুড়ির রীতি কীভাবে পালন করা যাবে?
পঞ্জিকার মতে, মাঘ কৃষ্ণ একাদশী শুরু হচ্ছে ১৩ জানুয়ারি দুপুর ৩টা ১৭ মিনিটে এবং শেষ হচ্ছে ১৪ জানুয়ারি সন্ধে ৫টা ৫২ মিনিটে। অর্থাৎ ১৪ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৫টা ৫২ মিনিটের পর একাদশীর সমস্ত নিষেধ উঠে যাবে। সেই সময়ের পরেই খিচুড়ি রান্না করে দান করা যাবে এবং প্রসাদ হিসেবে গ্রহণ করলেও ধর্মীয় বিধি ভঙ্গ হবে না। এতে একদিকে একাদশীর নিয়ম মানা হবে, অন্যদিকে মকর সংক্রান্তির রীতিও অটুট থাকবে।
এই দিনটির আরেকটি বিশেষত্ব হল উত্তরায়ণ। শাস্ত্র অনুযায়ী, ১৪ জানুয়ারি সূর্য উত্তরায়ণে প্রবেশ করেন। এই সময়কে ‘দেবতার কাল’ বলা হয়। বিশ্বাস করা হয়, উত্তরায়ণের সময় করা স্নান, দান, জপ ও পূজার ফল বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। সেই কারণেই মকর সংক্রান্তির মাহাত্ম্য অন্যান্য দিনের তুলনায় অনেক বেশি।
মকর সংক্রান্তির সহজ পূজা-পদ্ধতি
সূর্যোদয়ের আগে গঙ্গাজল ও তিল মিশিয়ে স্নান করুন
তামার লোটায় জল, লাল ফুল, তিল ও অক্ষত দিয়ে সূর্যকে অর্ঘ্য দিন
‘ওঁ সূর্যায় নমঃ’ মন্ত্র জপ করুন
তিল, গুড়, চাল, বস্ত্র বা অর্থ দান করলে বিশেষ শুভ ফল লাভ হয়
সংক্রান্তির দিনে পবিত্র নদীতে স্নান করাকে অত্যন্ত পুণ্যদায়ক বলা হয়। তবে বাড়িতে থাকলে গঙ্গাজল মিশিয়ে জলেই স্নান করলেও সেই পুণ্য লাভ করা যায়।
সব মিলিয়ে, এই বছরের মকর সংক্রান্তি শুধু উৎসব নয়, বরং তিথি, ত্যাগ ও তত্ত্বের এক বিরল মিলন—যা ভক্তদের জন্য এক বিশেষ আধ্যাত্মিক সুযোগ নিয়ে এসেছে।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.