চিজ় এখন আর শুধু পিৎজা বা স্যান্ডউইচের উপকরণ নয়। পাস্তা, বেকড খাবার, বিভিন্ন স্ন্যাকস থেকে শুরু করে নানা ধরনের ফিউশন রান্নায় চিজ়ের ব্যবহার ক্রমশ বেড়েই চলেছে। তবে বাজারে পাওয়া প্রসেসড চিজ়ের গুণমান নিয়ে অনেকের মধ্যেই সংশয় তৈরি হয়েছে। খাদ্যপণ্যে ভেজাল মেশানোর অভিযোগ এবং দুধজাত পণ্যের বিশুদ্ধতা নিয়ে উদ্বেগের কারণে অনেকেই এখন বিকল্প খুঁজছেন।
এই পরিস্থিতিতে ঘরেই চিজ় তৈরি করা হতে পারে একটি সহজ ও নিরাপদ সমাধান। সামান্য কিছু উপকরণ এবং অল্প সময় ব্যয় করলেই তৈরি করা যায় সুস্বাদু ও মোলায়েম চিজ়, যা বিভিন্ন রান্নায় ব্যবহার করা সম্ভব।
কী কী লাগবে?

*৫০০ মিলিলিটার দুধ
*১ চামচ ভিনিগার
*১ চামচ মাখন
*২-৩ চামচ ছানার জল
*স্বাদ অনুযায়ী নুন
*এক চিমটে হলুদ গুঁড়ো
*১ চামচ আগর আগর পাউডার
কী ভাবে তৈরি করবেন?
প্রথমে একটি পাত্রে দুধ হালকা আঁচে গরম করুন। দুধ অতিরিক্ত ফোটানোর প্রয়োজন নেই। গরম দুধে ভিনিগার মিশিয়ে ধীরে ধীরে নাড়তে থাকুন। কিছুক্ষণের মধ্যেই দুধ কেটে ছানা আলাদা হয়ে যাবে।
এর পর ছানাটি একটি ছাঁকনির সাহায্যে ছেঁকে নিন এবং পরিষ্কার জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এতে ভিনিগারের তীব্র গন্ধ কমে যাবে। অতিরিক্ত জল ঝরিয়ে নেওয়ার পর ছানাকে ব্লেন্ডারে দিন।
ছানার সঙ্গে মাখন, ছানার জল, সামান্য দুধ, নুন এবং হলুদ গুঁড়ো যোগ করে মসৃণ মিশ্রণ তৈরি করুন। এই মিশ্রণে আগর আগর পাউডার মিশিয়ে মাঝারি আঁচে কয়েক মিনিট নাড়তে থাকুন, যাতে সব উপকরণ ভালোভাবে একসঙ্গে মিশে যায়।
মিশ্রণটি ঘন হয়ে এলে একটি সমতল পাত্র বা ট্রেতে ঢেলে ছড়িয়ে দিন। ঘরের তাপমাত্রায় কিছুটা ঠান্ডা হওয়ার পর ফ্রিজে রেখে দিন। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এটি জমাট বেঁধে চিজ়ের আকার নেবে।
ঘরে তৈরি চিজ়ের সুবিধা
বাড়িতে তৈরি চিজ়ের অন্যতম বড় সুবিধা হল এতে অপ্রয়োজনীয় সংরক্ষণকারী রাসায়নিক, কৃত্রিম রং বা অতিরিক্ত তেল ব্যবহার করতে হয় না। ফলে এটি তুলনামূলকভাবে বেশি স্বাস্থ্যসম্মত হতে পারে।
এ ছাড়া নিজের পছন্দ অনুযায়ী নুন বা অন্যান্য উপকরণের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা যায়। শিশুদের খাবারে ব্যবহার করার ক্ষেত্রেও অনেকের কাছে এটি বেশি নির্ভরযোগ্য বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হয়।
স্বাদ ও পুষ্টির ভারসাম্য বজায় রেখে নিরাপদ উপায়ে চিজ় খেতে চাইলে ঘরোয়া এই পদ্ধতি সহজেই অনুসরণ করা যেতে পারে। অল্প সময় ও কম খরচে তৈরি এই চিজ় স্যান্ডউইচ, পাস্তা, সালাদ কিংবা নানা ধরনের রান্নায় ব্যবহার করা সম্ভব।