অনলাইন ম্যাট্রিমোনিয়াল ওয়েবসাইটে পরিচয়, তারপর প্রেম—আর সেই সম্পর্কের আড়ালেই লুকিয়ে ছিল ভয়ংকর প্রতারণার ছক। বউকে বোন সাজিয়ে এক তরুণীর কাছ থেকে ১ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বেঙ্গালুরুতে কর্মরত এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যেই পুলিশ এই ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তি, তাঁর স্ত্রী এবং বাবার বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছে।
ঘটনার সূত্রপাত একটি পাত্রপাত্রীর ওয়েবসাইট থেকে। সেখানে বছর ২৯-এর এক তরুণীর সঙ্গে আলাপ হয় বিজয় রাজ গৌড়া নামে এক ব্যক্তির। ধীরে ধীরে কথাবার্তা থেকে সম্পর্ক গভীর হয়। নিজেকে একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দেন বিজয়। দাবি করেন, তাঁর বিশাল ব্যবসা রয়েছে এবং তিনি বিপুল সম্পত্তির মালিক।
সম্পর্ক আরও বিশ্বাসযোগ্য করতে বিজয় একসময় তরুণীর সঙ্গে তাঁর ‘বোন’-এর পরিচয় করিয়ে দেন। স্বাভাবিকভাবেই তরুণী ধরে নেন, যাঁকে তিনি বিয়ে করতে চলেছেন, তাঁর হবু ননদের সঙ্গেই পরিচয় হচ্ছে। কিন্তু পরে জানা যায়, বোন বলে যাঁকে পরিচয় করানো হয়েছিল, তিনি আসলে বিজয়ের স্ত্রী সৌম্যা। সেই সময় অবশ্য এই সত্য অজানাই ছিল তরুণীর কাছে।
এর মধ্যেই বিজয় দাবি করেন, তাঁর সংস্থার সমস্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) ফ্রিজ করে দিয়েছে। ব্যবসায়িক জটিলতার কথা বলে তিনি তরুণীকে বেশ কিছু নথিপত্রও দেখান। সেই কাগজপত্র দেখে তরুণীর বিশ্বাস আরও দৃঢ় হয় যে বিজয় সত্যিই বিপদে পড়েছেন।
এই সুযোগেই বিজয় আর্থিক সাহায্যের আবেদন জানান। বলেন, আপাতত ব্যবসা চালাতে তাঁর জরুরি টাকার প্রয়োজন। প্রতিশ্রুতি দেন, খুব শিগগিরই তিনি সব টাকা ফিরিয়ে দেবেন। শুধু তাই নয়, তরুণীর বন্ধুদের কাছ থেকেও সাহায্য নিলে তাঁর উপকার হবে বলেও অনুরোধ করেন।
বিশ্বাসের সম্পর্কের জেরে ওই তরুণী এবং তাঁর কয়েকজন বন্ধু মিলিয়ে ধাপে ধাপে মোট ১ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকা তুলে দেন বিজয়ের হাতে। সময় গড়াতে থাকে, কিন্তু টাকা ফেরত আসার কোনও লক্ষণ দেখা যায় না।
পরবর্তীতে যখন তরুণী ও তাঁর বন্ধুরা টাকা ফেরত চাইতে শুরু করেন, তখনই পরিস্থিতি বদলে যায়। অভিযোগ, টাকা ফেরত দেওয়ার বদলে বিজয় তাঁদের হুমকি দিতে শুরু করেন। তখনই পুরো বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ দানা বাঁধে এবং নিজেদের প্রতারিত মনে করে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন তাঁরা।
পুলিশ তদন্তে নেমে জানতে পারে, পুরো পরিকল্পনাটিই ছিল সাজানো। স্ত্রীকে বোন হিসেবে পরিচয় করানো, ভুয়ো ব্যবসায়িক সমস্যার গল্প এবং ইডির নাম করে ভয় দেখানো—সব মিলিয়ে এটি ছিল একটি সুপরিকল্পিত প্রতারণা। তদন্তের ভিত্তিতে পুলিশ বিজয় রাজ গৌড়া, তাঁর স্ত্রী সৌম্যা এবং বিজয়ের বাবার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করেছে।
এই ঘটনা ফের একবার অনলাইন ম্যাট্রিমোনিয়াল প্ল্যাটফর্মে পরিচয়ের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরল। বিশ্বাসের সুযোগ নিয়েই কীভাবে লক্ষ লক্ষ টাকার প্রতারণা করা যায়, তারই এক ভয়াবহ উদাহরণ হয়ে থাকল এই ঘটনা।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.