জামাইষষ্ঠী মানেই বাঙালির ঘরে উৎসবের আমেজ আর পাতে নানা রকম সুস্বাদু খাবারের সমারোহ। ইলিশ, খাসির মাংস, পোলাও, চাটনি থেকে শুরু করে দই-মিষ্টি— একদিনের জন্য খাদ্যতালিকায় থাকে না কোনও বিধিনিষেধ। তবে এই অতিরিক্ত খাওয়াদাওয়ার পর অনেকেরই দেখা দেয় বুকজ্বালা, গ্যাস, পেট ফাঁপা কিংবা বদহজমের মতো সমস্যা। সবসময় হাতের কাছে অ্যান্টাসিড বা হজমের ওষুধ নাও থাকতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে কিছু সহজ ঘরোয়া উপায়ই এনে দিতে পারে দ্রুত স্বস্তি।
মৌরির জলে মিলতে পারে আরাম
খাবার হজমে মৌরির ব্যবহার বহুদিনের। ভারী খাবারের পর এক গ্লাস মৌরি ভেজানো জল পান করলে পেটের অস্বস্তি অনেকটাই কমতে পারে। মৌরির প্রাকৃতিক উপাদান হজমে সহায়তা করে এবং গ্যাস ও অ্যাসিডিটির সমস্যা কমাতে সাহায্য করে। আরও ভালো ফল পেতে এতে সামান্য বিটনুন মিশিয়ে নেওয়া যেতে পারে।

আদা চা কমাতে পারে বদহজম
আদা দীর্ঘদিন ধরেই হজমের সমস্যার ঘরোয়া সমাধান হিসেবে পরিচিত। এক কাপ লিকার চায়ে কয়েক টুকরো আদা ফুটিয়ে পান করলে বমিভাব, গ্যাস এবং পেট ফাঁপার মতো সমস্যা কমতে পারে। চাইলে চায়ের সঙ্গে কয়েকটি পুদিনা পাতাও যোগ করা যায়। এতে হজম আরও সহজ হয় এবং শরীরও সতেজ থাকে।
পুদিনা জলও হতে পারে কার্যকর
পুদিনা পাতার শীতল ও আরামদায়ক গুণ হজমের সমস্যায় উপকারী বলে মনে করা হয়। কয়েকটি পুদিনা পাতা জলে ভিজিয়ে রেখে সেই জল ছেঁকে পান করলে পেটের ভারীভাব ও অস্বস্তি কিছুটা কমতে পারে। বিশেষ করে অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত খাবারের পর এই পানীয় উপকার দিতে পারে।
ঘরোয়া হজমি বানিয়ে রাখুন
রান্নাঘরের কয়েকটি সাধারণ উপাদান দিয়েই তৈরি করা যায় কার্যকর হজমি। জিরে, ধনে, জোয়ান ও সামান্য হিং একসঙ্গে বেটে নিয়ে তাতে আদা মিশিয়ে নিলে তৈরি হয়ে যায় প্রাকৃতিক হজমি। খাবারের পর অল্প পরিমাণে এটি খেলে গ্যাস ও অ্যাসিডিটির সমস্যা কমতে পারে। নিয়মিত ব্যবহার করলে হজমশক্তিও ভালো রাখতে সাহায্য করতে পারে।
অরিগ্যানো ও রক সল্টের পানীয়
যাদের রান্নাঘরে অরিগ্যানো ও রক সল্ট রয়েছে, তারা ফুটন্ত জলে এই দুটি উপাদান মিশিয়ে হালকা গরম অবস্থায় পান করতে পারেন। অনেকের মতে, এটি গ্যাস ও পেটের অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করে। যদিও এই উপকরণ সব বাড়িতে সহজলভ্য নয়, তবে প্রয়োজনে সংগ্রহ করে রাখা যেতে পারে।
সব কিছুর আগে গরম জল
হজমের সমস্যা শুরু হলে সবচেয়ে সহজ এবং দ্রুত পাওয়া যায় যে উপায়টি, তা হল ঈষদুষ্ণ জল। ধীরে ধীরে এক গ্লাস গরম জল পান করলে অনেক সময় পেটের ফাঁপাভাব, অস্বস্তি ও হালকা অ্যাসিডিটির সমস্যা কমে যায়। তাই অন্য কোনও ঘরোয়া উপায় প্রয়োগের আগে গরম জল পান করাই হতে পারে প্রথম পদক্ষেপ।
কিছু সতর্কতাও জরুরি
ঘরোয়া উপায়গুলি সাময়িক স্বস্তি দিলেও যদি বুকজ্বালা, পেটব্যথা বা বমিভাব দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকে, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। পাশাপাশি উৎসবের দিনেও পরিমিত খাওয়ার অভ্যাস বজায় রাখলে এ ধরনের সমস্যা অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।
উৎসবের আনন্দ উপভোগ করুন নিশ্চিন্তে, তবে শরীরের কথাও শুনুন। সামান্য সচেতনতা এবং কয়েকটি সহজ ঘরোয়া উপায়ই ভুরিভোজের পর হজমজনিত অস্বস্তি থেকে মুক্তি দিতে পারে।
Sumi has been waiting lifestyle, vastu Tips since 2026.