কর্মসূত্রে আমেরিকায় থাকলেও ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে যে তাঁর সম্পর্ক আজও অটুট, তা বারবার বুঝিয়ে দিয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। দুর্গাপুজো ও দশেরার আবহে এবারও নিজের বাড়িতে ভারতীয় রীতি মেনে পুজোর আয়োজন করলেন প্রিয়াঙ্কা ও তাঁর স্বামী, মার্কিন পপ তারকা নিক জোনাস। তবে এবারের পুজোর সবচেয়ে আকর্ষণীয় মুহূর্ত ছিল তাঁদের একমাত্র মেয়ে মালতী মেরি চোপড়া জোনাসকে ঘিরে। মেয়েকে দেবী দুর্গার প্রতীক হিসেবে পুজো করে কন্যাপুজোর রীতি পালন করলেন তারকা দম্পতি।
নবরাত্রি ও দশেরার সময়ে সনাতন ধর্মে কন্যাপুজোর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। এই রীতিতে ছোট্ট কন্যাসন্তানকে দেবী দুর্গার প্রতীক হিসেবে পুজো করা হয়। সেই প্রথা মেনেই বাড়িতে কন্যাপুজোর আয়োজন করেন প্রিয়াঙ্কা ও নিক। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাগ করে নেওয়া ছবিতে দেখা গিয়েছে, অত্যন্ত ভক্তিভরে মেয়ে মালতীর পা ধুইয়ে দিচ্ছেন তাঁরা। পুজোর নানা মুহূর্তে মেয়েকে ঘিরে তাঁদের আন্তরিকতা ও ভালোবাসাও ধরা পড়েছে ছবিতে।
কন্যাপুজোর জন্য মালতীকে সাজানো হয়েছিল সাদা পোশাকে। গলায় ছিল ‘জয় মাতাদি’ লেখা লাল উত্তরীয়। হাতে রঙিন কাচের চুড়ি এবং মাথায় দু’টি ছোট্ট ঝুঁটি—সব মিলিয়ে খুদেকে দেখতে লাগছিল বেশ মিষ্টি। বাড়ির মন্দিরে মা-বাবার মাঝে বসে কখনও বিস্মিত চোখে পুজো দেখছিল সে, আবার কখনও মেয়ের হাতে পবিত্র লাল সুতো বা মৌলি বেঁধে দিতে দেখা যায় প্রিয়াঙ্কাকে।
এই বিশেষ মুহূর্তগুলির ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাগ করে নিয়ে আবেগঘন বার্তাও দিয়েছেন অভিনেত্রী। তাঁর প্রার্থনা, মা দুর্গার মহাশক্তি এবং দশেরায় করা প্রার্থনার পবিত্রতা যেন বর্তমান, ভবিষ্যৎ এবং চিরকাল তাঁদের সঙ্গে থাকে।
প্রিয়াঙ্কা বরাবরই মেয়েকে ভারতীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত করে তোলার বিষয়ে সচেতন। বিদেশের মাটিতে বড় হলেও মালতী যাতে নিজের শিকড়ের সঙ্গে পরিচিত থাকে, সেই চেষ্টাই করেন অভিনেত্রী। এর আগেও সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন মুহূর্ত ভাগ করে নিয়েছিলেন তিনি। গত আগস্টে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে ছোট্ট মালতীকে পবিত্র শ্লোক উচ্চারণ শেখাতে দেখা গিয়েছিল প্রিয়াঙ্কাকে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে সারোগেসির মাধ্যমে কন্যাসন্তান মালতীর মা-বাবা হন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া ও নিক জোনাস। তারপর থেকে মেয়েকে ঘিরে তাঁদের নানা মুহূর্ত প্রায়ই উঠে আসে সোশ্যাল মিডিয়ায়। এবার কন্যাপুজোর এই ছবি আরও একবার তুলে ধরল তারকা দম্পতির পারিবারিক জীবনের এক আন্তরিক দিক। হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে থাকলেও ভারতীয় সংস্কৃতি ও ধর্মীয় ঐতিহ্যকে নিজেদের জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে রেখেছেন তাঁরা।


Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.