দুর্গাপুজো মানেই বাঙালির কাছে আবেগ, আনন্দ আর নস্টালজিয়ার এক মেলবন্ধন। কারও কাছে পুজো মানে নতুন জামাকাপড়, কারও কাছে প্যান্ডেল হপিং, আবার কারও কাছে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা আর হইহুল্লোড়। তবে পুজোর আনন্দের মাঝেও কিছু স্মৃতি থাকে, যা প্রতি বছর মনকে আবেগপ্রবণ করে তোলে। তেমনই এক ব্যক্তিগত স্মৃতির কথা ভাগ করে নিলেন অভিনেতা। পুজো এলেই আজও তাঁর মনে পড়ে মায়ের কথা, বিশেষ করে পুজোর সময় মায়ের হাতে পাওয়া সেই ১০ থেকে ২০ টাকা।
অনেকেই দুর্গাপুজোর ছুটিতে কলকাতা ছেড়ে অন্য কোথাও ঘুরতে যেতে পছন্দ করেন। কিন্তু অভিনেতার পছন্দ একেবারেই আলাদা। পুজোর সময় কলকাতা ছেড়ে অন্য কোথাও থাকতে চান না তিনি। প্রত্যেক বছর নবমী পর্যন্ত কাজ করেন। সকালবেলা কাজ সামলে রাতের সময়টা কাটে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিয়ে। প্রতি বছর পুজোর দিনগুলিতে এই চেনা রুটিনই উপভোগ করেন তিনি।
তাঁর কথায়, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক কিছুই বদলে যায়। জীবনের কোনও একটা সময়ে যা যথার্থ ছিল, সেই সময় তা ঘটে গিয়েছে। এখন সময় বদলেছে, তাই নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াটাই জীবনের নিয়ম। সবকিছু নিজের ইচ্ছেমতো হয় না। কেউ সহজেই পরিবর্তন মেনে নিতে পারেন, আবার কারও ক্ষেত্রে সেই মানিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াটা একটু কঠিন। তবে জীবন কখনও থেমে থাকে না। তাই নতুন যা আসবে, তাকে গ্রহণ করেই এগিয়ে যেতে হবে।
অভিনেতার পুজোর পরিকল্পনাতেও রয়েছে চেনা বাঙালিয়ানার ছোঁয়া। সপ্তমী ও অষ্টমীতে চলে পুজো পরিক্রমা। নবমীর রাত থেকে শুরু হয় বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা। দশমীতেও বন্ধুদের সঙ্গে বিসর্জনে গিয়ে জমিয়ে নাচ করেন তিনি। খাওয়াদাওয়ার ক্ষেত্রেও কোনও বিশেষ বিধিনিষেধ নেই তাঁর। সারা বছর খুব কড়া ডায়েটে থাকেন না। বরং নিজের পছন্দমতো খাবার খেতে ভালোবাসেন। আর সেই কারণেই নিয়মিত ওয়ার্কআউট করেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
পুজোর খাবারের তালিকায় তাঁর পছন্দের জায়গা জুড়ে রয়েছে রাস্তার ধারের খাবার। একদিন তেলচপচপে এগ রোল, সঙ্গে রাস্তার ধারের চাউমিন খাওয়ার ইচ্ছা থাকেই। উত্তর কলকাতার বিভিন্ন ধরনের চপও তাঁর বিশেষ পছন্দের। একসঙ্গে ছ-সাত রকমের চপ খেয়ে নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয়, অষ্টমীর সকালে লুচি-ছোলার ডাল এবং একবেলা মাটন খাওয়া চাই-ই চাই। সব মিলিয়ে পুজোর দিনগুলিতে জমিয়ে খাওয়াদাওয়াই তাঁর অন্যতম আনন্দ।
পুজো মানেই নতুন পোশাকের বাহার। কিন্তু অভিনেতার ক্ষেত্রে এখন আর আলাদা করে পুজোর শপিং করার তেমন কোনও পরিকল্পনা থাকে না। কোন দিন কী পোশাক পরবেন, তা নিয়ে বিশেষ মাথা ঘামান না তিনি। কারণ, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়ার সময় পাজামা-গেঞ্জিতেই স্বচ্ছন্দ বোধ করেন। তাই আলাদা করে শপিং করার প্রয়োজন অনুভব করেন না। তবে পুজোর পোশাকের ক্ষেত্রে একটি বিষয় একেবারেই বদলাবে না। পুজোর দিনগুলিতে ধুতি-পাঞ্জাবি তাঁর চাই-ই চাই। অবশ্য চিরাচরিত পোশাকের সঙ্গে নতুনত্ব আনতেও ভালোবাসেন তিনি। গত বছর পাঞ্জাবির সঙ্গে বুটস, বুটকাট প্যান্ট, উত্তরীয় ও সানগ্লাস মিলিয়ে একটি ফিউশন লুক তৈরি করেছিলেন। নিজের পোশাক নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে ভালোবাসলেও এথনিক পোশাকের প্রতি তাঁর টান অটুট।
পুজো নিয়ে অভিনেতার জীবনে রয়েছে অসংখ্য স্মৃতি। তবে তার মধ্যে সবচেয়ে আবেগঘন স্মৃতিগুলির একটি জুড়ে রয়েছে তাঁর মা। সময় যত এগিয়েছে, বয়স যত বেড়েছে, ততই বদলেছে জীবন। বেড়েছে জিনিসপত্রের দাম, বদলেছে টাকার মূল্যও। কিন্তু মায়ের কাছে ছেলে যেন সেই ছোট্টটিই থেকে গিয়েছিলেন। ২০১৮ সাল পর্যন্ত বেঁচে থাকা মা প্রতি দুর্গাপুজোয় তাঁকে ১০ থেকে ২০ টাকা দিতেন। মায়ের বিশ্বাস ছিল, ওই সামান্য টাকাতেই পুজোর জন্য নিজের পছন্দমতো কিছু কিনে নেওয়া যাবে। টাকা দেওয়ার সময় মায়ের সেই কথাটাও আজও মনে পড়ে অভিনেতার—নিজের মতো কিছু একটা কিনে নিতে বলতেন তিনি।
আজ জীবনের অনেক কিছু বদলে গেলেও মায়ের দেওয়া সেই সামান্য টাকার স্মৃতি ভোলেননি অভিনেতা। বরং পুজো এলেই সেই স্মৃতি আরও বেশি করে মনে পড়ে। তাঁর কাছে পুজোর আনন্দের সঙ্গে মিশে রয়েছে মাকে হারানোর শূন্যতা। তাই পুজোর সময় আর অন্য কোনও কিছুর অভাব তেমন অনুভব না করলেও মায়ের অভাবটা আজও তাঁকে তাড়িয়ে বেড়ায়।

আসলে পুজো শুধু উৎসব নয়, পুজো জুড়ে থাকে ফেলে আসা দিনের স্মৃতি, প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্ত আর হারিয়ে যাওয়া মানুষদের প্রতি একরাশ ভালোবাসা। সময়ের সঙ্গে অনেক কিছু মেনে নেওয়া গেলেও কিছু স্মৃতি কখনও পুরনো হয় না। অভিনেতার কাছে মায়ের দেওয়া সেই ১০-২০ টাকা তাই আজও অমূল্য।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.