৬০-এর পর পায়ের শক্তি কতটা আছে? ঘরেই ‘ওয়াল সিট’ পরীক্ষায় মিলতে পারে প্রাথমিক ধারণা

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের নানা পরিবর্তনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে পেশির শক্তিতে। বিশেষ করে ৬০ বছরের পর পায়ের পেশি আগের মতো শক্তিশালী থাকে না। ফলে সিঁড়ি ওঠা-নামা, চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ানো, দীর্ঘক্ষণ হাঁটা বা ভারসাম্য বজায় রাখার মতো দৈনন্দিন কাজও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। তাই সময় থাকতে পায়ের কার্যক্ষমতা সম্পর্কে ধারণা থাকা জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনও জটিল যন্ত্র বা চিকিৎসাকেন্দ্রে না গিয়েও বাড়িতে একটি সহজ পরীক্ষার মাধ্যমে পায়ের পেশির শক্তির প্রাথমিক মূল্যায়ন করা সম্ভব। এই পরীক্ষার নাম ওয়াল সিট (Wall Sit)। এটি মূলত পায়ের পেশি, নিতম্ব এবং শরীরের মধ্যভাগের শক্তি ও সহনশীলতা যাচাই করতে সাহায্য করে।

কীভাবে করবেন ওয়াল সিট পরীক্ষা?

৬০-এর পর পায়ের শক্তি কতটা আছে? ঘরেই ‘ওয়াল সিট’ পরীক্ষায় মিলতে পারে প্রাথমিক ধারণা
৬০-এর পর পায়ের শক্তি কতটা আছে? ঘরেই ‘ওয়াল সিট’ পরীক্ষায় মিলতে পারে প্রাথমিক ধারণা

এই পরীক্ষা করার জন্য একটি সমতল দেওয়াল বেছে নিন।

*দেওয়ালের সঙ্গে পিঠ ঠেকিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়ান।
*ধীরে ধীরে শরীর নিচে নামান, যেন একটি অদৃশ্য চেয়ারে বসে আছেন।
*হাঁটু প্রায় ৯০ ডিগ্রি কোণে বাঁকানো থাকবে এবং ঊরু মেঝের সমান্তরালে রাখার চেষ্টা করুন।
*এবার সময় গোনা শুরু করুন এবং যতক্ষণ সম্ভব একই ভঙ্গি বজায় রাখুন।

কতক্ষণ ধরে রাখতে পারলে কী বোঝায়?

প্রশিক্ষকদের মতে, সময় ধরে রাখার ক্ষমতা থেকে পায়ের শক্তি সম্পর্কে একটি ধারণা পাওয়া যায়।

*৯০ সেকেন্ড বা তার বেশি: পায়ের শক্তি ও সহনশীলতা খুব ভালো।
*৩০ থেকে ৪০ সেকেন্ড: গড় মানের শক্তি বলে ধরা যায়।
*২০ সেকেন্ডের কম: পায়ের পেশি আরও শক্তিশালী করার দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন।

তবে এই সময়সীমা একটি সাধারণ নির্দেশক মাত্র। ব্যক্তিভেদে শারীরিক সক্ষমতা, ওজন, স্বাস্থ্য এবং ব্যায়ামের অভ্যাসের উপর ফল ভিন্ন হতে পারে।

কেন উপকারী এই পরীক্ষা?

ওয়াল সিট করার সময় শরীরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পেশি একসঙ্গে কাজ করে। বিশেষ করে ঊরুর সামনের পেশি (কোয়াড্রিসেপ), নিতম্বের পেশি (গ্লুটস) এবং শরীরের মধ্যভাগের (কোর) পেশিগুলির শক্তি ও সহনশীলতা এতে বোঝা যায়। পাশাপাশি হাঁটুর স্থিতিশীলতা সম্পর্কেও প্রাথমিক ধারণা মেলে।
নিয়মিত সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন এই অনুশীলন করলে পায়ের পেশির শক্তি ও সহনশীলতা ধীরে ধীরে উন্নত হতে পারে।

সঠিক ভঙ্গি বজায় রাখা জরুরি

শুধু বেশি সময় ধরে রাখতে পারলেই যে ফল ভালো হবে, তা নয়। ব্যায়ামের সময় কয়েকটি বিষয় অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে।

*পিঠ পুরো সময় দেওয়ালের সঙ্গে লাগানো থাকবে।
*হাঁটু ও পায়ের অবস্থান সঠিক রাখতে হবে।
*শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখতে হবে।
*শরীরে অস্বস্তি বা ব্যথা অনুভব করলে সঙ্গে সঙ্গে থেমে যেতে হবে।

কারা সতর্ক থাকবেন?

যাঁদের হাঁটুতে দীর্ঘদিনের ব্যথা, অস্টিওআর্থ্রাইটিস, কোমরের সমস্যা বা ভারসাম্য বজায় রাখতে অসুবিধা রয়েছে, তাঁদের এই পরীক্ষা বা অনুশীলন শুরু করার আগে চিকিৎসক বা ফিজ়িওথেরাপিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ওয়াল সিট কোনও রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষা নয়। তবে এটি পায়ের শক্তি সম্পর্কে একটি সহজ প্রাথমিক ধারণা দিতে পারে এবং নিয়মিত শরীরচর্চার প্রয়োজনীয়তা বোঝাতেও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক