জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী সূর্য এবং রাহুর সম্পর্ক কখনওই মসৃণ নয়। এই দুই গ্রহকে স্বভাবগতভাবে শত্রু বলে মনে করা হয়। ফলে যখন একই রাশিতে সূর্য ও রাহুর অবস্থান ঘটে, তখন তা গ্রহণযোগ সৃষ্টি করে। চলতি বছরে সেই গুরুত্বপূর্ণ জ্যোতিষীয় ঘটনা ঘটতে চলেছে ফেব্রুয়ারি মাসে।
আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি সূর্য কুম্ভ রাশিতে প্রবেশ করবে, যেখানে ইতিমধ্যেই অবস্থান করছে ছায়াগ্রহ রাহু। এর ফলে তৈরি হবে রাহু-সূর্যের সংযোগজনিত গ্রহণ, যার প্রভাব শুধু ফেব্রুয়ারিতেই নয়, মার্চ মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত অনুভূত হতে পারে। এই সময়ে বিশেষ করে চারটি রাশির জাতক-জাতিকাদের বাড়তি সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন জ্যোতিষীরা।
চলুন জেনে নেওয়া যাক কোন রাশির উপর কী প্রভাব পড়তে পারে এবং কোন প্রতিকারগুলি মেনে চললে ক্ষতিকর প্রভাব কিছুটা হলেও কমানো সম্ভব।
কর্কট রাশি
কর্কট রাশির ক্ষেত্রে এই গ্রহণ অষ্টম ঘরে ঘটছে। ফলে হঠাৎ বাধা, অপ্রত্যাশিত সমস্যা ও মানসিক অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। কর্মক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বারবার ভাবা জরুরি। এই সময়ে আর্থিক চাপ বাড়তে পারে এবং সঞ্চয় করা অর্থ খরচ হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
প্রতিকার:
নিয়মিত শিবের উপাসনা করুন। ধ্যান ও প্রার্থনার মাধ্যমে মানসিক শান্তি বজায় রাখার চেষ্টা করুন।
কন্যা রাশি
এই সময় কন্যা রাশির জাতক-জাতিকারা মানসিক চাপ ও উদ্বেগে ভুগতে পারেন। সামাজিক ক্ষেত্রে কথাবার্তায় সংযম না রাখলে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হতে পারে। কর্মক্ষেত্রে অফিস পলিটিক্স বা বিবাদ থেকে দূরে থাকাই বুদ্ধিমানের।
প্রতিকার:
গম বা গুড় দান করলে শুভ ফল মিলতে পারে। সম্ভব হলে বৃহস্পতিবার বা শনিবার দান করুন।
বৃশ্চিক রাশি
বৃশ্চিক রাশির জাতকদের জন্য এই সময় পারিবারিক দিক থেকে কিছুটা সংবেদনশীল। বিশেষ করে মায়ের স্বাস্থ্যের দিকে নজর রাখা জরুরি। বিনিয়োগ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভালো করে বিচার করুন। আইনি বিষয় বা আদালতের ঝামেলা তৈরি হতে পারে। গাড়ি চালানোর সময় অতিরিক্ত সতর্কতা প্রয়োজন।
প্রতিকার:
প্রতিদিন সূর্য দেবতার মন্ত্র জপ করুন এবং সকালে জল দিয়ে সূর্যকে অর্ঘ্য দিন।
মীন রাশি
মীন রাশির জাতক-জাতিকারা এই সময় শক্তি ও আত্মবিশ্বাসের অভাব অনুভব করতে পারেন। কেরিয়ারে কিছু বাধা আসতে পারে এবং আর্থিক সিদ্ধান্তে ভুল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পড়ুয়াদের মনোযোগ পড়াশোনায় কমতে পারে। পরিবারের বয়স্ক সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার সময় সংযত থাকা জরুরি।
প্রতিকার:
লাল রঙের পোশাক বা কাপড় দান করলে ইতিবাচক ফল পাওয়া যেতে পারে।
পাঠকদের জন্য বিশেষ দ্রষ্টব্য
এই প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণভাবে জ্যোতিষশাস্ত্রের গণনা ও বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে লেখা। এখানে উল্লিখিত ভবিষ্যদ্বাণীগুলি যে ভবিষ্যতে অবশ্যই সত্য প্রমাণিত হবে, এমন কোনও দাবি করা হচ্ছে না। ব্যক্তিগত সমস্যা বা জ্যোতিষ সংক্রান্ত প্রশ্নের জন্য অভিজ্ঞ ও পেশাদার জ্যোতিষীর সঙ্গে পরামর্শ করাই শ্রেয়।

Hello, I am Biplab Baroi. I have been working in blogging for more than four years. I began my journey in the digital media industry in 2021.
Along with covering daily news and current events, I write articles on tech news, smartphones, and astrology. My work is created strictly for educational purposes use only.