১৯৯০ সালের সুপারহিট ছবি ‘আশিকী’–র মাধ্যমে রাতারাতি জনপ্রিয়তা পাওয়া অভিনেতা রাহুল রায় আবারও চর্চার কেন্দ্রে। তবে এবারের আলোচনার কারণ কোনও নতুন সিনেমা নয়, বরং একটি ভাইরাল ভিডিও। সেই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ট্রলি ব্যাগ হাতে এক দুর্গন্ধময়, আবর্জনায় ভরা রাস্তা দিয়ে হাঁটছেন তিনি। দৃশ্যটি দেখে অনেক অনুরাগীই হতবাক এবং আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন।
ভিডিওতে ধরা পড়েছে, একটি এবড়োখেবড়ো, পাথুরে রাস্তা দিয়ে ভারী ট্রলি টেনে নিয়ে যাচ্ছেন ৫৯ বছর বয়সী এই অভিনেতা। চারপাশে ছড়িয়ে রয়েছে ময়লা-আবর্জনা, পরিবেশ এতটাই দুর্গন্ধময় যে আশপাশের মানুষজন নাক চেপে চলাফেরা করছেন। সাধারণ টি-শার্ট ও জিন্স পরিহিত রাহুলকে দেখে অনেকেই মনে করেছেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হয়তো তাঁর জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন এসেছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ভিডিও ঘিরে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ লিখেছেন, একসময়ের জনপ্রিয় নায়ক এবং বিগ বস সিজন ১-এর বিজয়ীকে এভাবে দেখে খারাপ লাগছে। আবার কেউ মন্তব্য করেছেন, “জীবনে এমন পরিস্থিতি যেন কাউকে না দেখতে হয়।” অর্থাৎ, অনেকেই ঘটনাটিকে অভিনেতার ব্যক্তিগত অবস্থার অবনতি হিসেবে ধরে নিয়েছিলেন।
তবে বাস্তব ঘটনা একেবারেই ভিন্ন। জানা গেছে, মুম্বইয়ের ভারসোভা থেকে মাড আইল্যান্ড যাওয়ার রাস্তায় বর্তমানে সৌন্দর্যায়ন ও সংরক্ষণের কাজ চলছে। সেই কারণেই রাস্তার অবস্থা এত খারাপ—খোঁড়াখুঁড়ি, পাথর ও আবর্জনায় ভর্তি পথ। ফলে যাঁদের ওই পথে যাতায়াত করতে হচ্ছে, তাঁদের এই ধরনের অসুবিধার মধ্য দিয়েই যেতে হচ্ছে।
রাহুল রায়ও সেদিন সেই একই পথে মাড আইল্যান্ডের জেটির দিকে যাচ্ছিলেন। উল্লেখ্য, মুম্বইয়ের চলচ্চিত্র জগতের জন্য মাড আইল্যান্ড একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। এখানে বহু সিনেমা ও সিরিয়ালের শুটিং হয়, পাশাপাশি অনেক তারকার বাসস্থানও রয়েছে সেখানে। এই দ্বীপে পৌঁছানোর প্রধান উপায় হল জেটি পরিষেবা। ফলে শুটিং বা অন্যান্য কাজে যাওয়া-আসার জন্য শিল্পীদের এই পথ ব্যবহার করতেই হয়।
শুধু রাহুল রায় নন, কিছুদিন আগেই একই পরিস্থিতিতে ওই পথ দিয়ে যেতে দেখা গিয়েছিল অভিনেত্রী শ্রদ্ধা কপূরকেও। অর্থাৎ, বিষয়টি কোনও ব্যক্তিগত সংকট নয়, বরং চলমান উন্নয়নমূলক কাজের জন্য সাময়িক অসুবিধা।
সব মিলিয়ে, ভাইরাল ভিডিওটি যে ভুল ধারণা তৈরি করেছিল, তা আসলে বাস্তবের সঙ্গে মেলে না। রাহুল রায় নিজের কাজের সূত্রেই ওই পথে যাচ্ছিলেন—এবং সেটাই এই ঘটনার প্রকৃত সত্য।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.