ট্রেনের কামরায় বসে ইলেকট্রিক কেটলিতে নুড্ল রান্না—এক মরাঠী মহিলার সেই ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই নেটদুনিয়ায় তুমুল বিতর্ক। বহু যাত্রী এই কাজকে ‘স্বাধীনতা’ বা ‘সুবিধা’ হিসেবে দেখলেও ভারতীয় রেল একে বিবেচনা করেছে গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে। ইতিমধ্যে ওই মহিলার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ শুরু করার পাশাপাশি রেল প্রকাশ করেছে একটি সতর্কবার্তা—ট্রেনে ইলেকট্রিক কেটলি ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
কেন এমন কঠোর সতর্কতা?
ট্রেনে ভ্রমণের সময় ক্ষুধার্ত হন অনেক যাত্রীই। কিন্তু রেল জানিয়েছে—খাবারের প্রয়োজন মেটানোর জন্য রয়েছে একাধিক বিকল্প—রেলের প্যান্ট্রি, স্টেশন থেকে ডেলিভারি, কিংবা যাত্রীর নিজস্ব খাবার। কিন্তু ট্রেনের চার্জিং পয়েন্টে ইলেকট্রিক কেটলি বা ইমারসন হিটারের মতো হাই ভোল্টেজ যন্ত্র চালানো অত্যন্ত বিপজ্জনক।
রেলের ব্যাখ্যায় উঠে এসেছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ—
১. হাই ভোল্টেজ যন্ত্রের জন্য ট্রেনের চার্জিং পয়েন্ট উপযুক্ত নয়
মোবাইল বা ল্যাপটপ চার্জ দেওয়ার জন্য যে পয়েন্ট থাকে, তা কেটলি চালানোর মতো উচ্চ ক্ষমতার বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য তৈরি নয়।
২. শর্ট সার্কিটের ভয়
হাই ভোল্টেজ যন্ত্র সংযুক্ত করলে সহজেই হতে পারে শর্ট সার্কিট। সেখান থেকেই স্ফুলিঙ্গ, তার গলতে থাকা—সবই সম্ভব।
৩. অগ্নিকাণ্ডের আশঙ্কা
ট্রেনে আগুন লাগলে তা মুহূর্তেই ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। শতাধিক যাত্রী ও চলমান রেলগাড়ির দিকে তাকিয়ে এমন ঝুঁকি নেওয়া এক কথায় নির্বুদ্ধিতার শামিল।
৪. শুধু ব্যক্তিগত নয়, সবার নিরাপত্তা বিপন্ন
একজনের অসাবধানতায় একটি পুরো কামরা বা গোটা ট্রেন বিপদের মুখে পড়তে পারে। তাই রেল জানিয়েছে—যাত্রীদের দায়িত্বশীল আচরণ করতেই হবে।
রেলের পোস্টার—সতর্কতার ভাষায় পরিষ্কার বার্তা
রেল তাদের অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডলে একটি পোস্টার প্রকাশ করেছে, যেখানে ইলেকট্রিক কেটলি ব্যবহাররত সেই মহিলার কার্টুন-চিত্র আঁকা। সঙ্গে বড় অক্ষরে বার্তা—
“ডু নট ইউজ ইলেকট্রিক কেটেল ইন ট্রেন!
ইট ইজ ডেঞ্জারাস অ্যান্ড পানিশেবল।”
চিত্রের মাধ্যমেই বোঝানো হয়েছে—নিয়ম ভাঙলে শুধু বিপদই নয়, হতে পারে জরিমানা বা শাস্তিও।
আগেও দেখা গেছে এমন ব্যবহার
রেলের দাবি, শুধু ওই ঘটনাই নয়—অনেক যাত্রীকে ট্রেনে কেটলিতে চা-নুড্ল বানাতে দেখা যায়। সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও ছড়ানোর পরই বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে এবং রেলও সক্রিয় হয়েছে।
সবার নিরাপদ যাত্রার স্বার্থে নিয়ম মানার আবেদন
রেলের শেষ সতর্কতা—
নিজের খিদে মেটাতে এমন কাজ করবেন না যাতে আপনার সহযাত্রীদের প্রাণসঙ্কট তৈরি হয়।
ট্রেনে ভ্রমণ মানে সমষ্টিগত যাত্রা; তাই এক জনের দায়িত্বজ্ঞানহীনতার জন্য অনেকের জীবন ঝুঁকিতে পড়ুক—এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.