জনপ্রিয় অভিনেত্রী রাজশ্রী দেশপাণ্ডে সম্প্রতি জানিয়েছেন যে তিনি স্তন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছেন। অসুস্থতার কথা প্রকাশ্যে আনার পর থেকেই তাঁর ভক্ত ও সহকর্মীরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তবে তিনি আশ্বস্ত করেছিলেন যে তাঁর অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে এবং ধীরে ধীরে সুস্থতার পথে এগোচ্ছেন। তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানিয়েছিলেন, খুব শিগগিরই হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরবেন।
এই কঠিন সময়ের স্মৃতি তুলে ধরতে গিয়ে অভিনেত্রী সামাজিক মাধ্যমে হাসপাতাল থেকে কয়েকটি ছবি শেয়ার করেন। ছবিগুলিতে দেখা যায়, তিনি হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন। সেই পোস্টে রাজশ্রী নিজের অনুভূতির কথা খোলাখুলি জানান। তিনি বলেন, প্রথমবার যখন জানতে পারেন যে তিনি স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত, তখন তিনি একেবারে একা ছিলেন। হাসপাতালের বাইরে দাঁড়িয়েই তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন। সেই মুহূর্তে নিজেকে শক্ত রাখা তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়নি।
রাজশ্রীর কথায়, এই অসুখের যন্ত্রণা কেবল শরীরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে মানসিক ও আবেগজনিত কষ্টও। তিনি বলেন, অনেক সময় এই মানসিক চাপ সামলানো কঠিন হয়ে ওঠে। কখনও একা থাকতে গিয়ে, আবার কখনও বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলার সময়ও তাঁর চোখে জল এসে গেছে। তবু এই কঠিন সময়ে বন্ধুরাই তাঁর পাশে থেকেছেন এবং সাহস জুগিয়েছেন।
অভিনেত্রী আরও জানান, অসুস্থতার দিনগুলিতে প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে তিনি নিজেকে নতুন করে শক্ত করার চেষ্টা করতেন। তাঁর মনে একটাই কথা ঘুরত—হাল ছেড়ে দেওয়া চলবে না। জীবনের জন্য, সুস্থতার জন্য যতটুকু শক্তি প্রয়োজন, সেটুকু যেন তিনি ধরে রাখতে পারেন—এই প্রার্থনাই করতেন প্রতিদিন।
ক্যারিয়ারের দিক থেকেও রাজশ্রী দীর্ঘদিন ধরে সমান্তরাল ও ভিন্নধর্মী ছবিতে অভিনয় করে নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করেছেন। জনপ্রিয় ওয়েব সিরিজ “সেক্রেড গেমস”-এ তাঁর অভিনয় বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছিল। সেই সিরিজে তাঁর কিছু দৃশ্য নিয়েও দর্শকমহলে যথেষ্ট আলোচনা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও ভারতীয় প্রজেক্টেও কাজ করে তিনি অভিনয়ের জগতে নিজের জায়গা মজবুত করেছেন।
বর্তমানে চিকিৎসা ও বিশ্রামের মধ্যেই সময় কাটছে অভিনেত্রীর। তবে তাঁর এই খোলামেলা অভিজ্ঞতা অনেক মানুষকে অনুপ্রাণিত করছে—বিশেষ করে যারা একই ধরনের রোগের সঙ্গে লড়াই করছেন। কঠিন সময়েও আশা না হারিয়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার বার্তাই দিয়েছেন রাজশ্রী।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.