অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়-এর অকাল মৃত্যুতে এখনও শোকস্তব্ধ টলিউড। সহকর্মীর এই মর্মান্তিক পরিণতির প্রতিবাদে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছে শিল্পী মহল। নীরব মিছিল থেকে শুরু করে থানায় অভিযোগ দায়ের—বিচারের দাবিতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এমনকি প্রযোজনা সংস্থার তরফে সন্তোষজনক প্রতিক্রিয়া না পাওয়ায় শিল্পী সংগঠনের পক্ষ থেকে ৭ এপ্রিল থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ডাকও দেওয়া হয়েছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই সামনে এল অভিনেতা রোহন ভট্টাচার্য-এর এক আবেগঘন ভিডিও বার্তা, যা ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। এতদিন রাহুলের শেষযাত্রা বা প্রতিবাদ মিছিলে তাকে দেখা না যাওয়ায় নানা প্রশ্ন উঠছিল। অবশেষে সেই নীরবতা ভেঙে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন তিনি।
ভিডিও বার্তায় রোহন জানান, কিছুদিন আগেই তিনি একটি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন, যার ফলে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। যদিও এখন তিনি আগের থেকে অনেকটাই সুস্থ, তবুও শারীরিক অবস্থার কারণে রাহুলের শেষকৃত্য বা প্রতিবাদে যোগ দিতে পারেননি বলে জানান তিনি। তবে এই ঘটনায় নেওয়া প্রতিটি পদক্ষেপের প্রতি নিজের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে বলেও স্পষ্ট করে দেন অভিনেতা।
রোহন তার অতীতের একটি ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, ২০১২ সালে একটি শুটিংয়ের সময় মারাত্মক দুর্ঘটনার মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি। সেই সময় একটি ট্রেন—দার্জিলিং মেল—তাকে ধাক্কা মারে, ফলে গুরুতরভাবে আহত হন এবং হাত ভেঙে যায়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত অনেকেই ভয়ে সরে যান, কারণ এমন দুর্ঘটনার পর বেঁচে থাকা কঠিন বলেই মনে হয়েছিল সবার। পরে স্থানীয় মানুষ ও কয়েকজন টেকনিশিয়ান তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
এই অভিজ্ঞতা থেকে রোহন বড় একটি প্রশ্ন তোলেন—দায়িত্ববোধের অভাব। তার দাবি, এমন দুর্ঘটনার পর প্রায়ই দায় এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। এমনকি ওই শুটিংটি যথাযথ অনুমতি ছাড়াই হচ্ছিল বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
রাহুলের মৃত্যুর প্রসঙ্গ টেনে রোহন বলেন, অনেকেই প্রথমে ঘটনাটিকে হালকাভাবে দেখানোর চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু পরে তারাই প্রতিবাদ মিছিলে অংশ নিয়েছেন। এই দ্বিচারিতা বন্ধ হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, শুধুমাত্র আবেগ নয়, বাস্তব দায়িত্ব নেওয়াটাই এখন সবচেয়ে জরুরি—বিশেষ করে মৃত সহকর্মীর পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য।
পুরো ঘটনায় আবারও সামনে উঠে এল শুটিং সেটে নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রশ্ন। রোহনের বক্তব্য স্পষ্ট—এখন সময় এসেছে সবাইকে একসঙ্গে দায়িত্ব নেওয়ার, যাতে ভবিষ্যতে এমন মর্মান্তিক ঘটনা আর না ঘটে।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.