আর জি কর হাসপাতালের বহুচর্চিত ‘অভয়া-কাণ্ড’ নিয়ে ফের তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল রাজ্য রাজনীতিতে। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন নেতা ও আর জি করের প্রাক্তনী চিকিৎসক শান্তনু সেন দাবি করেছেন, ঘটনার নেপথ্যে শুধুমাত্র সঞ্জয় রায় ছিলেন না, আরও কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারেন। তাঁর বক্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
এক সাক্ষাৎকারে শান্তনু সেন জানান, তিনি ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ-সংক্রান্ত নথি খতিয়ে দেখেছেন এবং সেই সূত্রেই তাঁর ধারণা তৈরি হয়েছে যে ঘটনাটি একার পক্ষে ঘটানো সম্ভব নয়। প্রয়োজনে তদন্তকারী সংস্থাকে তথ্য দিয়ে সাহায্য করার কথাও জানিয়েছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, অতীতেও তদন্তে সহযোগিতা করতে চাইলেও সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি।
শুধু তাই নয়, আর জি কর হাসপাতালের অভ্যন্তরে দীর্ঘদিন ধরে একটি শক্তিশালী গোষ্ঠী সক্রিয় ছিল বলেও অভিযোগ তুলেছেন তিনি। তাঁর দাবি, হাসপাতালের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক স্তরের কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি সেই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। একইসঙ্গে উত্তরবঙ্গের একটি লবির বিরুদ্ধেও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন তিনি।
শান্তনু সেনের কথায়, তিনি যখন দ্বিতীয়বার রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান হন, তখন থেকেই হাসপাতালের ভেতরে নানা অসংগতি তাঁর নজরে আসে। আর্থিক অনিয়ম থেকে শুরু করে প্রশাসনিক স্বচ্ছতার অভাব— একাধিক বিষয় নিয়ে তিনি নবান্নের উচ্চস্তরে অভিযোগ জানিয়েছিলেন বলে দাবি করেন। কিন্তু অভিযোগের ভিত্তিতে কোনও দৃশ্যমান পদক্ষেপ হয়নি বলেই তাঁর বক্তব্য।
তিনি আরও বলেন, অভিযোগ জানানোর পর থেকেই তাঁর উপর চাপ বাড়তে থাকে। নিজেকে ‘হুইসল ব্লোয়ার’ আখ্যা দিয়ে শান্তনু সেন দাবি করেন, পরবর্তীতে তাঁকে দায়িত্ব থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়। তাঁর অভিযোগ, সেই সময় তাঁর মেয়েকেও মানসিকভাবে চাপে রাখা হয়েছিল। যেহেতু তাঁর মেয়ে আর জি করে এমবিবিএসের শেষ বর্ষের ছাত্রী ছিলেন, তাই বিভিন্নভাবে ভয় দেখানো ও একঘরে করার চেষ্টা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
শান্তনু সেনের দাবি, কলেজের ভিতরে তাঁর মেয়েকে সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। এমনকি ভবিষ্যতে একাডেমিক সমস্যার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছিল বলে তিনি জানিয়েছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে নয়, বহু আগেই তিনি এসব বিষয়ে দলীয় নেতৃত্বকে সতর্ক করেছিলেন।
উল্লেখযোগ্যভাবে, অভয়া-কাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি আগে থেকেই তুলে আসছিল নির্যাতিতার পরিবার। তাঁদেরও অভিযোগ ছিল, শুধুমাত্র একজন অভিযুক্তকে সামনে আনা হলেও গোটা ঘটনার পিছনে আরও প্রভাবশালী চক্র থাকতে পারে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর মামলাটি নতুন করে গুরুত্ব পাওয়ায় সেই বিতর্ক আবার সামনে এসেছে।
এদিকে শান্তনু সেনের এই বিস্ফোরক মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। বিরোধীরা নতুন তদন্তের দাবি আরও জোরদার করেছে। যদিও অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.