এশিয়ায় সৌদি তেলের চাহিদা কমছে, চাপে রিয়াধের অর্থনীতি

পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক তেল বাজারে বাড়তে থাকা প্রতিযোগিতার জেরে বড় চাপের মুখে পড়েছে সৌদি আরবের তেল ব্যবসা। বহু বছর ধরে ভারত, চিন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ানের মতো এশিয়ার শক্তিশালী অর্থনীতির দেশগুলির অন্যতম প্রধান জ্বালানি সরবরাহকারী ছিল রিয়াধ। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সেই চিত্র দ্রুত বদলাচ্ছে।

মে মাসে সৌদি আরবের দৈনিক অপরিশোধিত তেল রফতানির বরাত নেমে এসেছে প্রায় ৩৯ লক্ষ ব্যারেলে, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সবচেয়ে কম বলে জানা গিয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে এই পরিমাণ ছিল প্রায় ৭৩ লক্ষ ব্যারেল প্রতিদিন। কয়েক মাসের মধ্যেই রফতানিতে এত বড় পতন সৌদি প্রশাসনের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি শুরু হওয়ার পর থেকেই তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা বড় ধাক্কা খায়। ইরান হরমুজ প্রণালীতে চাপ সৃষ্টি করায় উপসাগরীয় অঞ্চলের স্বাভাবিক জ্বালানি পরিবহণ ব্যাহত হয়। যদিও সৌদি আরব বিকল্প পথ ব্যবহার করে রফতানি চালিয়ে যাচ্ছে, তবুও খরচ বেড়ে যাওয়ায় বহু ক্রেতা অন্য উৎসের দিকে ঝুঁকছে।

বর্তমানে সৌদি আরব পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনের মাধ্যমে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে তেল পৌঁছে সেখান থেকে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে পাঠাচ্ছে। কিন্তু এই পথে পরিবহণ করতে সময় বেশি লাগছে এবং ট্যাঙ্কারের খরচও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ফলে সৌদি তেল তুলনামূলকভাবে অনেক ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।

এই পরিস্থিতিতে ভারত, চিন ও জাপানের মতো বড় আমদানিকারক দেশগুলি বিকল্প উৎসের দিকে ঝুঁকেছে। চিন ইতিমধ্যেই ইরান থেকে তেল আমদানি বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার সস্তা ‘উরাল ক্রুড’ এখনও আন্তর্জাতিক বাজারে যথেষ্ট আকর্ষণীয়। ভারতও গত কয়েক বছরে রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ তেল কিনেছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আমদানির উৎসে বৈচিত্র আনছে।

ভারত সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, দেশের স্বার্থ অনুযায়ী যেখানে কম দামে জ্বালানি পাওয়া যাবে, সেখান থেকেই তেল কেনা হবে। কোনও একটি দেশের উপর নির্ভরশীল না থেকে একাধিক উৎস থেকে আমদানির কৌশল নিয়েছে নয়াদিল্লি। সেই কারণেই সৌদি তেলের আমদানিও কমেছে। এপ্রিল মাসে ভারত যেখানে দৈনিক প্রায় ৬.৭ লক্ষ ব্যারেল সৌদি তেল আমদানি করেছিল, মে মাসে তা কমে প্রায় ৪.৫ লক্ষ ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে।

চিনের ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ফেব্রুয়ারিতে দৈনিক প্রায় ১৬ লক্ষ ব্যারেল সৌদি তেল আমদানি করলেও, মে মাসে সেই পরিমাণ আরও কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। জাপানও উল্লেখযোগ্যভাবে আমদানি কমিয়েছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন প্রতিযোগী হিসেবেও উঠে এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, ভেনেজুয়েলা এবং নাইজেরিয়ার মতো দেশ। বিশেষ করে ইউএই ওপেক থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর বেশ কিছু দেশের সঙ্গে সরাসরি তেল চুক্তিতে আগ্রহ দেখিয়েছে। তুলনামূলক কম দামে তেল দেওয়ায় বহু ক্রেতা এখন সৌদির বদলে অন্য উৎস বেছে নিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল মূল্য প্রতিযোগিতা। যদি রিয়াধ তেলের দাম কমায়, তাহলে ভারত-সহ এশিয়ার কয়েকটি দেশ আবারও সৌদি তেলের দিকে ঝুঁকতে পারে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে একক আধিপত্য ধরে রাখা যে আর সহজ নয়, তা স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

লোহিত সাগর সংলগ্ন এলাকায় ইতিমধ্যেই সৌদি তেলবোঝাই বহু ট্যাঙ্কার অপেক্ষা করছে ক্রেতার অভাবে। ফলে আগামী দিনে রফতানি ধরে রাখতে সৌদি প্রশাসনকে নতুন মূল্যনীতি এবং সরবরাহ কৌশল নিতে হতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক