উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়াকে ঘিরে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিতর্ক ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। বাদুড়িয়া পুরসভার চেয়ারম্যান দীপঙ্কর ভট্টাচার্যকে কেন্দ্র করে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নগদ বিপুল পরিমাণ টাকা উদ্ধারের ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ দাবি করেছেন, দীর্ঘদিন ধরেই সরকারি প্রকল্পে অনিয়ম, ঘুষ আদায় এবং প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠছিল তাঁর বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের বক্তব্য, সাধারণ মানুষের জন্য ঘোষিত বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে নিয়মিত টাকা তোলা হত। অভিযোগ অনুযায়ী, আবাসন প্রকল্পে নাম অন্তর্ভুক্ত করতে বা ঘর পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বহু মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হত। কারও কাছ থেকে ১০ হাজার, কারও কাছ থেকে ২০ হাজার, আবার অনেক ক্ষেত্রে ৪০ হাজার টাকাও নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষায়, এই টাকাকে ‘জলখাবারের খরচ’ বলে উল্লেখ করা হত।
তবে টাকা দিলেই যে সরকারি সুবিধা নিশ্চিতভাবে মিলত, এমন নয় বলেও দাবি করেছেন বহু বাসিন্দা। অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রেই টাকা নেওয়ার পরও প্রকল্পের সুবিধা পাননি আবেদনকারীরা। ফলে ক্ষোভ বাড়তে থাকে এলাকায়।
আরও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন এক মহিলা। তাঁর দাবি, ব্যক্তিগত নথি সংগ্রহ করার নামে তাঁর আধার কার্ডের তথ্য নেওয়া হয়েছিল। পরে সেই তথ্য ব্যবহার করে ভুয়ো চেকবুক তৈরি করে তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করতে গেলে ভয় দেখানো হত বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
এলাকার একাংশের অভিযোগ, প্রকৃত গরিব ও প্রাপকদের বঞ্চিত করে রাজনৈতিকভাবে ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের সরকারি আবাস প্রকল্পে সুবিধা পাইয়ে দেওয়া হত। এমনও অভিযোগ উঠেছে, যাঁদের আগে থেকেই পাকা বাড়ি ছিল, তাঁরাও বিশেষ প্রভাবের কারণে আবাস যোজনার টাকা পেয়েছেন। অন্যদিকে প্রকৃত দরিদ্র পরিবারগুলি বহুবার আবেদন করেও সুবিধা থেকে বঞ্চিত থেকেছেন বলে দাবি।
স্থানীয় মানুষজনের বক্তব্য, একসময় সাধারণ শ্রমজীবী হিসেবে জীবন কাটানো দীপঙ্কর ভট্টাচার্য পরবর্তীতে এলাকায় অত্যন্ত প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন। তবে তাঁর উত্থানের সঙ্গে দুর্নীতি ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগও সমানভাবে বৃদ্ধি পায় বলে দাবি বিরোধীদের।
ঘটনার জেরে এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। বিরোধীরা পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছে। অন্যদিকে শাসকদলের তরফে এখনও পর্যন্ত বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাদুড়িয়ার প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.