আমাদের চারপাশের পরিবেশে শুভ ও অশুভ—দু’ধরনের শক্তির অস্তিত্ব রয়েছে বলে মনে করা হয়। সংসারে শুভ শক্তির প্রভাব থাকলে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি বজায় থাকে। কিন্তু অশুভ শক্তির উপস্থিতি সংসারের পরিবেশকে অশান্ত ও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। হঠাৎ করে একের পর এক সমস্যা দেখা দেওয়া, অকারণ মানসিক অশান্তি, কাজে বাধা বা আর্থিক টানাপোড়েন—এসবকেই অনেক সময় অশুভ শক্তির প্রভাব হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়।
কীভাবে বুঝবেন বাড়িতে অশুভ শক্তি আছে?
বাস্তুশাস্ত্র মতে একটি সহজ পরীক্ষার মাধ্যমে নেগেটিভ এনার্জির উপস্থিতি যাচাই করা যায়।
পদ্ধতি:
এক গ্লাস পরিষ্কার জলে সামান্য গঙ্গাজল মিশিয়ে নিন।
তার মধ্যে কয়েকটি গোলাপ ফুলের পাপড়ি দিন।
গ্লাসটি ঘরের একটি নির্জন কোণে লুকিয়ে রেখে দিন ২৪ ঘণ্টার জন্য।
পরের দিন লক্ষ্য করুন জলের রং পরিবর্তন হয়েছে কিনা।
ফলাফল বিশ্লেষণ:
যদি জলের রং সম্পূর্ণ বদলে যায়, তবে ঘরে অশুভ শক্তির উপস্থিতি থাকতে পারে।
আর যদি জলের রং অপরিবর্তিত থাকে, তাহলে বাড়িতে নেগেটিভ এনার্জি নেই বলেই মনে করা হয়।
বাড়ি থেকে অশুভ শক্তি দূর করার উপায়
অশুভ শক্তির প্রভাব কমাতে কিছু সহজ উপায় অনুসরণ করা যেতে পারে—
১️) মূল দরজা পরিষ্কার রাখুন
বাড়ির প্রধান দরজা শুভ ও অশুভ শক্তির প্রবেশপথ বলে ধরা হয়। তাই দরজার সামনে ধুলো-ময়লা জমতে দেবেন না। পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন প্রবেশদ্বার নেগেটিভ এনার্জি প্রবেশে বাধা দেয়।
২️) নুন মেশানো জল দিয়ে ঘর মোছা
প্রতিদিন রক সল্ট বা সাধারণ নুন মিশিয়ে জল দিয়ে ঘর মোছা ভালো। বিশ্বাস করা হয়, নুন নেগেটিভ এনার্জি শোষণ করে পরিবেশকে বিশুদ্ধ করে।
৩️) লেবু মেশানো জল দিয়ে পরিষ্কার
জলের মধ্যে সামান্য লেবুর রস মিশিয়ে দরজার হাতল ও জানালা পরিষ্কার করলে অশুভ শক্তি দূরে সরে যায় বলে ধারণা রয়েছে।
আরও পড়ুন:Vastu: অ্যাটাচড বাথরুমে বাস্তুদোষ? মানছেন তো এই জরুরি নিয়মগুলো
৪️) সাদা নুনের পুঁটলি রাখুন
১ কেজি ২৫ গ্রাম সাদা নুন একটি লাল কাপড়ে বেঁধে রান্নাঘরের এমন স্থানে রাখুন, যা অন্যের চোখে পড়বে না। এটি বাড়ির নেতিবাচক শক্তি দূর করতে সহায়ক বলে মনে করা হয়।
৫️) শুভ গাছ লাগান
বাস্তুশাস্ত্রে তুলসী গাছকে অত্যন্ত শুভ মনে করা হয়। বাড়িতে তুলসীসহ অন্যান্য পবিত্র গাছ রাখলে পরিবেশ ইতিবাচক থাকে।
শেষকথা
সংসারে অশান্তি বা অকারণ সমস্যা দেখা দিলে অনেকেই তা অশুভ শক্তির প্রভাব বলে মনে করেন। বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী কিছু সহজ নিয়ম মেনে চললে বাড়ির পরিবেশ ইতিবাচক রাখা সম্ভব। তবে মানসিক শান্তি ও বাস্তব সমস্যার সমাধানের জন্য যুক্তিবোধ ও সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণও সমান গুরুত্বপূর্ণ।