গরম পড়তেই ত্বকের পাশাপাশি চুলের সমস্যাও বাড়তে শুরু করে। অতিরিক্ত ঘাম, ধুলো, দূষণ এবং রোদের প্রভাবে চুল দ্রুত রুক্ষ ও নিষ্প্রাণ হয়ে যায়। অনেকেই নিয়মিত শ্যাম্পু বা তেল ব্যবহার করলেও কাঙ্ক্ষিত ফল পান না। উল্টে চুল পড়া, খুশকি এবং চুলের আগা ফেটে যাওয়ার মতো সমস্যাও বেড়ে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারচলতি প্রসাধনীর পাশাপাশি কিছু ঘরোয়া পরিচর্যাও চুলের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী হতে পারে।
জবা ও আমলকির তেলে ফিরতে পারে চুলের প্রাণ
চুলের জেল্লা ফেরাতে জবা ফুল ও আমলকির ব্যবহার বহুদিন ধরেই জনপ্রিয়। রাতে আমলকির তেলের সঙ্গে জবা ফুল ফুটিয়ে সেই তেল মাথার ত্বকে ভাল করে মালিশ করা যেতে পারে। পরদিন মেথি গুঁড়ো, আমলা গুঁড়ো, শিকাকাই গুঁড়ো, মেহন্দি পাতার গুঁড়ো এবং টক দই মিশিয়ে একটি ঘন প্যাক তৈরি করে চুলে লাগালে উপকার মিলতে পারে। আধ ঘণ্টা পরে ঠান্ডা জল দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। সপ্তাহে দু’বার এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে চুল আরও নরম ও উজ্জ্বল হতে পারে।

ল্যাভেন্ডার অয়েলে কমতে পারে রুক্ষতা
রুক্ষ ও নির্জীব চুলের যত্নে এসেনশিয়াল অয়েলও কার্যকর হতে পারে। অলিভ অয়েল বা ক্যাস্টর অয়েলের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা ল্যাভেন্ডার এবং জেরেনিয়াম অয়েল মিশিয়ে মাথার ত্বকে মালিশ করলে চুলে আর্দ্রতা বজায় থাকে। এর পরে গরম জলে ভেজানো তোয়ালে দিয়ে মাথা ঢেকে রাখলে তেল ভাল ভাবে চুলের গোড়ায় পৌঁছতে পারে। এক ঘণ্টা পরে মৃদু শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেললে চুল তুলনায় বেশি কোমল অনুভূত হতে পারে। সপ্তাহে এক বা দু’বার এই পরিচর্যা করলে ভাল ফল মিলতে পারে।
দই, ডিম ও মধুর প্যাকেও মিলতে পারে উপকার
চুলে প্রাকৃতিক কন্ডিশনার হিসেবে দই অত্যন্ত কার্যকর। এর সঙ্গে ডিম মেশালে চুলের গোড়া মজবুত হতে পারে এবং মধু চুলে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। একটি ডিম ফেটিয়ে তার সঙ্গে দই ও মধু মিশিয়ে তৈরি করা প্যাক চুলে ২০ মিনিট রেখে হালকা শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেললে চুলের শুষ্কতা অনেকটাই কমতে পারে।
গরমকালে চুল ভাল রাখতে শুধু বাহ্যিক পরিচর্যাই নয়, পর্যাপ্ত জল খাওয়া এবং স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়াও জরুরি। নিয়মিত যত্ন নিলে গরমেও চুল থাকতে পারে নরম, মসৃণ ও প্রাণবন্ত।
Sumi has been waiting lifestyle, vastu Tips since 2026.