রবীন্দ্রজয়ন্তীর দিন নতুন রাজনৈতিক বার্তা দিল পশ্চিমবঙ্গের নবগঠিত বিজেপি সরকার। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম সরকারি কর্মসূচিতে জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে গিয়ে কবিগুরু Rabindranath Tagore-এর প্রতি শ্রদ্ধা জানান Suvendu Adhikari। এই সফর ঘিরে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক—দুই দিক থেকেই তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা উঠে আসে।
জোড়াসাঁকোয় পৌঁছে কবিগুরুর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করেন মুখ্যমন্ত্রী। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, বাংলা ও বাঙালি সংস্কৃতির মূল চেতনা রবীন্দ্রনাথের ভাবনায় নিহিত। তাঁর কথায়, নতুন সরকারের পথচলা সেই সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সামনে রেখেই শুরু হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, ধুতি পরে থাকা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের দল আমরা, আমাদের বাঙালি হওয়া নিয়ে জ্ঞান দিতে হবে না।’
শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক সংঘাত ও বিভাজনের ফলে রাজ্যের ক্ষতি হয়েছে। সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কাজকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ইঙ্গিতও দেন তিনি।
এরপর রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত বিজেপি কর্মীদের একাংশ ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। সেই মুহূর্তে শুভেন্দু পিছন ফিরে কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, এখানে ‘কবিগুরু লহ প্রণাম’ ধ্বনি তোলাই বেশি উপযুক্ত। এরপরই মুহূর্তের মধ্যে বদলে যায় স্লোগানের ভাষা। উপস্থিত কর্মীরাও ‘কবিগুরু লহ প্রণাম’ ধ্বনি দিতে শুরু করেন। এই ঘটনাকে রাজনৈতিক মহলের একাংশ বিজেপির নতুন সাংস্কৃতিক বার্তা হিসেবেই দেখছে।

প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপিকে ‘বহিরাগত’ দল বলে আক্রমণ করেছে। বাঙালি বনাম অবাঙালি আবেগকে সামনে রেখে রাজনৈতিক মেরুকরণের চেষ্টাও হয়েছে বিভিন্ন সময়ে। সেই প্রেক্ষাপটে রবীন্দ্রজয়ন্তীর দিন সরকার গঠন এবং শপথ অনুষ্ঠানে বাঙালিয়ানার বিশেষ ছাপ রাখা ছিল যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ।
শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের মঞ্চেও ছিল বাংলার ঐতিহ্যের উপস্থিতি। কবিগুরুর ছবিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন Narendra Modi। পাশাপাশি অনুষ্ঠানে ছৌ নাচ, বাউল গান এবং বাংলা সংস্কৃতির নানা উপাদান তুলে ধরা হয়। সব মিলিয়ে নতুন সরকারের প্রথম দিন থেকেই সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক বার্তার মিশ্রণ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than five years.