ব্রাজিলের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ জয়ে মরক্কোর অন্যতম নায়ক হয়ে উঠেছেন ইসমাইল সাইবারি। ম্যাচের শুরুতেই তাঁর করা গোল দলকে এগিয়ে দেয় এবং শেষ পর্যন্ত সেই গোলই ম্যাচের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। তবে আন্তর্জাতিক ফুটবলে তাঁর এই উত্থানের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ সংগ্রাম, প্রত্যাখ্যান এবং আত্মপ্রতিষ্ঠার এক অনুপ্রেরণামূলক কাহিনি।
কৈশোরে সাইবারির ফুটবলজীবন প্রায় থমকে গিয়েছিল। মাত্র ১৪ বছর বয়সে বেলজিয়ামের বিখ্যাত ক্লাব আন্দারলেখট তাঁকে দলে রাখেনি। ওজন বৃদ্ধি এবং চোটের সমস্যার কারণে ক্লাবের পরিকল্পনা থেকে তিনি ছিটকে যান। এই সিদ্ধান্ত কিশোর সাইবারির কাছে ছিল বড় ধাক্কা। এক সময় তাঁর মনে হয়েছিল, ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন হয়তো আর পূরণ হবে না।
তবে হতাশার কাছে হার মানেননি তিনি। বরং সেই ব্যর্থতাকেই নিজের প্রেরণা হিসেবে ব্যবহার করেন। আরও বেশি পরিশ্রম শুরু করেন এবং পরবর্তীতে যোগ দেন নেদারল্যান্ডসের শক্তিশালী ক্লাব পিএসভি আইন্ডহোভেনে। সেখানে প্রাক্তন তারকা স্ট্রাইকার রুড ভ্যান নিস্তেলরুইয়ের অধীনে নিজের প্রতিভা আরও শানিত করার সুযোগ পান। ধীরে ধীরে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন ইউরোপীয় ফুটবলে।
ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ম্যাচে সাইবারির দক্ষতার ছাপ স্পষ্টভাবে দেখা যায়। সতীর্থ ব্রাহিম দিয়াজের পাস থেকে বল পেয়ে তিনি দ্রুতগতিতে ব্রাজিলের দুই ডিফেন্ডারকে পিছনে ফেলে গোলমুখে পৌঁছে যান। এরপর ঠান্ডা মাথায় চিপ শটে বল জালে জড়িয়ে দেন। ব্রাজিলের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকারও সেই শট ঠেকাতে পারেননি।
সাইবারির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারেও ছিল গুরুত্বপূর্ণ এক সিদ্ধান্ত। স্পেনে জন্ম হলেও ছোটবেলায় পরিবারের সঙ্গে তিনি বেলজিয়ামে চলে যান এবং সেখানেই ফুটবলের প্রাথমিক শিক্ষা নেন। দীর্ঘদিন বেলজিয়ামে থাকার কারণে দেশটির জাতীয় দলের হয়ে খেলার সুযোগও তাঁর সামনে এসেছিল। এমনকি তৎকালীন বেলজিয়াম কোচ রবার্তো মার্টিনেজ তাঁকে জাতীয় দলে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দেন।
তবে সাইবারি সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেননি। স্পেনের হয়েও খেলার সুযোগ থাকলেও তিনি শেষ পর্যন্ত মরক্কোকেই বেছে নেন। তাঁর মতে, জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করা শুধুমাত্র ক্যারিয়ারের সিদ্ধান্ত নয়, বরং হৃদয়ের টান এবং নিজের পরিচয়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি বিষয়। মরক্কোর বয়সভিত্তিক দলে আগে থেকেই খেলার অভিজ্ঞতা থাকায় দেশটির প্রতি তাঁর আলাদা আবেগ তৈরি হয়েছিল।
তবে সাফল্যের পাশাপাশি বিতর্কও পিছু ছাড়েনি এই ফুটবলারের। আফ্রিকান কাপ অব নেশনস চলাকালে একটি ঘটনায় তিনি সমালোচনার মুখে পড়েন। সেনেগালের গোলরক্ষক এদুয়ার্ড মেন্ডির তোয়ালে সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। বৃষ্টিভেজা পরিস্থিতিতে গোলরক্ষক যাতে সহজে গ্লাভস শুকাতে না পারেন, সেই উদ্দেশ্যেই এমন কাজ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটি টেলিভিশন ক্যামেরায় ধরা পড়ার পর সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
সমালোচনা বাড়তে থাকলে সাইবারি নিজের ভুল স্বীকার করেন। তিনি ব্যক্তিগতভাবে মেন্ডি এবং সেনেগাল দলের সদস্যদের কাছে ক্ষমা চান। সেই ঘটনার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও বিতর্কটি তাঁর ক্যারিয়ারের আলোচিত অধ্যায়গুলোর একটি হয়ে রয়েছে।
আজ ব্রাজিলের মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে গোল করে সাইবারি আবারও প্রমাণ করলেন, জীবনের প্রাথমিক ব্যর্থতা কখনও শেষ কথা নয়। এক সময় যাঁকে অযোগ্য ভেবে বাদ দেওয়া হয়েছিল, সেই ফুটবলারই এখন আন্তর্জাতিক মঞ্চে মরক্কোর অন্যতম ভরসার নাম।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.