বিধায়কদের স্বাক্ষর সংক্রান্ত বিতর্কিত মামলার তদন্তে ফের সিআইডির দফতরে হাজির হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার সকালে ভবানী ভবনে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়। এর আগে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ অনুসারে গত ১১ জুন তিনি সিআইডির সামনে হাজিরা দিয়েছিলেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে তাঁকে জেরা করা হয়েছিল।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গিয়েছে, আগের দফার জিজ্ঞাসাবাদে তদন্তকারীরা বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করলেও বহু প্রশ্নের উত্তরে অভিষেক স্পষ্ট তথ্য দিতে পারেননি বলে দাবি করা হয়েছে। ওই দিন তিনি প্রায় ছয় ঘণ্টা সিআইডি দফতরে ছিলেন। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তিনি সেখান থেকে সরাসরি কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে যান।
এই মামলায় সিআইডি প্রথম নোটিস পাঠায় গত ৩০ মে। এরপর একাধিকবার হাজিরার নির্দেশ জারি হলেও তিনি নির্ধারিত সময়ে তদন্তকারীদের সামনে উপস্থিত হননি। শেষ পর্যন্ত আদালতের নির্দেশের পর তিনি ভবানী ভবনে গিয়ে তদন্তে সহযোগিতা করেন। তদন্তের সময় তাঁর সঙ্গে তদন্তকারী অফিসারদের একাধিক বিষয়ে কথোপকথন হয় বলে জানা যায়।
ঘটনার সূত্রপাত একটি রাজনৈতিক প্রস্তাবপত্রকে কেন্দ্র করে। বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের জন্য বিধানসভায় জমা পড়া একটি নথিতে কয়েকজন বিধায়কের স্বাক্ষর নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগ, ওই নথিতে থাকা কিছু স্বাক্ষরের সত্যতা নিয়ে অসঙ্গতি ধরা পড়ে। বিষয়টি বিধানসভার সচিবের নজরে আসার পর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের হয় এবং তদন্তভার সিআইডির হাতে তুলে দেওয়া হয়।
তদন্তের অগ্রগতিতে ইতিমধ্যেই একাধিক বিধায়কের বক্তব্য নথিভুক্ত করা হয়েছে। তদন্তকারীরা বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেছেন এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্রও সংগ্রহ করেছেন। তদন্তের অংশ হিসেবে তৃণমূল কংগ্রেসের সংগঠন-সংক্রান্ত কিছু দফতরেও অনুসন্ধান চালানো হয়েছে বলে জানা যায়।
এই মামলায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দাবি এসেছে তৃণমূল বিধায়ক বাহারুল ইসলামের কাছ থেকে। তিনি প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছিলেন, যে দিনে সংশ্লিষ্ট নথিতে তাঁর স্বাক্ষর থাকার কথা বলা হচ্ছে, সেদিন তিনি বাড়ির বাইরে যাননি। ফলে তাঁর নামে থাকা স্বাক্ষর কীভাবে নথিতে এল, তা নিয়ে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন। এই বক্তব্যের পর থেকেই স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ আরও গুরুত্ব পায়।
বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিধায়কদের সম্মতিসূচক স্বাক্ষরসহ একটি প্রস্তাবপত্র জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। সেই নথি যাচাই-বাছাই করে স্পিকার অনুমোদন দিলে তবেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে বিরোধী দলনেতার মর্যাদা পান। কিন্তু এই প্রক্রিয়াকে ঘিরেই বর্তমান বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে।
পরবর্তীকালে দলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিও জটিল হয়ে ওঠে। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরিষদীয় দলনেতা হিসেবে সমর্থন জানান। ফলে রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একইসঙ্গে সই জালিয়াতি মামলার তদন্ত কোন দিকে এগোয়, সেদিকেও নজর রয়েছে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।
বর্তমানে সিআইডি নথিপত্র, সাক্ষ্যপ্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য খতিয়ে দেখে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে চলেছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক জিজ্ঞাসাবাদ সেই তদন্তেরই গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.