প্রচণ্ড গরমে বাইরে বেরোলেই শরীর থেকে ঘামের মাধ্যমে প্রচুর জল বেরিয়ে যাচ্ছে। এই সময় তেষ্টা মেটাতে অনেকেই সাধারণ জলের বদলে ভরসা করছেন ঠান্ডা সফ্ট ড্রিঙ্ক, কোল্ড ড্রিঙ্ক কিংবা ফ্রেশ লাইম সোডার উপর। ঠান্ডা এই পানীয়গুলি মুহূর্তের জন্য স্বস্তি দিলেও, দীর্ঘদিন নিয়মিত পান করলে শরীরের ভিতরে নীরবে তৈরি হতে পারে একাধিক জটিলতা। বিশেষ করে কিডনিতে পাথর এবং মূত্রনালির সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করছেন চিকিৎসকেরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এক-দু’দিন সোডাজাতীয় পানীয় খেলেই সমস্যা হবে, এমন নয়। তবে দীর্ঘদিন ধরে জল কম খেয়ে তার বদলে কার্বোনেটেড পানীয়, অতিরিক্ত চা বা কফির উপর নির্ভর করলে শরীরে জলশূন্যতা তৈরি হয়। এর সঙ্গে যদি প্রস্রাব দীর্ঘক্ষণ চেপে রাখা এবং অতিরিক্ত নোনতা বা প্যাকেটজাত খাবার খাওয়ার অভ্যাস থাকে, তা হলে সমস্যা আরও বাড়তে পারে।
গরমকালে শরীর থেকে ঘামের মাধ্যমে যে পরিমাণ জল বেরিয়ে যায়, তা পূরণ করা অত্যন্ত জরুরি। পর্যাপ্ত জল না খেলে প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যায়। ফলে শরীরের বর্জ্য ও খনিজ পদার্থ সহজে বেরোতে পারে না। এই খনিজগুলি ধীরে ধীরে জমে ক্রিস্টালের আকার নেয়, যা পরে কিডনিতে পাথর তৈরির কারণ হতে পারে।

অন্য দিকে, কম জল পান করলে মূত্রনালিতেও ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণের আশঙ্কা বেড়ে যায়। অনেক সফ্ট ড্রিঙ্কে থাকা অতিরিক্ত চিনি এবং ক্যাফিন শরীরকে আরও শুষ্ক করে তোলে। এতে প্রস্রাবে জ্বালা, ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ, তলপেটে অস্বস্তি বা প্রস্রাব ঘোলা হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। কখনও কখনও জ্বরও আসতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, গরমে শরীর সুস্থ রাখতে সাধারণ জলের কোনও বিকল্প নেই। তাই দিনে পর্যাপ্ত পরিমাণ জল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। অতিরিক্ত সফ্ট ড্রিঙ্ক বা সোডাজাতীয় পানীয় এড়িয়ে চলাই ভাল। পাশাপাশি শরীরের ছোটখাটো উপসর্গকেও অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।