‘টক্সিক’ টিজার ঘিরে তীব্র বিতর্ক: অশ্লীলতা ও নারী অবমাননার অভিযোগ, ব্যান চেয়ে কমিশনে এএপি মহিলা শাখা

যশ ও কিয়ারা আদভানি অভিনীত বহুল প্রতীক্ষিত ছবি ‘Toxic: A Fairytale for Grown Ups’-এর সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত টিজার ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। টিজারে থাকা কিছু দৃশ্যকে কেন্দ্র করে অশ্লীলতা, নারীর অবমাননা এবং সামাজিক মূল্যবোধে আঘাতের অভিযোগ তুলেছে আম আদমি পার্টির (এএপি) মহিলা শাখা। এই ইস্যুতে তারা কর্নাটক রাজ্য মহিলা কমিশনের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে।

এএপি মহিলা শাখার রাজ্য সম্পাদক ঊষা মোহন কমিশনের কাছে পাঠানো চিঠিতে দাবি করেন, টিজারের একাধিক দৃশ্য “স্পষ্ট ও আপত্তিকর”, যা নারী ও শিশুদের সামাজিক কল্যাণের পরিপন্থী। তাঁর মতে, এই ধরনের কনটেন্ট সমাজে ভুল বার্তা ছড়াতে পারে এবং তরুণ প্রজন্মের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে উদ্বেগের বিষয় হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে যে, টিজারটি প্রকাশের সময় কোনও বয়স-সতর্কতা (Age Disclaimer) দেওয়া হয়নি।

চিঠিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, টিজারের দৃশ্যগুলি শুধু নারীর মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করেনি, বরং “কন্নড় সংস্কৃতিকে অপমান করেছে”। এএপি মহিলা শাখার বক্তব্য, এমন কনটেন্ট প্রকাশ্যে ছড়ালে সমাজের একটি বড় অংশ ক্ষুব্ধ হতে পারে এবং সাংস্কৃতিক মূল্যবোধে আঘাত লাগতে পারে। এই কারণেই তারা কমিশনের কাছে অবিলম্বে টিজারটি ব্যান করা ও সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সরিয়ে ফেলার দাবি জানিয়েছে।

অন্যদিকে, টিজার প্রকাশের পর থেকেই সাধারণ দর্শক ও নেটিজেনদের মধ্যে মতভেদ স্পষ্ট। একাংশ টিজারের স্টাইল, ভিজ্যুয়াল টোন ও সাহসী উপস্থাপনার প্রশংসা করেছেন। তাঁদের মতে, ছবিটি প্রথাগত ধারার বাইরে গিয়ে আধুনিক গল্প বলার চেষ্টা করছে। তবে সমালোচকদের একটি বড় অংশ অভিযোগ তুলেছেন যে, পরিচালক গীতু মোহনদাস টিজারে নারীদের অবজেক্টিফাই করেছেন।

এই সমালোচনার জবাবে পরিচালক গীতু মোহনদাস ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্টে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি লেখেন,
“যখন সমাজ মহিলাদের আনন্দ, সম্মতি বা স্বাধীনতাকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায়—তখন সেটাই সবচেয়ে অস্বস্তিকর।”
এই মন্তব্য ঘিরেও বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।

গীতুর সমর্থনে এগিয়ে এসেছেন একাধিক বিশিষ্ট পরিচালক। রাম গোপাল ভার্মা এক্স (প্রাক্তন টুইটার)-এ লেখেন, গীতু মোহনদাস নারী ক্ষমতায়নের এক অনন্য প্রতীক এবং তাঁর দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে কোনও পুরুষ পরিচালকের তুলনা চলে না। একইসঙ্গে পরিচালক সন্দীপ রেড্ডি ভাঙ্গা টিজারের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, “টক্সিক আমাকে পুরোপুরি নক আউট করে দিয়েছে—এতে আছে স্টাইল, মনোভাব ও বিশৃঙ্খলা।”

ছবিটির তারকাবহুল কাস্টও আলোচনার কেন্দ্রে। যশ ও কিয়ারা আদভানির পাশাপাশি ছবিতে রয়েছেন নয়নতারা, হুমা কুরেশি, রুক্মিণী বসন্ত ও তারা সুতারিয়া। বক্স অফিসে ছবিটি মুক্তির সময় মুখোমুখি হবে ব্লকবাস্টার ‘ধুরন্ধর’-এর সিক্যুয়েল-এর, ফলে ব্যবসায়িক দিক থেকেও এই ছবি ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে।

সব বিতর্কের মাঝেই নির্মাতারা অনড় রয়েছেন তাঁদের অবস্থানে। এখন দেখার বিষয়, কর্নাটক রাজ্য মহিলা কমিশন এই অভিযোগের ভিত্তিতে কী পদক্ষেপ নেয় এবং আদৌ টিজারের ওপর কোনও নিষেধাজ্ঞা আরোপ হয় কি না। আগামী ১৯ মার্চ, ২০২৬ মুক্তির আগে ‘টক্সিক’ বিতর্ক আরও কতটা গভীর হয়, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা চলচ্চিত্র মহল।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক