ফাল্গুন মাসে জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী একটি গুরুত্বপূর্ণ অশুভ যোগ গঠিত হতে চলেছে—বৈধৃতি যোগ। আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, শনিবার সকাল ৮টা ৯ মিনিটে এই যোগ শুরু হবে। জ্যোতিষ মতে, সূর্য ও চন্দ্রের নির্দিষ্ট ডিগ্রির সমষ্টি ৩৪৬°৪০′ থেকে ৩৬০°-এর মধ্যে পৌঁছলে বৈধৃতি যোগ সৃষ্টি হয়। এই সময়কে নানা বাধা-বিপত্তি, আর্থিক টানাপোড়েন, মানসিক চাপ ও সম্পর্কের অস্থিরতার সময় হিসেবে ধরা হয়।
বিশেষ করে মেষ, কর্কট ও তুলা রাশির জাতকদের জন্য এই সময়টি কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে বলে মত জ্যোতিষীদের। তাই আগাম সতর্কতা ও সংযম বজায় রাখাই শ্রেয়।
মেষ (Aries/মেষ)

মেষ রাশির জাতকদের ক্ষেত্রে এই সময় মানসিক অস্থিরতা বৃদ্ধি পেতে পারে। ছোটখাটো সমস্যাও বড় আকার নিতে পারে। কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীদের সঙ্গে মতবিরোধ বা হঠকারী সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে ক্ষতির কারণ হতে পারে। নতুন বিনিয়োগ বা আর্থিক ঝুঁকি নেওয়া এই সময়ে এড়িয়ে চলাই ভালো।
স্বাস্থ্যদিক থেকেও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। মাথাব্যথা, ক্লান্তি বা অতিরিক্ত মানসিক চাপ সমস্যা বাড়াতে পারে। পারিবারিক ক্ষেত্রেও সামান্য বিষয় নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হতে পারে, তাই সংযত আচরণই সমাধান।
কর্কট (Cancer/কর্কট)

কর্কট রাশির জাতকদের আবেগের ওঠানামা সিদ্ধান্ত গ্রহণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। কর্মক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মতবিরোধের সম্ভাবনা রয়েছে। আর্থিক লেনদেন বিলম্বিত হতে পারে বা প্রত্যাশিত অর্থ হাতে না-ও আসতে পারে।
দাম্পত্য বা পারিবারিক সম্পর্কে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হতে পারে। তাই কথা বলার আগে ভেবে নেওয়া প্রয়োজন। স্বাস্থ্যদিক থেকে পেটের সমস্যা বা হজমের গোলমাল দেখা দিতে পারে—খাদ্যাভ্যাসে সংযম জরুরি।
তুলা (Libra/তুলা)

তুলা রাশির জাতকদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দেরি হতে পারে। ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে, বিশেষ করে অংশীদারিত্বে, সতর্ক থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন। অন্ধ বিশ্বাস বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে।
মানসিক চাপ ঘুমের সমস্যা তৈরি করতে পারে। অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা থেকে বিরত থাকা উচিত। গাড়ি চালানোর সময় বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। বড় কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অভিজ্ঞ ব্যক্তির পরামর্শ নেওয়া ভালো।
আরও পড়ুন:শনির চরম শত্রু এই ৪ রাশি! জন্ম থেকেই বিপদের ছায়া?
কী করবেন এই সময়ে?
জ্যোতিষ মতে, বৈধৃতি যোগ চলাকালীন ধৈর্য, সংযম ও ইতিবাচক মনোভাব বজায় রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। হঠকারী সিদ্ধান্ত না নিয়ে, ভেবেচিন্তে পদক্ষেপ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। নিয়মিত প্রার্থনা, ধ্যান বা মানসিক প্রশান্তির চর্চা এই সময়কে সামাল দিতে সহায়ক হতে পারে।
সতর্ক থাকলে এবং সচেতনভাবে চললে সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব অনেকটাই কমানো সম্ভব।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.