হিন্দু পরিবারে ঠাকুরঘর বা ঘরের মন্দিরকে পবিত্র স্থান হিসেবে গণ্য করা হয়। অনেকের বিশ্বাস, এই জায়গার পরিচ্ছন্নতা ও সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের সঙ্গে পরিবারের ইতিবাচক পরিবেশ জড়িয়ে থাকে। বাস্তুশাস্ত্রেও বলা হয়েছে, মন্দিরে কিছু নির্দিষ্ট জিনিস রাখা এড়িয়ে চলা উচিত। যদিও এগুলির পক্ষে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই, তবু বহু মানুষ ধর্মীয় বিশ্বাস ও প্রাচীন প্রথা মেনে চলেন। বাস্তুমতে কোন কোন জিনিস মন্দিরে না রাখাই ভালো, তা এক নজরে দেখে নেওয়া যাক।
ভাঙা বা ক্ষতিগ্রস্ত মূর্তি রাখবেন না
যদি কোনও দেব-দেবীর মূর্তি বা ছবি ভেঙে যায়, ফেটে যায় বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে তা দীর্ঘদিন মন্দিরে রেখে না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। বাস্তুশাস্ত্রের মতে, এমন মূর্তি শুভ শক্তির পরিবর্তে নেতিবাচক প্রভাবের প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। তাই যথাযথ ধর্মীয় রীতি মেনে সেগুলি সরিয়ে রাখা বা বিসর্জন দেওয়ার কথা বলা হয়।

একই দেবতার একাধিক মূর্তি এড়ানো ভালো
অনেকের ঠাকুরঘরে একই দেবতার একাধিক মূর্তি বা ছবি থাকে। তবে বাস্তুমতে একই দেবতার বহু প্রতিমা পাশাপাশি বা মুখোমুখি রাখাকে শুভ মনে করা হয় না। বিশেষ করে লক্ষ্মীদেবীর ক্ষেত্রে বসে থাকা মূর্তিকে শুভ বলে ধরা হয়, আর দাঁড়ানো মূর্তি না রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।
পূর্বপুরুষদের ছবি আলাদা স্থানে রাখুন
প্রয়াত বাবা-মা বা পূর্বপুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে অনেকেই তাঁদের ছবি ঠাকুরঘরে রাখেন। কিন্তু বাস্তুশাস্ত্রের মতে, দেব-দেবীর আসনের সঙ্গে পূর্বপুরুষদের ছবি না রেখে আলাদা সম্মানজনক স্থানে রাখা ভালো। এতে ধর্মীয় নিয়মের ভারসাম্য বজায় থাকে বলে বিশ্বাস করা হয়।
উগ্র রূপের ছবি বা মূর্তি
বাস্তুমতে ঘরের মন্দিরে দেব-দেবীর শান্ত, আশীর্বাদময় রূপ রাখা বেশি শুভ। যুদ্ধরত বা অত্যন্ত ক্রুদ্ধ ভঙ্গির মূর্তি বা ছবি অনেকেই এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন, কারণ এগুলি পারিবারিক পরিবেশে অশান্তির প্রতীক বলে ধরা হয়।
শুকনো ফুল বা বাসি মালা সরিয়ে ফেলুন
পুজোর ফুল ও মালা শুকিয়ে গেলে তা দীর্ঘদিন মন্দিরে ফেলে রাখা উচিত নয়। প্রতিদিন বা নিয়মিত পরিষ্কার করে নতুন ফুল ব্যবহার করলে ঠাকুরঘর পরিচ্ছন্ন থাকে এবং ইতিবাচক পরিবেশ বজায় থাকে বলে বাস্তুশাস্ত্রে উল্লেখ রয়েছে।
ধারালো জিনিস মন্দিরে নয়
ছুরি, কাঁচি বা অন্য কোনও ধারালো লোহার জিনিস ঠাকুরঘরে রাখা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। বাস্তুমতে, এই ধরনের বস্তু মন্দিরের শান্ত পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
মন্দিরের অবস্থান ও পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব
বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী, ঘরের উত্তর-পূর্ব বা ঈশান কোণকে মন্দিরের জন্য সবচেয়ে শুভ স্থান হিসেবে ধরা হয়। সেখানে পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের ব্যবস্থা রাখা, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং সকাল-সন্ধ্যায় প্রদীপ বা ধূপ জ্বালানো অনেকের ধর্মীয় অনুশীলনের অংশ।
মনে রাখবেন: উপরোক্ত বিষয়গুলি বাস্তুশাস্ত্র ও প্রচলিত ধর্মীয় বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে। এগুলির বৈজ্ঞানিক সত্যতা প্রতিষ্ঠিত নয়। ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও সংস্কার অনুযায়ী এগুলি মেনে চলা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।
Sumi has been waiting lifestyle, vastu Tips since 2026.