বলিউড অভিনেতা Shah Rukh Khan-এর ছেলে Aryan Khan-কে ঘিরে ২০২১ সালের বহুল আলোচিত ক্রুজ মাদক মামলাকে কেন্দ্র করে নতুন করে আইনি বিতর্ক সামনে এসেছে। এই মামলার সঙ্গে যুক্ত দুর্নীতি ও ঘুষের অভিযোগ নিয়ে বর্তমানে আদালতে গুরুত্বপূর্ণ শুনানি চলছে। মামলার অন্যতম অভিযুক্ত, নারকোটিকস কন্ট্রোল ব্যুরো (এনসিবি)-র প্রাক্তন জোনাল ডিরেক্টর Sameer Wankhede বম্বে হাইকোর্টে জানিয়েছেন, তিনি কখনও শাহরুখ খানের কাছ থেকে ঘুষ চাননি বা নেননি।
আদালতে কী বললেন ওয়াংখেড়ের আইনজীবী
সোমবার (২৩ মার্চ) বম্বে হাইকোর্টে শুনানির সময় ওয়াংখেড়ের পক্ষে সওয়াল করেন তাঁর আইনজীবী Abad Ponda। তিনি আদালতে দাবি করেন, সিবিআই যে দুর্নীতি ও ঘুষের অভিযোগ এনেছে, তার পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ নেই। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তদন্তকারী সংস্থার কাছে এমন কোনও তথ্য নেই যা দেখায় যে ওয়াংখেড়ে শাহরুখ খানের কাছ থেকে অর্থ দাবি করেছিলেন বা গ্রহণ করেছিলেন।
আইনজীবী আদালতকে আরও জানান, এনসিবি একটি গোপন সূত্র থেকে খবর পায় যে কর্ডেলিয়া নামের একটি প্রমোদতরীতে মাদকদ্রব্য থাকতে পারে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে আইন মেনে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের পর আরিয়ান খানসহ কয়েকজনকে আটক করা হয় এবং পরে গ্রেপ্তার করা হয়।
ঘুষের অভিযোগ কী ছিল
এই মামলার সূত্রপাত মূলত একটি অভিযোগকে কেন্দ্র করে। কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআই ২০২৩ সালের ১১ মে একটি এফআইআর দায়ের করে। সেখানে দাবি করা হয়েছিল, ২০২১ সালের অক্টোবর মাসে হওয়া কর্ডেলিয়া ক্রুজ মাদক মামলায় আরিয়ান খানের নাম না জড়ানোর বিনিময়ে শাহরুখ খানের কাছ থেকে ২৫ কোটি টাকা ঘুষ দাবি করা হয়েছিল।
তদন্তে আরও বলা হয়, পরে সেই টাকার অঙ্ক কমিয়ে ১৮ কোটি টাকায় আনা হয়। অভিযোগপত্রে ওয়াংখেড়ের পাশাপাশি এনসিবি-র প্রাক্তন কর্মকর্তা এবং আরও কয়েকজন ব্যক্তির নামও উল্লেখ করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে ছিলেন প্রাক্তন এসপি বিশ্ব বিজয় সিং, গোয়েন্দা কর্মকর্তা আশীষ রঞ্জন এবং দুই বেসরকারি ব্যক্তি কিরণ গোসাভি ও স্যানভিল ডি’সুজা।
২০২১ সালের সেই বিতর্কিত অভিযান
এই মামলার সূত্রপাত ২০২১ সালের অক্টোবর মাসে। মুম্বাইয়ের সমুদ্রে চলা কর্ডেলিয়া ক্রুজে এনসিবি অভিযান চালায়। ওই অভিযানের পরদিন, অর্থাৎ ৩ অক্টোবর আরিয়ান খানকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনাটি তখন দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করে এবং দীর্ঘ সময় ধরে সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে ছিল।
তদন্তের বিভিন্ন পর্যায়ে একাধিক প্রশ্নও ওঠে—অভিযানের পদ্ধতি, প্রমাণ সংগ্রহ এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ নিয়ে।
এসআইটি তদন্তে কী উঠে আসে
পরবর্তীতে এনসিবি একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) গঠন করে মামলাটি খতিয়ে দেখতে। সেই তদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী, আরিয়ান খানের বিরুদ্ধে যথেষ্ট প্রমাণ না থাকায় তাকে নির্দোষ ঘোষণা করা হয়। গত বছর ২৭ মে প্রকাশিত সেই রিপোর্ট মামলার মোড় ঘুরিয়ে দেয় এবং অনেক বিতর্কেরও অবসান ঘটায়।
বর্তমানে মামলার অবস্থান
বর্তমানে সমীর ওয়াংখেড়ে সিবিআইয়ের করা এফআইআর বাতিলের আবেদন নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। তাঁর দাবি, অভিযোগগুলি ভিত্তিহীন এবং তদন্তে এমন কোনও শক্ত প্রমাণ নেই যা তাকে দোষী প্রমাণ করে। আদালত এই বিষয়ে উভয় পক্ষের যুক্তি শুনছে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা আদালতের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে।
সব মিলিয়ে, আরিয়ান খানকে ঘিরে শুরু হওয়া সেই ক্রুজ মাদক মামলা এখনও আইনি ও প্রশাসনিক স্তরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। আদালতের রায়ের দিকে এখন নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.