হিন্দু ধর্মে তুলসী গাছকে অত্যন্ত পবিত্র ও শুভ বলে মনে করা হয়। শাস্ত্রমতে, তুলসী হল দেবী লক্ষ্মীর এক রূপ এবং ভগবান বিষ্ণুর অতি প্রিয়। সেই কারণে বহু পরিবারেই নিয়ম মেনে তুলসী গাছের পূজা করা হয়। বিশ্বাস করা হয়, যেখানে তুলসী থাকে সেখানে সুখ, শান্তি ও ইতিবাচক শক্তির বাস ঘটে।

কিন্তু অনেক সময় অতিরিক্ত যত্ন, বীজ পড়ে যাওয়া বা প্রাকৃতিক কারণে তুলসী গাছ বাড়ির উঠোনে অতিরিক্ত ছড়িয়ে পড়ে। এতে যেমন জায়গা সংকীর্ণ হয়, তেমনই সাপ বা পোকামাকড়ের আশঙ্কাও বেড়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে কী করা উচিত—এই প্রশ্ন নিয়েই এক মহিলা ভক্ত মথুরার বৃন্দাবনের প্রসিদ্ধ সাধু প্রেমানন্দ মহারাজের কাছে পরামর্শ চান।
প্রেমানন্দ মহারাজ স্পষ্টভাবে জানান, তুলসী গাছকে কখনও অবহেলা বা অসম্মান করা উচিত নয়। তিনি বলেন, বাড়িতে যাতে জঙ্গল বা বিপদের পরিস্থিতি তৈরি না হয়, তার জন্য তুলসী গাছ আলাদা পাত্রে লাগানোই শ্রেয়। এতে নিয়মিত পূজাও করা যায় এবং গাছও সুরক্ষিত থাকে।
যদি তুলসীর বীজ থেকে অযাচিতভাবে অনেক চারা গজিয়ে ওঠে, তবে সেগুলি ফেলে দেওয়া অনুচিত। বরং যাঁরা তুলসী গাছ লাগাতে ইচ্ছুক, তাঁদের শ্রদ্ধার সঙ্গে সেই চারাগুলি দিয়ে দেওয়াই ধর্মসম্মত কাজ। এতে পুণ্যও লাভ হয় বলে বিশ্বাস।
প্রেমানন্দ মহারাজ আরও বলেন, যদি কাউকে দেওয়ার মতো সুযোগ না থাকে, তবে তুলসীর বীজ বা চারা পরিষ্কার ও নিরাপদ জায়গায় সংরক্ষণ করা উচিত। তবে বাড়িতে অবশ্যই অন্তত একটি তুলসী গাছ নিয়মিত পূজা ও যত্নের সঙ্গে রাখা দরকার।
আরও পড়ুন
Ketu Nakshatra Parivartan 2026: নক্ষত্র বদলে কেতু, খুলছে ৩ রাশির ভাগ্যের দরজা
শাস্ত্রমতে, তুলসী থাকা বাড়িতে নেতিবাচক শক্তি প্রবেশ করতে পারে না। নিয়মিত তুলসী দর্শন ও পূজার মাধ্যমে মানসিক শান্তি বৃদ্ধি পায় এবং পরিবেশ শুদ্ধ হয়। তাই তুলসী শুধু একটি গাছ নয়, বরং আধ্যাত্মিক শক্তির প্রতীক—এ কথা মনে রেখেই তার যত্ন নেওয়াই শ্রেয়।
আরও পড়ুন
বড়দিনে গ্রহের বিশেষ যোগ: ২৫ ডিসেম্বর খুলছে ভাগ্যের নতুন দরজা