বাংলা বিনোদন দুনিয়ার অত্যন্ত পরিচিত মুখ সৌমিতৃষা কুণ্ডু। ছোট পর্দায় অভিনয়ের হাতেখড়ি হলেও বর্তমানে তিনি বড় পর্দা ও ওটিটি—দুই মাধ্যমেই নিজের জায়গা পোক্ত করেছেন। টেলিভিশনের জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘মিঠাই’ তাঁকে ঘরে ঘরে পরিচিত করে তুললেও, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর কেরিয়ার নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।
২০২৫ সাল সৌমিতৃষার জীবনে খুব একটা স্বস্তির ছিল না। বারবার অসুস্থ হয়ে পড়ার কারণে কাজ থেকেও কিছুদিন বিরতি নিতে হয় তাঁকে। এর প্রভাব পড়ে তাঁর পেশাগত জীবনেও। তবে নতুন বছর যেন নতুন আশার আলো নিয়ে এসেছে অভিনেত্রীর জীবনে। ২০২৬ সালের শুরুতেই ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পেয়েছে তাঁর জনপ্রিয় ওয়েব সিরিজ ‘কালরাত্রি’-র সিজন ২। একই সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়াতেও ফের সক্রিয় হয়েছেন তিনি, যা ভক্তদের মধ্যে বাড়তি উচ্ছ্বাস তৈরি করেছে।
অভিনয়ের পাশাপাশি সৌমিতৃষার আর একটি পরিচিত দিক হল তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতি তাঁর সমর্থন নতুন নয়। ২০২১ সালের পুরভোট থেকে শুরু করে ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের আগে পর্যন্ত একাধিক বার তাঁকে জোড়া ফুল শিবিরের প্রচারে দেখা গিয়েছে। শুধু প্রচারেই নয়, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে প্রকাশ্য প্রশংসাও করতে শোনা গিয়েছে অভিনেত্রীকে। জানা যায়, মুখ্যমন্ত্রী নিজেও সৌমিতৃষাকে যথেষ্ট স্নেহ করেন—পুজোর আগে তাঁর কাছে শাড়ি উপহার পাঠানোর ঘটনাও সে কথারই প্রমাণ।
এর আগেও সৌমিতৃষাকে ভোটের প্রচারে দেখে জল্পনা শুরু হয়েছিল—তিনি কি তৃণমূলের প্রার্থী হতে চলেছেন? যদিও সে সময় সংবাদমাধ্যমে অভিনেত্রী স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, তিনি কোনও নেত্রী নন এবং রাজনীতিতে আলাদা করে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনাও তখন ছিল না। একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবেই নিজের মতাদর্শ অনুযায়ী প্রচারে অংশ নিয়েছিলেন বলে জানান তিনি। তবে ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তাঁর উত্তর ছিল রহস্যময়—“পরের ভোটে কী হবে, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে।”
সম্প্রতি সেই জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে। কারণ, একাধিকবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে একই মঞ্চে দেখা যাচ্ছে সৌমিতৃষাকে। এমনকী বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে মিছিলে মুখ্যমন্ত্রীর পাশে হাঁটতেও দেখা গিয়েছে তাঁকে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে কি তিনি প্রার্থী হতে পারেন?
এই প্রসঙ্গে সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমকে সৌমিতৃষা জানান, তিনি রাজনীতিতে আগ্রহী ঠিকই, তবে বিষয়টি এতদূর পর্যন্ত গড়াবে কিনা তা তিনি এখনও নিশ্চিত নন। তাঁর কথায়, কোনও কিছু পাওয়ার আশায় তিনি কোথাও যান না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তিনি অত্যন্ত ভালোবাসেন এবং তাঁকে দেখে অনুপ্রাণিত হন। মুখ্যমন্ত্রী যেখানে ডাকেন, সেখানেই তিনি যেতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে তিনি এটাও বলেন, মুখ্যমন্ত্রী যাঁকে যে দায়িত্ব দেন, তা বিচার-বিবেচনা করেই দেন। ভবিষ্যতে যদি কোনও দিন দিদি তাঁকে দায়িত্ব দেন, তিনি তা গ্রহণ করতে প্রস্তুত থাকবেন।
অভিনয় জীবনের শুরুতে সৌমিতৃষাকে দেখা গিয়েছিল নেতিবাচক চরিত্রে। ২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ‘এ আমার গুরুদক্ষিণা’ ধারাবাহিকে ঝিল্লি চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। এরপর ‘কনে বৌ’ ধারাবাহিকে কলি সেনের চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের নজর কাড়েন। তবে প্রকৃত অর্থে সাফল্যের শিখরে পৌঁছন ‘মিঠাই’ ধারাবাহিকের হাত ধরে।
‘মিঠাই’ শেষ হওয়ার পরই বড় পর্দায় তাঁর ডেবিউ হয় দেব অভিনীত ‘প্রধান’ ছবিতে, যেখানে তিনি রোমি চরিত্রে অভিনয় করেন। এরপর ‘১০-ই জুন’ ছবিতে সৌরভ দাসের বিপরীতে কাজ করলেও, নির্মাতাদের সঙ্গে সমস্যার কারণে ছবিটি এখনও মুক্তি পায়নি।
সব মিলিয়ে, অভিনয় ও রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা—দুই দিকেই সৌমিতৃষা কুণ্ডুকে ঘিরে আগ্রহ তুঙ্গে। তিনি আদৌ সক্রিয় রাজনীতিতে পা রাখবেন কি না, তা ভবিষ্যৎই বলবে। তবে আপাতত এটুকু স্পষ্ট, বাংলা বিনোদন জগতের ‘মিঠাই’ এখন রাজনীতির ময়দানেও সমানভাবে আলোচনার কেন্দ্রে।

Hello, I am Biplab Baroi. I have been working in blogging for more than four years. I began my journey in the digital media industry in 2021.
Along with covering daily news and current events, I write articles on tech news, smartphones, and astrology. My work is created strictly for educational purposes use only.