হিন্দু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে শঙ্খের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। মন্দিরে হোক কিংবা গৃহস্থের বাড়িতে, পূজা-পার্বণ বা সন্ধ্যা আরতির সময় শঙ্খধ্বনি শোনা যায় প্রায় সর্বত্রই। বহু হিন্দু পরিবারে প্রতিদিন সন্ধ্যাবেলায় শঙ্খ বাজানোর একটি দীর্ঘদিনের প্রচলিত রীতি রয়েছে।
তবে অনেকেই লক্ষ্য করেছেন, সাধারণত শঙ্খ তিনবারই বাজানো হয়। বাড়ির বড়রা প্রায়ই বলেন—“তিনবারের বেশি শঙ্খ বাজিও না।” কিন্তু কেন এই নিয়ম মানা হয়, তার পেছনে রয়েছে আধ্যাত্মিক বিশ্বাস ও প্রাচীন ঐতিহ্যের ব্যাখ্যা।
শঙ্খধ্বনির আধ্যাত্মিক গুরুত্ব
ধর্মীয় মত অনুযায়ী, শঙ্খধ্বনি অত্যন্ত পবিত্র একটি শব্দতরঙ্গ সৃষ্টি করে। এই ধ্বনি পরিবেশকে শুদ্ধ করে এবং চারপাশের নেতিবাচক শক্তিকে দূর করতে সাহায্য করে বলে বিশ্বাস করা হয়।
হিন্দু শাস্ত্রে মনে করা হয়, শঙ্খের শব্দে দেবতাদের আবাহন করা হয়। অর্থাৎ, শঙ্খ বাজানোর মাধ্যমে দেবদেবীদের উপস্থিতির জন্য আহ্বান জানানো হয়। এজন্যই সন্ধ্যার আরতির সময় বা পূজা শেষ হওয়ার পরে শঙ্খ বাজানো একটি শুভ লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত।
সকালে শঙ্খ বাজানোর রীতি
সকালে শঙ্খ বাজানোর চলও রয়েছে, যদিও তা সন্ধ্যার তুলনায় কিছুটা কম দেখা যায়। তবে অনেকে মনে করেন, সকালে পুজো-পাঠের শেষে শঙ্খ বাজালে তা অত্যন্ত শুভ ফল এনে দেয়।
এই সময় শঙ্খধ্বনি দিনের শুরুতে ইতিবাচক শক্তিকে আহ্বান করে এবং ঘরের পরিবেশকে পবিত্র করে তোলে বলে আধ্যাত্মিক বিশ্বাস রয়েছে।
কেন তিনবার শঙ্খ বাজানো হয়?
আধ্যাত্মিক ধারণা অনুযায়ী, দেবদেবীদের আহ্বান জানানোর জন্য সাধারণত তিনবার শঙ্খ বাজানো হয়। এই তিনবার ধ্বনি একটি প্রতীকী অর্থ বহন করে। অনেকের মতে এটি সৃষ্টিকর্তার তিনটি দিক—সৃষ্টি, পালন ও সংহার—এর প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হয়।
তিনবার শঙ্খ বাজানোর মাধ্যমে দেবশক্তিকে সম্মান জানানো এবং তাদের উপস্থিতি কামনা করা হয়।
তিনবারের বেশি শঙ্খ বাজালে কী হয়?
লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, তিনবারের বেশি শঙ্খ বাজানো শুভ নয়। আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যায় বলা হয়, অতিরিক্ত শঙ্খধ্বনি নাকি অশুভ বা আসুরিক শক্তিকে আকর্ষণ করতে পারে।
এই কারণে বহু বাড়িতে বড়রা সতর্ক করে বলেন, শঙ্খ যেন তিনবারের বেশি না বাজানো হয়। তাদের বিশ্বাস, অতিরিক্ত ধ্বনি অশুভ শক্তির প্রভাব বাড়াতে পারে এবং জীবনে নানা সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।
ধর্মীয় ঐতিহ্যের প্রতীক
যদিও এসব বিষয় মূলত আধ্যাত্মিক বিশ্বাস ও লোকাচারের সঙ্গে যুক্ত, তবু শঙ্খধ্বনি হিন্দু সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বহু যুগ ধরে এটি শুভতা, পবিত্রতা এবং ইতিবাচক শক্তির প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
আজও সন্ধ্যার সময় যখন বাড়িতে শঙ্খধ্বনি ভেসে আসে, তখন তা শুধু ধর্মীয় আচারই নয়—একটি ঐতিহ্য ও বিশ্বাসের ধারাবাহিকতাকেও স্মরণ করিয়ে দেয়।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.