চুল শুধু সৌন্দর্যের অংশ নয়, ব্যক্তিত্বেরও বড় পরিচয়। তাই ঘন, মসৃণ ও উজ্জ্বল চুলের স্বপ্ন প্রায় সকলেরই থাকে। কিন্তু দূষণ, অনিয়মিত জীবনযাপন, অতিরিক্ত স্টাইলিং কিংবা রাসায়নিক ব্যবহারের কারণে কম বয়সেই চুলের জেল্লা হারিয়ে যায়। একসময় তারকাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল নানা আধুনিক হেয়ার ট্রিটমেন্ট। এখন সেই সুবিধাই মিলছে কলকাতার বিভিন্ন সালোঁ ও ক্লিনিকে, তাও মধ্যবিত্তের সাধ্যের মধ্যেই।
বর্তমানে কেবল সাধারণ স্পা বা কেরাটিন ট্রিটমেন্ট নয়, চুলের ধরন ও সমস্যার ভিত্তিতে একাধিক উন্নত থেরাপি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এগুলোর সাহায্যে ক্ষতিগ্রস্ত চুলের পুনরুজ্জীবন, চুল পড়া কমানো, এমনকি নতুন চুল গজানোর মতো সমাধানও পাওয়া যাচ্ছে।
হেয়ার বোটক্সে ফিরছে চুলের প্রাণ
নাম শুনে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। হেয়ার বোটক্সে কোনও ক্ষতিকর টক্সিন ব্যবহার করা হয় না। বরং এতে থাকে প্রোটিন, কোলাজেন ও অ্যামিনো অ্যাসিডের বিশেষ মিশ্রণ, যা চুলের ভেতর থেকে পুষ্টি জোগায়। এই থেরাপির ফলে চুল নরম ও উজ্জ্বল হয়, কিন্তু অস্বাভাবিকভাবে সোজা হয়ে যায় না। যাঁদের চুল শুষ্ক ও প্রাণহীন হয়ে পড়েছে, তাঁদের কাছে এটি এখন বেশ জনপ্রিয়। চুলের দৈর্ঘ্য অনুযায়ী খরচ সাধারণত আড়াই হাজার থেকে আট হাজার টাকার মধ্যে।
ন্যানোপ্লাস্টিয়া রুক্ষ চুলের সমাধান
অতিরিক্ত হেয়ার কালার, স্ট্রেটনিং বা রাসায়নিক ব্যবহারে ক্ষতিগ্রস্ত চুলের জন্য ন্যানোপ্লাস্টিয়া কার্যকর সমাধান হিসেবে ধরা হচ্ছে। এতে ন্যানো প্রযুক্তির মাধ্যমে চুলের গভীরে পুষ্টি পৌঁছে দেওয়া হয়। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই ট্রিটমেন্টে ফর্মালডিহাইডের মতো ক্ষতিকর রাসায়নিক থাকে না। ফলে তুলনামূলকভাবে নিরাপদ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এর প্রভাব ছয় থেকে আট মাস পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। খরচ সাধারণত চার হাজার থেকে পনেরো হাজার টাকার মধ্যে ওঠানামা করে।
বারবার রং করালে ভরসা ওলাপ্লেক্স
চুলে ঘন ঘন রং বা ব্লিচ করালে চুলের প্রোটিন বন্ধন দুর্বল হয়ে যায়। ফলে চুল ভাঙতে শুরু করে। এই সমস্যার সমাধানে এখন জনপ্রিয় ওলাপ্লেক্স থেরাপি। এটি ক্ষতিগ্রস্ত চুলের ভাঙা বন্ধনকে পুনরায় জোড়া লাগাতে সাহায্য করে। ফলে চুল আগের তুলনায় শক্তিশালী ও স্বাস্থ্যবান দেখায়। প্রতি সেশনের খরচ প্রায় আড়াই হাজার থেকে ছয় হাজার টাকা।
কেরাটিনের বদলে সিস্টিন থেরাপি
যাঁরা কড়া রাসায়নিক ছাড়াই মসৃণ চুল চান, তাঁদের জন্য সিস্টিন থেরাপি একটি ভালো বিকল্প। এটি মূলত অ্যামিনো অ্যাসিড নির্ভর ট্রিটমেন্ট। এতে চুল স্বাভাবিকভাবেই নরম ও উজ্জ্বল হয়, তবে একেবারে স্টিক স্ট্রেট হয়ে যায় না। ফলে চুলের স্বাভাবিক ভলিউম বজায় থাকে। এই থেরাপির খরচ সাধারণত পাঁচ হাজার থেকে বারো হাজার টাকার মধ্যে।
চুল পড়া ও টাকের সমস্যায় নতুন ভরসা
বর্তমানে কম বয়সেই চুল পড়া ও টাকের সমস্যা অনেকের মধ্যেই দেখা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ওজোন থেরাপি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এটি মাথার ত্বকে অক্সিজেন সরবরাহ বাড়িয়ে চুলের গোড়া মজবুত করতে সাহায্য করে। খুশকির সমস্যাতেও এটি কার্যকর বলে মনে করা হয়। প্রতি সেশনের জন্য খরচ প্রায় দেড় হাজার থেকে তিন হাজার টাকা।
অন্যদিকে, নতুন চুল গজানোর জন্য পিআরপি থেরাপির চাহিদাও দ্রুত বাড়ছে। এই পদ্ধতিতে শরীরের নিজস্ব প্লেটলেট ব্যবহার করে চুলের বৃদ্ধিকে উৎসাহ দেওয়া হয়। প্রতি সেশনে খরচ প্রায় তিন হাজার থেকে সাত হাজার টাকার মধ্যে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনও ট্রিটমেন্ট করানোর আগে অবশ্যই নিজের চুলের ধরন ও সমস্যার ভিত্তিতে পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ সব ধরনের থেরাপি সকলের জন্য সমান কার্যকর নাও হতে পারে। সঠিক পরিচর্যা ও উপযুক্ত চিকিৎসা পেলে তারকাদের মতো উজ্জ্বল ও স্বাস্থ্যবান চুল এখন আর স্বপ্ন নয়।