দিনের শেষে গরম ভাত আর ডালের থালা যেন অনেকের কাছেই আরামের আরেক নাম। সহজপাচ্য, পেটভরানো এবং স্বাদের দিক থেকেও এই খাবারের জনপ্রিয়তা দীর্ঘ দিনের। ভারতের নানা প্রান্তে ভাত-ডাল প্রতিদিনের খাদ্যতালিকার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে শুধু ভাত-ডাল খেলেই কি শরীরের সব পুষ্টির চাহিদা পূরণ হয়? পুষ্টিবিদ ও ফিটনেস বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তরটা পুরোপুরি হ্যাঁ নয়।
ফিটনেস প্রশিক্ষকদের মতে, ভাত এবং ডাল নিজে থেকে অস্বাস্থ্যকর খাবার নয়। ডালে প্রোটিন ও ফাইবার রয়েছে, আর ভাত শরীরকে দ্রুত শক্তি জোগায়। কিন্তু যাঁরা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান বা শরীরচর্চা করেন, তাঁদের জন্য শুধু ভাত-ডাল যথেষ্ট নয়। কারণ শরীরের প্রয়োজনীয় সব পুষ্টি এতে মেলে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভাত-ডালের সঙ্গে আরও কিছু স্বাস্থ্যকর খাবার যোগ করলে তবেই তৈরি হবে সুষম আহার।

স্যালাড রাখুন পাতে
পেঁয়াজ, শসা, গাজর, বিট ও টম্যাটোর মতো কাঁচা সব্জি খাবারের সঙ্গে রাখলে শরীরে পর্যাপ্ত ফাইবার পৌঁছয়। ফাইবার হজমে সাহায্য করে এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরিয়ে রাখে। পাশাপাশি রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকিও কমায়।
সব্জির পরিমাণ বাড়ান
শুধু ভাতের উপর নির্ভর না করে পাতে বিভিন্ন ধরনের সব্জি রাখা প্রয়োজন। কম তেল ও মশলায় রান্না করা তরকারি শরীরকে ভিটামিন, খনিজ এবং অতিরিক্ত ফাইবার দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্লেটের অর্ধেক অংশ সব্জি দিয়ে ভরাট রাখাই সবচেয়ে ভাল অভ্যাস।
সাদা ভাতের বদলে ব্রাউন রাইস
অনেকে এখন সাদা চালের বদলে ব্রাউন রাইস খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। এতে তুলনামূলক বেশি ফাইবার ও পুষ্টিগুণ থাকে। ফলে দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকে এবং অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতাও কমে।
প্রোটিনের ঘাটতি পূরণ জরুরি
ডালে কিছুটা প্রোটিন থাকলেও শরীরের সম্পূর্ণ চাহিদা পূরণ করতে অতিরিক্ত প্রোটিন দরকার হতে পারে। আমিষভোজীরা মাছ, ডিম বা মুরগির মাংস রাখতে পারেন খাবারের সঙ্গে। অন্য দিকে নিরামিষাশীরা পনির, টোফু বা ডালজাতীয় খাবার বাড়াতে পারেন। এতে শরীর প্রয়োজনীয় অ্যামাইনো অ্যাসিড পায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভাত-ডাল বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং খাবারের সঙ্গে সঠিক উপাদান যোগ করে সেটিকে আরও পুষ্টিকর করে তোলাই আসল লক্ষ্য। সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখতে হলে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ফাইবার ও ভিটামিন— সব কিছুর মধ্যে ভারসাম্য রাখা জরুরি।