২০২৬ সালের শুরুতেই ভারতের বাজারে লঞ্চ হল Tata Punch Facelift। মাইক্রো SUV সেগমেন্টে জনপ্রিয় এই গাড়িটিকে আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করে তুলেছে টাটা মোটরস। দিল্লির এক্স-শোরুমে নতুন পাঞ্চের প্রারম্ভিক দাম রাখা হয়েছে ৫ লাখ ৫৯ হাজার টাকা। এই দামে গাড়িটি মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের কাছে কতটা সাশ্রয়ী, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে আলোচনা।
শক্তিশালী ইঞ্জিন ও পারফরম্যান্স
নতুন Tata Punch Facelift-এর সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে ইঞ্জিনে। পুরনো মডেলের তুলনায় এবার দেওয়া হয়েছে ১.২ লিটারের টার্বো পেট্রল iTurbo ইঞ্জিন, যা ১২০ হর্সপাওয়ার ও ১৭০ Nm টর্ক জেনারেট করতে সক্ষম। সংস্থার দাবি অনুযায়ী, গাড়িটি ০ থেকে ১০০ কিমি/ঘণ্টা গতি তুলতে সময় নেয় মাত্র ১১.১ সেকেন্ড।
এতে দেওয়া হয়েছে সিক্স-স্পিড ম্যানুয়াল ট্রান্সমিশন। তবে পেট্রল ভ্যারিয়েন্টে কোনও অটোমেটিক গিয়ারবক্স রাখা হয়নি। পাশাপাশি, নতুন Punch Facelift-এর CNG ভ্যারিয়েন্টেও লঞ্চ হয়েছে, যেখানে অটোমেটিক ট্রান্সমিশনের সুবিধা পাওয়া যাবে।
পুরনো মডেল থাকছেই বাজারে
টাটা স্পষ্ট জানিয়েছে, পুরনো Punch মডেলটি বাজার থেকে তুলে নেওয়া হচ্ছে না। সেই মডেলে রয়েছে ১.২ লিটার ন্যাচারালি অ্যাসপিরেটেড পেট্রল ইঞ্জিন, যা ৭৩.৪ bhp শক্তি ও ১১৩ Nm টর্ক উৎপন্ন করে। পুরনো পাঞ্চে পাঁচ-স্টেজের অটোমেটিক ট্রান্সমিশনের অপশনও পাওয়া যাবে।
রিফ্রেশড ডিজাইন ও কেবিন
ডিজাইনের দিক থেকে নতুন পাঞ্চে SUV-সুলভ চরিত্র বজায় রাখা হয়েছে। LED হেডল্যাম্প, নতুন 3D গ্রিল, আপডেটেড ফ্রন্ট বাম্পার এবং ১৬ ইঞ্চি ডায়মন্ড কাট অ্যালয় হুইল গাড়িটিকে আরও প্রিমিয়াম লুক দিয়েছে। রিয়ার প্যানেলে রয়েছে কানেক্টেড LED লাইট বার ও রিডিজাইন করা টেল ল্যাম্প।
ইন্টেরিওরে দেওয়া হয়েছে ডুয়েল-টোন থিম, ডিজিটাল ইনস্ট্রুমেন্ট ক্লাস্টার, স্মার্ট ডিজিটাল স্টিয়ারিং হুইল ও রিডিজাইনড এয়ার ভেন্ট। ড্রাইভারের জন্য আর্মরেস্ট এবং আরও আরামদায়ক রিয়ার সিট নতুন পাঞ্চের কেবিন অভিজ্ঞতাকে উন্নত করেছে।
ফিচার ও সেফটি
ফিচারের দিক থেকেও পিছিয়ে নেই ২০২৬ Tata Punch Facelift। এতে রয়েছে টাচস্ক্রিন ইনফোটেনমেন্ট সিস্টেম সহ ওয়ারলেস স্মার্টফোন কানেক্টিভিটি। প্রায় ৪৫টিরও বেশি কানেক্টেড কার ফিচার দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও রয়েছে ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরা, অটো ডিমিং IRVM, রেন-সেন্সিং ওয়াইপার, LED ফগ ল্যাম্প এবং মাল্টিপল ড্রাইভিং মোড—যা এই সেগমেন্টে গাড়িটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।
ভ্যারিয়েন্ট, বুট স্পেস ও কালার অপশন
নতুন Tata Punch Facelift লঞ্চ হয়েছে Smart, Pure, Pure Plus, Adventure, Accomplished এবং Accomplished+ S—মোট ছয়টি ট্রিমে। গাড়িটিতে রয়েছে ৩৬৬ লিটারের বুট স্পেস এবং প্রতি টনে ১০৫ PS পাওয়ার-টু-ওয়েট রেশিও।
কালার অপশনের মধ্যে রাখা হয়েছে Cyantific, Caramel, Bengal Rouge এবং Coorg Clouds।
শেষ কথা: মধ্যবিত্তের জন্য কতটা যুক্তিযুক্ত?
৫.৫৯ লাখ টাকা থেকে শুরু হওয়া দামে শক্তিশালী টার্বো ইঞ্জিন, আধুনিক ফিচার ও নতুন ডিজাইন—সব মিলিয়ে ২০২৬ Tata Punch Facelift নিঃসন্দেহে আগের তুলনায় অনেক বেশি প্রিমিয়াম। তবে দাম বৃদ্ধির কারণে এটি ঠিক কতটা মধ্যবিত্তের নাগালে থাকছে, তা নির্ভর করবে ক্রেতার বাজেট ও প্রয়োজনের উপর। তবুও, মাইক্রো SUV সেগমেন্টে নতুন Punch Facelift যে বড় চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিল, তা বলাই যায়।

Hello, I am Biplab Baroi. I have been working in blogging for more than four years. I began my journey in the digital media industry in 2021.
Along with covering daily news and current events, I write articles on tech news, smartphones, and astrology. My work is created strictly for educational purposes use only.