প্রচণ্ড গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা। রাস্তায় বেরোলেই রোদের তাপে শরীর যেন ঝলসে যাচ্ছে। এসি কিংবা কুলার কিছুটা আরাম দিলেও দিনের শেষে ক্লান্তি, শরীর ম্যাড়মেড়ে ভাব আর ত্বকের জেল্লা হারিয়ে যাওয়ার সমস্যা থেকেই যাচ্ছে। এই সময় শরীরকে ভেতর থেকে ঠান্ডা রাখা জরুরি। আর সেই কাজেই ভরসা রাখা যায় ঘরোয়া কিছু সহজ উপায়ে।
বলিউড অভিনেত্রী করিনা কাপুর খানের পছন্দের পুষ্টিবিদ রুজুতা দিওয়েকর সম্প্রতি এমন কয়েকটি দেশি উপায়ের কথা জানিয়েছেন, যা গরমে শরীরকে ঠান্ডা রাখার পাশাপাশি ত্বক ও মনকেও চাঙ্গা রাখতে সাহায্য করে।
খসখসের শিকড় ভেজানো জল

গরমে সাধারণ জল খেতে অনেকেরই অনীহা আসে। সেই সমস্যার সহজ সমাধান হতে পারে খসখসের শিকড় বা বেনা ঘাস। মাটির কুঁজোর জলে কয়েকটি ভেটিভার শিকড় ভিজিয়ে রাখলে জলের স্বাদে আসে প্রাকৃতিক মিষ্টত্ব ও আলাদা সুবাস।
এই জল শরীরের অতিরিক্ত তাপ কমাতে সাহায্য করে বলে মনে করা হয়। একই সঙ্গে এটি ত্বকের জন্যও উপকারী। বিশেষ করে যাঁদের ব্রণ বা খুসকির সমস্যা রয়েছে, তাঁরা এই জল স্নানের সময়ও ব্যবহার করতে পারেন। তবে যাঁদের মাইগ্রেন বা ঘন ঘন মাথাব্যথার প্রবণতা রয়েছে, তাঁদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
মেহেন্দির শীতল স্পর্শ
হাতে মেহেন্দি লাগানো এখন অনেকটাই উৎসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ। অথচ প্রাকৃতিক হেনা শরীর ঠান্ডা রাখার পুরনো এক ঘরোয়া উপায়। মেহেন্দি শরীরের অতিরিক্ত তাপ শোষণ করতে সাহায্য করে বলে প্রচলিত বিশ্বাস রয়েছে।
এ ছাড়াও এর হালকা গন্ধ মনকে শান্ত রাখে এবং মানসিক চাপ কমাতেও সাহায্য করতে পারে। ফলে এটি একদিকে যেমন সৌন্দর্যচর্চার অংশ, তেমনই গরমে স্বস্তি পাওয়ারও সহজ উপায়।
গরমে ভরসা রাখুন ঘোলে
গ্রীষ্মকালে ঘোল বা ছাঁচ শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী পানীয় হিসেবে ধরা হয়। এতে থাকে প্রোটিন, ক্যালশিয়াম ও ভিটামিন বি-১২-এর মতো প্রয়োজনীয় উপাদান। পাশাপাশি এটি অন্ত্রের স্বাস্থ্যের পক্ষেও ভালো।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত ঘামের ফলে শরীর থেকে যে ইলেক্ট্রোলাইট বেরিয়ে যায়, ঘোল তা পূরণ করতে সাহায্য করে। সামান্য নুন, ভাজা জিরে গুঁড়ো ও এক চিমটে হিং মিশিয়ে খেলে এর স্বাদ যেমন বাড়ে, তেমনই হজমও ভালো হয়।
নিয়মিত ঘোল খেলে পেট হালকা থাকে, গরমে ক্লান্তি কমে এবং ত্বকেও সতেজ ভাব ফিরে আসে।
প্রচণ্ড গরমে শরীরকে সুস্থ রাখতে শুধু বাইরের ঠান্ডা নয়, ভেতরের আরামও জরুরি। আর সেই কারণেই পুরনো ঘরোয়া উপায়গুলো আজও সমান কার্যকর বলে মনে করছেন অনেকেই।