পরিবারের দায়িত্ব, কর্মক্ষেত্রের চাপ এবং দৈনন্দিন ব্যস্ততার মধ্যে অনেক পুরুষই নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি যথেষ্ট গুরুত্ব দেন না। শরীরের ছোটখাটো অসুবিধাকে তুচ্ছ ভেবে এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা বেশ সাধারণ। কিন্তু অনেক সময় এই সামান্য লক্ষণগুলিই বড় কোনও শারীরিক সমস্যার পূর্বাভাস হতে পারে। তাই শরীরের পরিবর্তন ও অস্বাভাবিক সংকেত সম্পর্কে সচেতন থাকা অত্যন্ত জরুরি।
১. হঠাৎ ওজন কমে বা বেড়ে যাওয়া
কোনও বিশেষ ডায়েট বা জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন না এনেও যদি দ্রুত ওজন কমতে বা বাড়তে থাকে, তবে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। আচমকা ওজন কমে যাওয়া রক্তে শর্করার মাত্রার সমস্যা বা ডায়াবেটিসের লক্ষণ হতে পারে। আবার অস্বাভাবিক ওজন বৃদ্ধি কিংবা হ্রাস থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্যহীনতার সঙ্গেও যুক্ত থাকতে পারে। তাই এমন পরিবর্তন নজরে এলে দ্রুত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো প্রয়োজন।

২. পা বা গোড়ালি ফুলে যাওয়া
দীর্ঘ সময় বসে কাজ করলে অনেকের পায়ে সাময়িক ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। তবে যদি নিয়মিতভাবে গোড়ালি বা পায়ের পাতায় ফোলা ভাব থাকে এবং তা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে, তাহলে তা শরীরের অভ্যন্তরীণ সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। হৃদ্যন্ত্র, কিডনি কিংবা লিভারের বিভিন্ন সমস্যার কারণে এমন লক্ষণ দেখা দিতে পারে। তাই বিষয়টি অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
৩. নিয়মিত নাক ডাকা
অনেকেই নাক ডাকাকে সাধারণ বিষয় বলে মনে করেন। কিন্তু প্রতিদিন জোরে নাক ডাকা সব সময় নিরীহ নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর সঙ্গে স্লিপ অ্যাপনিয়া নামের একটি ঘুমজনিত সমস্যা জড়িয়ে থাকতে পারে। এই অবস্থায় ঘুমের মধ্যে কিছু সময়ের জন্য শ্বাসপ্রশ্বাস বাধাগ্রস্ত হয় এবং শরীরে অক্সিজেনের সরবরাহ কমে যায়। দীর্ঘদিন চিকিৎসা না হলে হৃদ্রোগ, উচ্চ রক্তচাপ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
৪. মেজাজের অস্বাভাবিক পরিবর্তন
হঠাৎ করে অতিরিক্ত রাগ, বিরক্তি, মন খারাপ বা কোনও কাজের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলা মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। কর্মক্ষেত্রের চাপ, উদ্বেগ, বিষণ্ণতা কিংবা হরমোনজনিত কারণেও এমন পরিবর্তন দেখা যায়। দীর্ঘ সময় ধরে এই ধরনের উপসর্গ থাকলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
৫. দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি
পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরও যদি সারাক্ষণ ক্লান্ত লাগে, শক্তি কমে যায় বা স্বাভাবিক কাজ করতেও অসুবিধা হয়, তাহলে সেটি শুধুমাত্র পরিশ্রমের ফল নয়। রক্তস্বল্পতা, থাইরয়েডের সমস্যা, ডায়াবেটিস, হৃদ্রোগ বা ঘুমের ব্যাঘাতের মতো নানা কারণ এর নেপথ্যে থাকতে পারে। তাই দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তিকে কখনও হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়।
সচেতন থাকুন, সুস্থ থাকুন
স্বাস্থ্য সমস্যা যত দ্রুত ধরা পড়ে, চিকিৎসার সাফল্যের সম্ভাবনাও তত বেশি থাকে। তাই শরীরের অস্বাভাবিক পরিবর্তন বা দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা কোনও উপসর্গকে অবহেলা না করে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। নিজের যত্ন নেওয়াও পরিবারের দায়িত্ব পালনেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
Sumi has been waiting lifestyle, vastu Tips since 2026.