ঘুম থেকে ওঠার পর শরীরে কিছু অস্বাভাবিক পরিবর্তন অনেকেই গুরুত্ব দেন না। মুখ একটু ফুলে থাকা, কোমরে ব্যথা, বমি ভাব বা প্রস্রাবে পরিবর্তন— এগুলোকে অনেক সময় সাধারণ শারীরিক সমস্যা বলেই মনে হয়। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এমন কিছু উপসর্গ কখনও কখনও কিডনির সমস্যার প্রাথমিক ইঙ্গিত হতে পারে।
কিডনি শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। রক্ত থেকে বর্জ্য ও অতিরিক্ত জল ছেঁকে মূত্র তৈরি করাই এর প্রধান কাজ। সেই প্রক্রিয়ায় শরীরের দূষিত পদার্থ বেরিয়ে যায়। কিন্তু কিডনি ঠিকমতো কাজ না করলে শরীরে নানা ধরনের জটিলতা তৈরি হতে পারে। সমস্যা হল, কিডনির অসুখ অনেক সময় নীরবে বাড়ে। শুরুতে স্পষ্ট লক্ষণ ধরা পড়ে না বলেই অনেকেই সতর্ক হন না।
সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর কিছু উপসর্গ বারবার দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

১) মুখ ও চোখ ফুলে যাওয়া
অনেকেরই সকালে মুখ কিছুটা ফোলা দেখায়। তবে যদি প্রায় প্রতিদিনই চোখের পাতা, মুখ, হাত বা পা ফুলে থাকে, তা হলে সতর্ক হওয়া দরকার। কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেলে শরীরে অতিরিক্ত সোডিয়াম ও জল জমতে শুরু করে। ফলে শরীরের বিভিন্ন অংশে ফোলাভাব দেখা দিতে পারে।
২) সকালে বমি ভাব
খালি পেটে অস্বস্তি বা বমি ভাবকে অনেকেই গ্যাস-অম্বলের সমস্যা বলে এড়িয়ে যান। কিন্তু কিডনি ঠিকভাবে কাজ না করলে শরীরে ইউরিয়ার মতো বর্জ্য পদার্থ জমে যেতে পারে। তার প্রভাবেই সকালে বমি ভাব, অরুচি বা পেট ভার লাগার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
৩) প্রস্রাবে অস্বাভাবিক পরিবর্তন
প্রস্রাবের রং, গন্ধ বা স্বাভাবিকতার পরিবর্তন কিডনির সমস্যার গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হতে পারে। প্রস্রাবে অতিরিক্ত ফেনা হওয়া, রং গাঢ় হলুদ হয়ে যাওয়া বা রক্ত মেশা— কোনওটিই স্বাভাবিক নয়। বিশেষ করে বেশি জল খাওয়ার পরেও যদি বারবার ফেনাযুক্ত প্রস্রাব হয়, তবে তা কিডনির ছাঁকনি ব্যবস্থার সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। কখনও প্রস্রাবে জ্বালাভাব থাকলে মূত্রনালির সংক্রমণের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
৪) কোমরের নীচের অংশে ব্যথা
সাধারণ পেশির টান বা ভুল ভঙ্গিতে শোয়ার কারণেও কোমরে ব্যথা হতে পারে। তবে যদি পেটের পাশ থেকে কোমরের নীচের অংশ পর্যন্ত দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা অনুভূত হয়, তা হলে কিডনির সমস্যার সম্ভাবনাও থাকতে পারে। কিডনিতে পাথর তৈরি হলেও একই ধরনের ব্যথা দেখা দেয়।
৫) ত্বক শুষ্ক হওয়া ও চুলকানি
কিডনি শরীরের বর্জ্য পদার্থ বের করে দিতে না পারলে তার প্রভাব ত্বকেও পড়তে পারে। ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যাওয়া, চুলকানি বা রুক্ষ ভাব দেখা দেওয়া অনেক সময় কিডনির সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, এই ধরনের উপসর্গ দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে অবহেলা না করে দ্রুত পরীক্ষা করানো প্রয়োজন। কারণ, প্রাথমিক পর্যায়ে কিডনির সমস্যা ধরা পড়লে চিকিৎসার মাধ্যমে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
Sumi has been waiting lifestyle, vastu Tips since 2026.